প্রতিবেদন

মংলাবন্দরের উন্নয়নে বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার : কমোডর একেএম ফারুক হাসান

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকার দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মংলাবন্দরের উন্নয়নে একটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এই বৃহৎ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে, বন্দরের কাছে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ এবং মংলা থেকে নেপাল ও ভুটান হয়ে ভারতের কলকাতা পর্যন্ত রেললাইন এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক নির্মাণ।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার মতা গ্রহণের পর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ফলে গত সাড়ে ৯ বছরে বিদেশি জাহাজ ভেড়া, পণ্য পরিবহন ও আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধির প্রেেিত মংলা একটি লাভজনক ও ব্যস্ত বন্দরে পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে সাপ্তাহিক স্বদেশ খবরের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় মংলাবন্দর কর্তৃপরে চেয়ারম্যান কমোডর একেএম ফারুক হাসান বলেন, গত সাড়ে ৯ বছরে ১০ কোটি টাকার উন্নয়ন কার্যক্রম গৃহীত হয়েছে। মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ শেষের পথে। তিনি বলেন, আমরা সম্প্রতি ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করেছি। তৃতীয় লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি)-এর আওতায় আগামী অর্থবছরে ভারত সরকার এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৬ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা দেবে।’ তিনি আরো বলেন, মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ শেষ হলে এখানে অন্তত ২৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মংলাবন্দর কর্তৃপরে চেয়ারম্যান কমোডর একেএম ফারুক হাসান জানান, দুটি সমস্যা থেকে মংলাবন্দরকে বের করে আনার চেষ্টা চলছে। এর একটি হলো সমুদ্র থেকে জেটিতে জাহাজ চলাচলের চ্যানেলে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং অন্যটি শুল্কায়নের জটিলতার অবসান। বন্দরের জেটিমুখী চ্যানেলে ডুবে থাকা বিপুলসংখ্যক জাহাজ নাব্যতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। যে সংকট কাটাতে ডুবে যাওয়া জাহাজগুলো অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বন্দরের কার্যমতা বাড়াতে নেয়া হচ্ছে নানামুখী পদপে। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামের ওপর আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের চাপ থাকে বছরজুড়ে। এ চাপ কমাতে মংলাবন্দর কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হওয়ার দাবি রাখে।
কমোডর একেএম ফারুক হাসান জানান, পদ্মাসেতু চালু হলে সড়কপথে রাজধানী ঢাকার সবচেয়ে কাছাকাছি সমুদ্রবন্দরে পরিণত হবে মংলাবন্দর। তখন এ বন্দর দিয়ে আমদানি ও রপ্তানি খরচ চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ে তুলনামূলকভাবে কমে যাবে। সঙ্গতকারণেই ব্যবসায়ীরা অর্থ সাশ্রয়ে এ বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠবেন। সে চাপ সামলাতে বন্দর উন্নয়নে নানামুখী প্রস্তুতি চলছে। মংলায় বহির্নোঙর থেকে জেটি পর্যন্ত ১৩১ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে প্রায় ১৭টি ডুবোজাহাজ বা র‌্যাক। এর মধ্যে পাঁচটি বেশি বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মংলাবন্দরকে পরিপূর্ণভাবে ব্যবহার উপযোগী করতে ডুবোজাহাজ অপসারণে পদপে নেয়া হচ্ছে। বর্তমানে বন্দরের পাঁচটি জেটির কার্যমতার অর্ধেক ব্যবহৃত হচ্ছে। বাকি অর্ধেক এখনো অব্যবহৃত থাকছে। আগামী দিনের চাপের কথা চিন্তা করে পাঁচটি জেটির সম্পূর্ণ ব্যবহার এবং আরও চারটি নতুন জেটি ও দুটি ইয়ার্ড নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নাব্যতা নিশ্চিত করতে পশুর চ্যানেলে ক্যাপিটাল ড্রেজিং করা হলেও সাড়ে ৭ থেকে ৮ মিটারের বেশি ড্রাফটের জাহাজ বন্দরে আনা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আরও বেশি ড্রাফটের জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে আরও ৭৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেজিং প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। আশা করা যায় এসব উদ্যোগ মংলাবন্দরের সমতা বাড়াবে। দেশের ভবিষ্যতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে এ বন্দর বাড়তি ভূমিকা রাখতে সম হবে। মংলাবন্দরের ওপর ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে শুল্কায়নের জটিলতা অবসানেও নেয়া হচ্ছে উদ্যোগ।
কমোডর একেএম ফারুক হাসান জানান, বাংলাদেশের দণি-পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ ও সমৃদ্ধির যে ভাবনা বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের মধ্যে বর্তমানে বিরাজ করছে, তার মূলে আছে মংলা আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দরের সম্প্রসারণ ও এ বন্দরকে ঘিরে প্রবৃদ্ধির গতিপ্রকৃতির ধারা অব্যাহত রাখার উদ্যোগ। পদ্মাসেতু নির্মাণের মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন ও মংলাবন্দরের সঙ্গে ঢাকার সংযোগ নিবিড় হলে অর্থনৈতিক ভুবনে দণি-পশ্চিমাঞ্চলের আমূল পরিবর্তন হবে এবং খান জাহান আলী বিমানবন্দরের কাজ সমাপ্ত হলে এ অঞ্চল হবে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে অবদানকারী এক বিশেষ অঞ্চল।
মংলাবন্দর কর্তৃপরে চেয়ারম্যান কমোডর একেএম ফারুক হাসান স্বদেশ খবরকে জানান, মংলাবন্দর প্রায় ৯৫০ হেক্টর জমির ওপর অবস্থিত ও মংলা নদীর ৯০ ভাগ জলসীমা এ বন্দর দখল করে আছে। বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর খুলনার সঙ্গে সড়কপথে এ বন্দরের সংযোগ ও দূরত্ব প্রায় ৪৮ কিলোমিটার। রূপসা নদীর ওপর পুল নির্মাণের ফলে এ পথে ফেরি সার্ভিসের বিড়ম্বনা থেকে চলাচলের পথ সুগম হয়েছে। কিন্তু রেললাইন না থাকার ফলে পণ্য পরিবহনে খরচ বেশি হচ্ছে। তবে মাওয়া হয়ে পদ্মাসেতুর সঙ্গে মংলাবন্দরের রেললাইন সংযোগ হলে ভবিষ্যতে ভিন্ন চিত্র দেখা যাবে। এ ল্েয রেল লাইনের মাটি ভরাটের কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে।
বর্তমানে বন্দর কর্তৃপ প্রায় ৪৬০ হেক্টর জমির ওপর ইপিজেড ও বিভিন্ন রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং তাদের অবকাঠামো নির্মাণ করেছে। এছাড়া আছে চারটি সিমেন্ট কারখানা (কিংকার বিচূর্ণকরণ), দুটি এলপিজি বোতলজাতকরণ কারখানা ও একটি পেট্রোলিয়াম টার্মিনাল কাজ করছে এবং প্রত্যেকের নিজস্ব জেটি ও কার্গো হ্যাডলিংয়ের সুবিধা আছে। মংলাবন্দরকে প্রথম থেকেই বাল্ক কার্গো বা ভারী পণ্য পরিবহনের উদ্দেশেই ব্যবহার করা হয় এবং প্রধানত পাট রপ্তানিই ছিল এ বন্দরের প্রধান কাজ। বর্তমানে পাট রপ্তানি হ্রাসের ফলে বন্দরের কর্মপরিধি কিছুটা কমেছে, তবে এ বন্দর দিয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে চিংড়ি মাছ রপ্তানি।
কমোডর একেএম ফারুক হাসান জানান, ভবিষ্যতে এ বন্দরকে অর্থবহ করার ল্েয কয়েকটি ত্রেকে বিবেচনা করা হচ্ছে। যেমন আন্তর্জাতিক মেরিটাইম আদালতের মামলায় বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্রসীমা প্রাপ্তির ফলে ব্লু ইকোনমির যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তার সদ্ব্যবহার করার জন্য মংলাবন্দরের কর্মকা- সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশে এসে ২৪ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার সাহায্য প্রদানের যে ঋণ চুক্তি ও সহযোগিতা স্মারক স্বার করেছেন, তাতে বিশাল বিনিয়োগের ত্রে প্রস্তুত হয়েছে।
সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর হলে তার সংযোগ ও সুফল পাবে মংলাবন্দর। এছাড়া পায়রা পাওয়ার প্ল্যান্ট ও পদ্মাসেতুর ওপর দিয়ে রেললাইন স্থাপনের ফলে মংলাবন্দরের সঙ্গে কর্মকা- অবশ্যই বাড়বে এবং দণি-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে গতিসঞ্চার হবে, প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে এ অঞ্চলের অর্থনীতি। এমন একটি ধারণা সমগ্র জনগণের মাঝে বিরাজ করছে এবং সরকার এ ল্েয কাজ করে যাচ্ছে।
পদ্মাসেতুর ওপর যে রেললাইন নির্মাণ করা হবে, তার ফলে মংলাবন্দরের ব্যবহার বৃদ্ধিসহ দণি-পশ্চিমাঞ্চলের বাণিজ্য ও পরিবহন চলাচলে অনেক বেশি অবদান রাখতে পারে বলে অর্থনীতিবিদদের সমীায় উঠে এসেছে। প্রধানত চারটি েেত্র মংলাবন্দরের কর্মকা- আরো বাড়তে পারে বলে জানান মংলাবন্দর কর্তৃপরে চেয়ারম্যান কমোডর একেএম ফারুক হাসান। যেমন খুলনা ও রাজশাহীগামী পরিবহন ও যানবাহন মংলাবন্দর থেকে পদ্মাসেতু ব্যবহার করে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় যেতে পারে। যারা এখন চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে, এ পথ হবে তাদের জন্য অনেক সহজ এবং ভালো বিকল্প ব্যবস্থা। পদ্মাসেতু নির্মাণ হলে ঢাকা থেকে ট্রাক ও লরি সরাসরি চলে যাবে মংলাবন্দরে। বর্তমানে ঢাকা ও মংলার মধ্যে যে সড়কপথ আছে, তার অবস্থা ভালো, কিন্তু ভারী যানবাহন চলাচল শুরু করলে অনেক বিনিয়োগ ও সংস্কারের প্রয়োজন হতে পারে। আর সে লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার। পদ্মাসেতু চালু হলে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান মংলা ও খুলনা অঞ্চলে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত বা রি-লোকেশন হতে পারে, যারা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মংলাবন্দরের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে। তবে মংলাবন্দর কর্তৃপরে চেয়ারম্যান কমোডর একেএম ফারুক হাসান জানান, এই বন্দর উন্নয়নে কিছু চ্যালেঞ্জও আছে। চ্যালেঞ্জের ত্রেগুলো হলো : বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জলপথে ঢাকার পানগাঁও কনটেইনার আসা-যাওয়া ভালোভাবে শুরু হলে মংলাবন্দর পদ্মাসেতু হওয়ার কারণে যে সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা অনুমান করা যাচ্ছে, তার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে। তাছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সিঙ্গাপুরে প্রতিদিন যে শিপিং সার্ভিস আছে এবং কলম্বো ও অন্যান্য বন্দরের সঙ্গে যে সার্ভিস আছে, তা মংলাবন্দরে নেইÑ এই বিষয়টিরও উন্নয়ন ঘটাতে হবে। মংলাবন্দর থেকে সিঙ্গাপুরের কনটেইনার সার্ভিস আছে প্রতি ১৫ দিনে একবার। এছাড়া আইসিডির সুবিধা বাড়াতে হবে মংলাবন্দরকে। তবে মংলাবন্দরে কনটেইনার খালাসে গড়ে ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে না। মংলাবন্দর ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে।
চট্টগ্রাম জেটি থেকে বঙ্গোপসাগর মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে, কিন্তু মংলা থেকে অনেক বেশি। চট্টগ্রামে নদীর গভীরতা বেশি, যা ৯ দশমিক ১৫ মিটার অবধি জাহাজকে বার্থিং সুবিধা দিতে পারে; কিন্তু মংলা মাত্র ৬ মিটার গভীরতাসম্পন্ন জাহাজকে বার্থিং সুবিধা দিতে পারে। ফলে ১ হাজার ২০০ টিইইউএস সম্পন্ন জাহাজকে বার্থিং দিতে মংলাবন্দর সম হয় না। প্রাকৃতিক কারণে তার এ অপারগতা হলেও সরকার ১ হাজার ২০০ টিইইউএস সম্পন্ন জাহাজকে বার্থিং সুবিধা দিতে সাধ্যমত চেষ্টা করছে। এছাড়া মংলাবন্দরকে অর্থনৈতিকভাবে অধিকতর আকর্ষণীয় করতে হলে বন্দরের সমতা বাড়াতে হবে। ড্রেজিং বাবদ ব্যয় কমাতে হবে এবং পোর্টের সুবিধা বাড়াতে হবে। এখন প্রায় ৩৩টি জাহাজ একসঙ্গে বার্থিং বা খালাসের জন্য সুযোগ দিতে পারে এবং ২২৫ মিটার দীর্ঘ জাহাজও ঢুকতে পারে। মোট ১১টি জেটি, ৮টি ওয়্যারহাউজ ও ১২টি সুইং মুরিং এলাকায় জাহাজ অবস্থান নিতে পারে। কিন্তু সমতা আরো অনেক বাড়াতে না পারলে আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্রবন্দর হিসেবে চিহ্নিত হতে পারবে না। তাই এই বন্দরের সক্ষমতা দ্রুতই আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে মংলাবন্দর কর্তৃপক্ষ বর্তমান সরকারের সহায়তায় চাচ্ছে।
জানা যায়, সাম্প্রতিককালে মংলাবন্দরের সমতা অনেক বেড়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ বন্দরে ৬৩৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ আসে, আর ৭৫ লাখ ১৩ হাজার ৭২৭ টন কার্গো হ্যান্ডল করা হয়। এছাড়া ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪৮২টি জাহাজ এ বন্দরে আসে এবং কার্গো হ্যান্ডলিং হয় ৫৭ লাখ ৯৭ হাজার ৪২১ টন। এ হিসাবে পাঁচ বছরের ব্যবধানে বন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। এছাড়া সম্প্রতি নতুনভাবে ৩০টি ক্রেনসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরনো ক্রেন দিয়ে বন্দর তার কার্যক্রম পরিচালনা করছিল, যাতে বন্দরের দতা নিয়ে প্রশ্ন আসে। এছাড়া ২০১৭ সালে বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি স্ট্যাডেল ক্যারিয়ার, ছয়টি ফর্কলিফট ট্রাক, দুটি টার্মিনাল ট্রাক্টর ও দুটি কনটেইনার ট্রেইলার সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে লণীয় যে, মংলাবন্দর এলাকায় কোনো উন্নতমানের আবাসিক তিনতারা হোটেল নেই, ভালো কোনো রেস্টুরেন্ট নেই, যা একটি বন্দরের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করা থেকে পিছিয়ে রাখছে।
মংলাবন্দর কর্তৃপরে চেয়ারম্যান কমোডর একেএম ফারুক হাসান জানান, বর্তমানে মংলাবন্দরকে আধুনিক করার ল্েয অনেক উন্নয়ন ও বন্দরের দতা বৃদ্ধির কাজ নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় হাতে নিয়েছে। বন্দরের সমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বন্দর এলাকাকে আকর্ষণীয় করার কাজও চলছে। মংলাবন্দরকে ঘিরে বাংলাদেশের দণি-পশ্চিমাঞ্চলের অগ্রগতি বহুলাংশে নির্ভর করছে। তাই খান জাহান আলী বিমানবন্দর, পদ্মাসেতুর ওপর রেললাইনের মাধ্যমে মংলাবন্দরকে সংযোগ করা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রপাতি সংগ্রহের মাধ্যমে মংলাবন্দরের সমতা বাড়াতে পারলে শিল্পায়ন ও বাণিজ্যিক অঙ্গনে এক নতুন যুগের সূচনা হবে। ফলে দেশের প্রবৃদ্ধির ল্য অর্জন ও বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে রূপায়ণে সম্ভব হবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন ল্য অর্জনের পথে সাফল্য আসবে।