প্রতিবেদন

শহীদ শান্তিরক্ষী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশরাফ সিদ্দিকীর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

নিজস্ব প্রতিবেদক : দণি সুদানে শান্তিরা মিশনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর শহীদ শান্তিরী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশরাফ সিদ্দিকীকে ২ জুলাই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকার বনানীস্থ সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এর আগে তার মরদেহ ঢাকায় এসে পৌঁছে। পরে তার নামাজে জানাযা ঢাকা সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত হয়। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধান জানাযা শেষে শহীদের মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ও বিভিন্ন পদবির সামরিক ও বেসামরিক সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশরাফের অকাল মৃত্যুতে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন আহমেদ গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে নৌপ্রধান বলেন, শহীদ লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশরাফ তার কর্মজীবনে যে অনন্য অবদান রেখেছেন, তা সকল নৌসদস্যদের জন্য অনুকরণীয় ও স¥রণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তার এই মহান আত্মত্যাগ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় নৌবাহিনী তথা বাংলাদেশের জন্য মর্যাদা ও গৌরব বয়ে এনেছে।
পরে মরহুম লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশরাফ সিদ্দিকীর মরদেহ বনানী সামরিক কবরস্থানে নিয়ে আসা হয়। এসময় তাঁর হাজারো সহকর্মী অশ্রুসজল চোখে জাতীয় এই বীরকে শেষ বিদায় জানান এবং শহীদের সম্মানে ১২ বার ফাঁকা গুলি বর্ষণ করা হয়। দাফন শেষে নৌপ্রধান শহীদ কর্মকর্তার স্ত্রীর হাতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও জাতিসংঘের পতাকা, ক্যাপ, সম্মানসূচক সোর্ড ও মেডেল তুলে দেন।
শহীদ লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশরাফ সিদ্দিকী দণি সুদানের জুবা শহরে আনমিস সদর দপ্তরে মিলিটারি লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি গত ২৬ জুন ২০১৮ শান্তিরা মিশনের একটি গাড়ি বহরের নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে নেপালিজ ফোর্স প্রটেকশন টিমের সঙ্গে ইয়েই শহর হতে লাসু শহরের উদ্দেশে গমন করেন। গাড়ি বহরটি দেশটির কেন্দ্রীয় ইকুয়টোরিয়া প্রদেশে ত্রাণ সরবরাহের কাজে নিয়োজিত ছিল। লাসু শহরের উদ্দেশে গমনকালে ক্যাম্প সাইট হতে ১০ কিমি অদূরে তিনি অজ্ঞাত বন্দুকধারীর হাতে অ্যামবুশের শিকার হয়ে পিঠে গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে লাসু হতে ইয়েই এয়ারপোর্টে নিয়ে আসার পথেই তার মৃত্যু হয়।
জাতিসংঘের গর্বিত সদস্য হিসেবে তার এই অসামান্য অবদানকে কৃতজ্ঞচিত্তে স¥রণ করতে জাতিসংঘ মহাসচিবের পে বিশেষ প্রতিনিধি এবং দণি সুদানে নিয়োজিত শান্তিরা মিশনের প্রধান শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শহীদ লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশরাফ সিদ্দিকী স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। তিনি ১৯৭৮ সালের ১ অক্টোবর কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুরের জোদ্দারপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০০৬ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে সরাসরি কমিশন্ড অফিসার হিসেবে যোগদান করেন।