প্রতিবেদন

সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : ২০৪১ সালের কর্মপরিকল্পনায় আমলাদের চিন্তা-ভাবনা সন্নিবেশের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক : ৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প থেকে সংশ্লিষ্ট সচিববৃন্দ বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিতে স্বার করেন এবং পরে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের সচিব এই চুক্তির একটি করে কপি প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন। বাংলাদেশে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রথম বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বা এপিএ প্রবর্তন করা হয়। এবার পঞ্চম বছরের মতো এ চুক্তি স্বার হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট অর্থবছর সমাপ্ত হওয়ার পর ওই বছরের চুক্তিতে নির্ধারিত ল্যমাত্রাসমূহের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের প্রকৃত অর্জন মূল্যায়ন করা হবে। এসময় ২০১৬-১৭ বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ায় বাস্তবায়ন পরিবীণ ও মূল্যায়ন বিভাগ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়কে সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
এবারই প্রথম অনুষ্ঠানে সিনিয়র সচিব ও সচিব পর্যায়ে শুদ্ধাচার পুরস্কার ২০১৭-১৮ প্রদান করা হয়। বাস্তবায়ন পরিবীণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব মো. মফিজুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম, মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সংস্কার ও উন্নয়ন) এনএম জিয়াউল আলম, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব মো. মফিজুল ইসলাম অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সচিববৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরের প্রধানগণ, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারি কর্মচারীদের কাছে মাঠ পর্যায়ে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা এবং চিন্তা-ভাবনা কর্মপরিকল্পনায় সন্নিবেশের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘২০২১ থেকে ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা কেমন বাংলাদেশ দেখতে চাই তা বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন ইতোমধ্যে শুরু করেছি। মাঠ পর্যায়ে কর্মরত আপনাদের সেখানে কোনো পরিকল্পনা ও অভিজ্ঞতা যোগ করার থাকলে আপনারা তা করতে পারেন।’
প্রধানমন্ত্রী এসময় সরকারি কর্মচারীদের সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সরকারের প্রদত্ত বাজেট বাস্তবায়নে কাজ করার আহবান জানিয়ে বলেন, আপনাদের কর্মোদ্দীপনার ওপরই জাতির উন্নয়ন নির্ভরশীল। দেশের উন্নয়নের জন্য কাজের গতি ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমরা রাজনীতিবিদেরা শুধু উন্নয়নের পথ দেখাতে পারি কিন্তুু এই কাজের বাস্তবায়নের দায়িত্ব আপনাদের ওপরই বর্তায়। প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সুষ্ঠুভাবে কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তায়নের মাধ্যমে রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের পাশাপাশি এসডিজি ল্যমাত্রাও অর্জন করা সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, ‘মাঠে কাজ করতে গেলে অনেক নতুন কিছু চোখে পড়ে। কাজেই আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পরবর্তী ধাপটা কি হবে-২০৪১ সালে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হলে আমাদের কোথায় কি করণীয় এ ব্যাপারে যে ধারণাগুলো পাবেন, অন্তত সেটুকু আপনারা দিতে পারেন, যাতে করে আমরা আগামী দিনের পরিকল্পনায় সেটা নিয়ে নিতে পারি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যদি একটা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা আমাদের থাকে, একটি সুনির্দিষ্ট ল্য আমাদের থাকে তখন যে-ই মতায় থাকুক না কেন সেটার বাস্তবায়ন অবশ্যই করতে পারবে এবং করবে বলেই আমি বিশ্বাস করি।’ আর সেই ল্য নিয়েই তাঁর সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি সরকারি কর্মচারীদের কর্মেেত্র তাদের চিন্তা-ভাবনাগুলো সমন্বয় করে দেয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, ‘তাহলে ২০৪১ সালের ল্য অর্জনেও সেটা অনেক কাজে আসবে বলে আমি মনে করি।’
শেখ হাসিনা বলেন, সরকারি কর্মকা-ে দতা বৃদ্ধি ও গতিশীলতা আনয়ন, সেবার মানোন্নয়ন এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা বৃদ্ধির ল্েযই তাঁর সরকার ফলাফলভিত্তিক সরকারি কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি বা জিপিএমএস চালু করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) মূলত তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিবের মধ্যে স্বারিত একটি সমঝোতা দলিল। একইভাবে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিবগণ সংযুক্ত দপ্তর বা সংস্থাসমূহের সঙ্গে এবং দপ্তর বা সংস্থাসমূহের প্রধানগণ মাঠ পর্যায়ের সঙ্গে চুক্তি স্বার করেন। এই চুক্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কৌশলগত উদ্দেশ্যসমূহ, এ সকল ল্য অর্জনের জন্য গৃহীত কার্যক্রমসমূহ এবং এ কার্যক্রমের ফলাফল পরিমাপের জন্য কর্মসম্পাদন সূচক ও ল্যমাত্রাসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে এসডিজিস ইমপ্লিমেন্টেশন রিভিউ কনফারেন্স-২০১৮-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এসডিজিস ইমপ্লিমেন্টেশন রিভিউ কনফারেন্স-২০১৮ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, এই কনফারেন্সের সঙ্গে আমাদের নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা, এর বাইরে আমাদের নিজেদের দেশের জন্য কী করণীয় সেটাও সঙ্গে সঙ্গে আপনারা মূল্যায়ন করবেন। যাতে আগামী দিনের পরিকল্পনায় সেটাকে সম্পৃক্ত করে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন করা যায়। তিনি বলেন, আমার পরিষ্কার কথাÑ প্রত্যেকটি গ্রাম হবে এক একটি শহরের মতো, প্রত্যেকটি গ্রামের মানুষ যেন সকল নাগরিক সুবিধা পায়Ñ সেটা আমরা নিশ্চিত করবো। প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, একটি মানুষও সেখানে অশিতি থাকবে না, একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না, একটি মানুষও ুধায় কষ্ট পাবে না বা স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত হবে না। প্রতিটি মানুষ উন্নত জীবন পাবে। আমরা চাই দেশ এগিয়ে যাক এবং এমডিজি বাস্তবায়নে যেমন দতা দেখিয়েছি আশা করি এসডিজি বাস্তবায়নেও তেমন দতা দেখাতে পারবো। কারণ আমাদের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং প্রেতি পরিকল্পনাগুলো একে অপরের পরিপূরক। এর বাইরে দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য দেশের মানুষের জন্য যেসব পরিকল্পনা তাঁর সরকার নিয়েছে সেগুলোও বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাহলেই আমরা ুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তোলার ল্য অর্জন করতে পারবো। আর সুনির্দিষ্ট ল্য অর্জনে সফলকাম হওয়ায় জন্য কর্মেেত্র বিশ্বাস ও আস্থা বজায় রেখে কাজ করাটা জরুরি বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে সকল বাধা ও ষড়যন্ত্র উপো করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণে তাঁর সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরেন।