কলাম

স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ায় জনমনে স্বস্তি

সম্প্রতি চট্টগ্রামে বেসরকারি কিনিক ও হাসপাতালগুলোতে ধর্মঘট ডাকার বিষয়ে হাইকোর্ট বলেছেন, চিকিৎসকরা দেবতা নন। ভুল হতে পারে। কিন্তু সেই ভুলটাকে জাস্টিফাই করতে জনভোগান্তিমূলক এ ধরনের কর্মসূচি ডাকা অন্যায়। মানুষ বিপদে পড়লে চিকিৎসক, আইনজীবী ও পুলিশের কাছে যায়। কিন্তু কতিপয় দুর্বৃত্তের কারণে যদি চিকিৎসা পেশার সুনাম নষ্ট হয় তাহলে বিপদে পড়ে সাধারণ মানুষ; পাশাপাশি চিকিৎসা পেশার ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়। ৯ জুলাই বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ ও চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন মো. খায়রুল আলম। চু শিবিরে গিয়ে চোখ হারালেন ২০ জন! এ সংক্রান্ত মামলার তলব আদেশে তারা আদালতে হাজির ছিলেন। শুনানির এক পর্যায়ে একটি জাতীয় দৈনিকে চট্টগ্রামের বেসরকারি কিনিক ও হাসপাতালগুলোর ধর্মঘট নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের উদ্দেশে হাইকোর্ট বলেন, এসব কিনিক ও হাসপাতাল সম্পর্কে জনগণের ধারণা ভালো নয়। অনিয়ম রোধে র‌্যাব অভিযান চালিয়েছে, কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কী করছে? তাদের কি কোনো ভূমিকা নেই? আদালত বলেন, যদি কোনো চিকিৎসক ভুল করে এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় সেেেত্র ধর্মঘট ডাকা অনৈতিক। চিকিৎসাসেবায় অবহেলার প্রমাণ পেলে যথাযথ শাস্তি হওয়া উচিত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, আমরা আদালতের সঙ্গে একমত। চট্টগ্রামে ইতোমধ্যে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রসঙ্গত গত ২৯ জুন দৈনিক সমকালের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুবেল খানের আড়াই বছরের মেয়ে রাইফার মৃত্যু হয়। গলায় ব্যথা নিয়ে আগের দিন চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল সে। পরে ভুল চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের প থেকে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনার পরে ম্যাক্স হাসপাতালে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে র‌্যাব। পরবর্তী সময়ে নগরীর বেসরকারি কিনিক ও হাসপাতাল ধর্মঘট পালন করে। প্রসঙ্গত গত মার্চ মাসে চুয়াডাঙ্গায় ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের চু শিবিরের অস্ত্রোপচারে ২০ জনের চোখ হারানোর ঘটনায় গত ১ এপ্রিল রুল জারি করেন আদালত। রুলে তিগ্রস্তদের প্রত্যেককে ১ কোটি টাকা করে মোট ২০ কোটি টাকা তিপূরণ প্রদানের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। ওই রুলের শুনানিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন হাজির হন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট কী কারণে এসব ব্যক্তির চোখ নষ্ট হয়েছে সেটা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। আদালতের মতো আমরাও মনে করি, চিকিৎসার মতো মহান পেশায় নিয়োজিত চিকিৎসকরা তাদের পেশার প্রতি আরো আন্তরিক হবেন। কথায় কথায় হরতাল-ধর্মঘট ডাকা কোনো কাজের কথা নয়। চিকিৎসকদের অভাব-অভিযোগ থাকলে তারা সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে তা সরকারকে জানাতে পারেন। কিন্তু সে পথে না গিয়ে রোগীদের জিম্মি করে একেবারে ধর্মঘটে চলে যাওয়া পেশার প্রতি অবমাননা ছাড়া আর কিছুই নয়।