প্রতিবেদন

হজ কার্যক্রম ২০১৮-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : ইসলামের শিাকে জাতীয় জীবনে সমুন্নত রাখার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইসলামের শিক্ষাকে জাতীয় জীবনে সমুন্নত রাখার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১১ জুলাই চলতি বছরের হজ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইসলাম ধর্মের নামে বিভ্রান্তি ছড়ানোর ঘটনায় আপেও প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। রাজধানীর আশকোনায় হজক্যাম্পের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ইসলাম শান্তিতে বিশ্বাস করে। ইসলাম ধর্মেই মানুষের অধিকারের কথা, মানুষের জীবন মানোন্নয়নের কথা বারবার বলা হয়েছে অথচ মাঝে মাঝে আমরা যেটা দেখি; আমাদের ধর্মকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে কিছু কিছু মানুষ এই ধর্মের নাম নিয়ে যখন কোনো সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে তখন সারা বিশ্বের কাছে আমাদের এই ধর্ম প্রশ্নবিদ্ধ হয়। শুধু প্রশ্নবিদ্ধই হয় না আমরা মুসলমানরা বাইরে গেলে অনেক সময় অনেক সমস্যাও ভোগ করতে হয়। অথচ পবিত্র ইসলাম ধর্মই হচ্ছে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ধর্ম। ইসলাম ধর্মেই আছে সকল ধর্মের মানুষ তার নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে স্বাধীনভাবে।
ধর্মের নামে বিভিন্ন সময়ে সংঘাত সৃষ্টির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারপরও কিছু কিছু মানুষের জন্য এই সংঘাত লেগে থাকা আর সমস্যা সৃষ্টি করা বা আমাদের ধর্মকে অবমাননা করাÑ এই অধিকার কারও নেই। এই ধর্ম সবসময় উচ্চ আসনে যাতে থাকে, সেই ব্যবস্থাই করতে হবে। প্রতিটি জেলা-উপজেলায় একটি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। এই প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকা। গত ৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী এ রকম ৯টি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আরও ১০০টি মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হবে এবং অবশিষ্ট ৪৫১টি মডেল মসজিদ নির্মাণের কাজ ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু করা হবে। এসব মসজিদ নির্মিত হলে ৩১ হাজার ৪০০ জন নারীসহ প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে মডেল মসজিদের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাচ্ছি ইসলাম ধর্ম নিয়ে যেন কোনো বিভ্রান্তি না ছড়ানো হয়। ইসলাম ধর্মের সঠিক অর্থগুলো যাতে মানুষ জানতে পারে, এটা করা। ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে যাতে কোনো বিভ্রান্তি না হয়, সেই শিাই দেয়া। সৌদি আরবের সঙ্গে হজ চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে এবার ১ লাখ ২৬ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে পারবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬ হাজার ৭৯৮ এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২০ হাজার জনের হজ করার সুযোগ আছে। চাঁদ দেখা সাপেে আগামী ২১ আগস্ট হজ হতে পারে।
আগামী ১৪ জুলাই শুরু হয়ে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে হজ ফাইট। বাংলাদেশ বিমান ১৮৭টি ফাইটে ৬৪ হাজার ৯৬৭ জন এবং সাউদিয়া ১৮৮টি ফাইটে ৬১ হাজার ৮৩১ হজযাত্রী পরিবহন করবে। ২৭ আগস্ট হজের ফিরতি ফাইট শুরু হয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর তা শেষ হবে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতেই হজযাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, প্রতি বছর অপোয় থাকি, যারা হজে যাবেন, তাদের সঙ্গে দেখা হবে আর দোয়াও চাইব।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাবা-মা, ভাইসহ পরিবারের নিকটাত্মীয়দের হারানোর কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে বলেন, আমার বাবা-মা; তাদের জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন তাদের বেহেশত নসিব করেন। ‘পিতা-মাতা, ভাই সব হারিয়েছি। জনগণের সেবার ব্রত নিয়ে কাজ করছি। আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। আমরা সাধ্য মতো চেষ্টা করে যাচ্ছি।’ হজযাত্রীদের কাছে দোয়া চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দোয়া করবেন; যেন আপনাদের খেদমত করতে পারি।’
২০০৯ সালে হজ উইংয়ের অফিস জেদ্দা থেকে মক্কায় বাংলাদেশ হজ মিশনে স্থানান্তর করার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে হজ মৌসুমে হজের কার্যক্রম হজ অফিস, মক্কা থেকে পরিচালিত হয়। আমাদের এ সিদ্ধান্তের ফলে গত ৯ বছরে হজ ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের সেবা প্রদান অনেক সহজতর ও উন্নততর হয়েছে এবং দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসা লাভ করেছে। হজ বিষয়ক ওয়েব পোর্টাল এবং হজযাত্রীদের সেবা প্রদানকারী মোবাইল অ্যাপ প্রস্তুত এবং অনলাইন সুবিধা ব্যবহার করে হজযাত্রীদের হজের প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথাও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে হজযাত্রীগণ সহজেই তাদের যাবতীয় তথ্য ও সেবা গ্রহণ করতে পারছেন।
হজযাত্রীদের সুবিধার্থে ২০১০ সাল থেকে প্রতি বছর ৪০ লাখ টাকায় জেদ্দা হজ টার্মিনালে প্লাজা ভাড়া, হজযাত্রীদের চিকিৎসা সেবাসহ নানা সেবা নিশ্চিত করতে জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় হজ প্রশাসনিক দল, চিকিৎসক দল, সহায়তাকারী দল এবং আইটি টিম থাকার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল, ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বি এইচ হারুন, ওই এলাকার স্থানীয় সংসদ সদস্য সাহারা খাতুন, সৌদি দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আমির বিন ওমর বিন সালেম এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব আনিছুর রহমান বক্তব্য রাখেন। পরে প্রধানমন্ত্রী হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।