রাজনীতি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ ইস্যুতে বিএনপির চার শর্ত : দলের ভেতরে-বাইরে ঐকমত্যের অভাব

সোহেল মাহমুদ : আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারকে চারটি শর্ত দিয়েছে বিএনপি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিএনপি ঘরনার বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বিএনপির পক্ষে শর্ত চারটি দেন। তিনি বলেন প্রস্তাবিত চারটি শর্ত পূরণ হলে আগামী নির্বাচনে যেতে পারে বিএনপি। গত ২১ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তি ও তারেক রহমানের মিথ্যা মামলা ও দ-াদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মুন্সীগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ড. এমাজউদ্দীন আহমদ এই চার শর্ত দেন।
শর্তগুলো হলোÑ প্রথমত, বর্তমানে বিএনপির চেয়ারপারসনসহ সারাদেশের বিভিন্ন দলের ২০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ৭৮ হাজার মামলা রয়েছে। এগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, নির্বাচনের তফসিলের আগে চলমান জাতীয় সংসদ ভেঙে দিতে হবে। তৃতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি মিলে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করবে। এতে বৃহত্তম বিরোধী দল হিসেবে বিএনপিকে পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ ৩ থেকে ৫টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিতে হবে; যাতে তারা সঠিকভাবে নির্বাচনের জন্য কাজ করতে পারে। চতুর্থত, ভোটাররা যাতে স্বাধীনভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে এবং প্রার্থীরা যাতে সকল ভোটারের কাছে নির্বিঘেœ ভোট চাইতে পারে সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
বিএনপির এই চার শর্ত পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয় থেকে সরে গেছে। বিএনপি বলছে, খালেদা জিয়ার মামলাসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যে ৭৮ হাজার মামলা আছে সেগুলো প্রত্যাহার করলে বিএনপি নির্বাচনে যাবে। বাস্তবতা হলো খালেদা জিয়াসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৭৮ হাজার মামলা যদি সরকার প্রত্যাহারও করে তাহলেও আইনি কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জেলেই থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে বোঝা যায় বিএনপি খালেদা জিয়াকে জেলে রেখেই নির্বাচনে যেতে চাচ্ছে। মুক্ত খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিএনপি নির্বাচন করতে চাইলে তাদের প্রথম শর্তটিই থাকত নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সুতরাং বলা যায়, খালেদা জিয়াকে জেলে রেখেই বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত! কিন্তু এটি নিয়েই বিএনপির ভেতরে-বাইরে এবং তৃণমূলে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপি আন্দোলন করবে, না নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য দলটি আন্দোলন করবে সে সিদ্ধান্ত নিতেই তারা বহু মতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার পর এবং এরশাদের সময়েও সংকটে পড়েছে। ওয়ান-ইলেভেনের সময়ও একটা বড় সংকট তাদের গেছে। কিন্তু তাদের জন্য এবারকার পরিস্থিতি আরো জটিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিএনপি দল হিসেবে আছে এটা ঠিক, কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে দলের মধ্যে সংহতি কতটা আছে। কারণ এই দলের অনেক নেতা অতীতে দল ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন আবার দলে ফিরে এসেছেন; আবার যেকোনো মুহূর্তে চলেও যেতে পারেন। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে বিএনপি নেতাদের তৎপরতা বাড়তে থাকবে। সুতরাং এই সময়টা বিএনপির জন্য খুবই নাজুক। কিন্তু বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করছেন, তাদের নেতা জেলে যাওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীরা আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ। তিনি বলেন, মামলা বিএনপিকে বেশি ক্ষতি করতে পারবে না। সরকার খালেদা জিয়াকে কারাগারেও বেশিদিন রাখতে পারবে না। দল অটুট আছে, অটুট থাকবে। মামলা একটা বড় হাতিয়ার হিসেবে নিয়েছে আওয়ামী লীগের সরকার। কিন্তু আমাদের বিশ্বাস আমাদের কর্মীবাহিনী ও জনগণ এগুলো মোকাবিলা করে আমাদের রাজনৈতিক লক্ষ্যে তারা পৌঁছতে পারবে।
অনেকেই মনে করেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির চূড়ান্ত রাজনৈতিক লক্ষ্য নির্বাচনে জয়ী হয়ে দলকে ক্ষমতায় নিয়ে আসা। প্রায় ১১ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে রয়েছে বিএনপি। কারাগারে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরো একাধিক মামলা আছে রায়ের অপেক্ষায়। তারেক রহমানেরও দেশে ফেরার পরিস্থিতি নেই। সেক্ষেত্রে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানবিহীন আগামী নির্বাচন হবে বিএনপির জন্য বাঁচা-মরার খেলার মতো। রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে, বিএনপি একটি এক ব্যক্তি কেন্দ্রিক দল। বিএনপির মতো দলে সেকেন্ডম্যান বলে কিছু নেই। তারেক রহমানকে দলটি সেকেন্ডম্যান বলছে। কিন্তু তিনি রাজনীতিতে দৃশ্যমান নন। এটা আরেক ধরনের সংকট এবং এই সংকটটা আরো বড় মনে হচ্ছে যেহেতু নির্বাচন কাছে। সুতরাং নির্বাচনে এবার যদি বিএনপি খুব প্রস্তুতি নিয়ে মোকাবিলা করতে না পারে তাহলে তাদের অস্তিত্ব সংকটে পড়তে হতে পারে। চলতি ডিসেম্বরেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। গত নির্বাচন বয়কট করা দল বিএনপি এবার যখন নির্বাচন করতে চাইছে তখন দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া কারাগারে। কেউ কেউ মনে করেন, দেশের যেকোনো জটিল পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য যে ব্যক্তিত্ব ও ক্যারিশমা এবং নেতৃত্ব দরকার সেটা দলের মধ্যে খালেদা জিয়া ছাড়া আর কারো নেই। দলে যদি নেতৃত্ব না থাকে, দলের পাঁচজন নেতা যদি পাঁচ রকমের কথা বলেন, যেটা ইতোমধ্যে আলামত হিসেবে দেখা গেছেÑ সেই দল আগামী নির্বাচনে কী রকম ফলাফল করবে তা খোদ বিএনপি নেতাকর্মীদেরই চিন্তার কারণ।
বর্তমান পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে আদালতের রায়ের ওপর। এ অবস্থায় বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে বা খালেদা-তারেকের অবর্তমানে বিএনপির নেতৃত্ব প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছেন, নেতৃত্বের কোনো সংকট বিএনপিতে নেই। নতুন কিছু ভাবার কিছু নেই। আমরা এগুলো নিয়ে এতটুকু চিন্তিত নই, শঙ্কিত নই। এটা পার্ট অব পলিটিক্স। যতই ষড়যন্ত্র করা হোক খালেদা-তারেককে রাজনীতি থেকে সরানো যাবে না। এটা সম্ভব না।
তবে বাস্তবতা এবং বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি একটি পরিবার কেন্দ্রিক রাজনৈতিক দল। পরিবার কেন্দ্রিক রাজনীতির সমস্যাটা হচ্ছে এখানে যদি পরিবার থেকে ওই ধরনের আরেকজন ক্যারিশম্যাটিক লিডার বেরিয়ে না আসেন তখন ওই রাজনৈতিক দলটি আর টেকে না বেশি দিন। অতীতে মুসলিম লীগের একই পরিণতি হয়েছে। বিএনপিও সে পরিণতির দিকেই হাঁটছে! খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের অবর্তমানে বিএনপির নেতৃত্ব দেয়ার মতো জিয়া পরিবার ও জিয়া পরিবারের বাইরের কাউকেই মনোনীত করা হয়নি। বিএনপির অনেক নেতাই আশা করছেন, খালেদা-তারেকের অবর্তমানে বিএনপির নেতৃত্ব যাবে তার-ই হাতে।
এখন যে প্রশ্নটি দলে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে, খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে বিএনপি নির্বাচনে যাবে কি যাবে না। এ নিয়ে বিএনপিতেই রয়েছে দুই-তিন ধরনের মতবাদ। কিছু নেতা বলছেন, খালেদা জিয়া জেলে থাকা অবস্থায় বিএনপি নির্বাচনে গেলে জেলবন্দি খালেদার অদৃশ্য শক্তিতেই বিএনপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে এবং আগামীতে সরকার গঠন করতে পারবে। আবার কিছু নেতা বলছেন, খালেদা জিয়া নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে না পারলে বিএনপির ভরাডুবি ঘটবে। নির্বাচনি মাঠে খালেদা জিয়া না থাকলে ভোটারদের মন কিছুতেই প্রভাবিত করা যাবে না। সেক্ষেত্রে মুক্ত খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপির কিছুতেই নির্বাচনে যাওয়া উচিত হবে না।
বিএনপির তৃতীয় আরেকটি পক্ষ খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আরো সোচ্চার হওয়ার পক্ষে। তাদের মতে, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সোচ্চার আন্দোলন শুরু করলে এতদিন বিএনপি চেয়ারপারসন মুক্তি পেয়ে যেতেন। তার মুক্তির জন্য আন্দোলন না করে বিএনপি একদিকে খালেদা জিয়াকে জেলে রেখেছে, আরেকদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দৌড়ে অনেকখানি পিছিয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির এই দুই-তিনটি পক্ষের পরস্পরবিরোধী কর্মকা-ের কারণে খালেদা জিয়ার মুক্তিও মিলছে না, আবার বিএনপি নির্বাচনে যাবে কি যাবে নাÑ সে বিষয়টিও তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে পরিষ্কার হচ্ছে না। এতে বিএনপি পড়েছে ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতিতে। দলটির নেতাকর্মীর কাছে তাদের ভবিষ্যৎ এখন ধূসর। বিএনপির জেলের বাইরে থাকা নেতারা খালেদা জিয়াকে মুক্তও করতে পারছেন না এবং নির্বাচনে যাবে, সে নিশ্চয়তাও দিতে পারছেন না। আসলে খালেদা জিয়া ও লন্ডনপ্রবাসী তারেক রহমান ছাড়া বিএনপিতে সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো যে কেউ নেই, এ বিষয়টিই এখন প্রতিষ্ঠিত সত্য হয়ে দেখা দিয়েছে দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে। তাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর বেশি দিন বাকি না থাকলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণ ইস্যুতে এখনও সুনিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারছে না দলটি।
বিএনপিতে এখন কেন্দ্রীয় সব নেতাই খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের স্থলাভিষিক্ত হতে চাচ্ছেন। বিএনপি নেতাদের মোহে পরিণত হয়েছে বিএনপি চেয়ারম্যানের পদ। দলের ভিতরে-বাইরে অনেকেই মনে করেন, এই মোহের বাইরে নন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, সাদেক হোসেন খোকা ও নজরুল ইসলামসহ দলের অনেক শীর্ষ নেতৃত্বই।
বিএনপির এসব নেতা চাচ্ছেন খালেদা জিয়া জেলেই থাকুক। এ জন্য তারা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সর্বাত্মক আন্দোলনে যেতে চাচ্ছেন না। তারা বারবারই বলছেন, আইনগতভাবেই খালেদা জিয়া জামিন পেয়ে জনগণের মাঝে আসবেন। কিন্তু দিন যতই যাচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে আইনগতভাবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার জামিনে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাছাড়া সদ্য যে চার শর্ত তারা দিয়েছে, তাতে খালেদা জিয়ার মুক্তিই চাওয়া হয়নি; এমনকি জামিন পর্যন্ত চাওয়া হয়নি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়া যদি জামিনে মুক্তি না পান, তাহলেও বিএনপির এই পক্ষটি চাচ্ছে নির্বাচনে অংশ নিতে। খালেদা জিয়াকে জেলে এবং তারেক রহমানকে লন্ডন রেখে নির্বাচনে অংশ নিয়ে এমপি হয়ে শেখ হাসিনার নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার আনন্দে তারা এখনই বিভোর।
এই বিষয়টিই হতাশায় নিমজ্জিত করেছে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, সুবিধাবাদী রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিতে গিয়ে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব এখন জেলে এবং ফেরারি জীবনে। বিএনপির নেতৃত্বে তারা কোনোদিন ফিরতে পারবেন কি না স্পষ্ট নয়। তারা যদি বিএনপির নেতৃত্বে ফিরতেই না পারেন, তাহলে পরিবার ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক এই দলটির পরবর্তী প্রধান কে হবেন, না সব নেতাই হয়ে যাবেন বিএনপিপ্রধানÑ সে চিন্তায় হতাশ ও দিগভ্রান্ত বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তবে বিএনপির ভিতরে ও বাইরে স্বয়ং খালেদা জিয়াকে নিয়েই ঐকমত্যের অভাব আছে, সে বিষয়টি এখন ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। বিএনপির কোন নেতা যে এখন খালেদা জিয়ার মুক্তি চাচ্ছেন, আর কোন নেতা যে খালেদাকে জেলেই রাখতে চাচ্ছেনÑ তা বোঝা মুশকিল হয়ে পড়েছে। আরেকটি বিষয় নিয়েও বিএনপি ঝামেলায় আছে। সেই ঝামেলার নাম জামায়াত। বিএনপির জামায়াতপন্থি নেতারা চাচ্ছেন খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলন শুরু হোক। আর বিএনপির সরকারপন্থি হিসেবে চিহ্নিত নেতারা চাচ্ছেন খালেদা জিয়া জেলেই থাকুক এবং জেলে থেকেই নির্বাচনে অংশ নিক। কিন্তু এ নিয়ে বিএনপি শিবিরেই রয়েছে নানামত। তাই এক্ষেত্রে বিএনপির শেষ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানার জন্য আরো কিছুটা সময় অপেক্ষা করতেই হবে।