খেলা

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে যেভাবে স্থান পেলেন বাংলাদেশের মেয়েরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজে আইসিসি মহিলা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত বাছাইপর্বের টুর্নামেন্টে স্কটল্যান্ডকে ৪৯ রানে হারিয়ে এই যোগ্যতা অর্জন করেন বাংলাদেশের মেয়েরা। ম্যাচটি ছিল টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। অর্থাৎ বাছাইপর্বের যে দুই দল ফাইনালে উঠবে তারাই খেলবে বিশ্বকাপে। প্রথম সেমিফাইনালে পাপুয়া নিউগিনিকে হারিয়ে আয়ারল্যান্ড ও দ্বিতীয় সেমিফাইনালে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশ ফাইনালে ওঠে। ফাইনালে ওঠা দুই দলই (বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ড) বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।
নেদারল্যান্ডসের আমস্টিনভিলে অনুষ্ঠিত এ ম্যাচে বাংলাদেশ প্রথম ব্যাটিং করে ১২৫ রান করেছিল ৬ উইকেটে। নিগার সুলতানার অপরাজিত ৩১, শামীমা সুলতানার ২২, আয়শা রহমানের ২০ রানের ওপর ভর করে ওই রান সংগ্রহ করেছিল বাংলাদেশ। ম্যাচে সূচনা ভালো হয় তাদের। প্রথম চার ওভারে ২৭ রান নেন শামীমা ও আয়েশা। পরে শেষ ১০ ওভারে নিগার দায়িত্ব নিয়ে খেলে রান ১২৫-এ উন্নীত করেন।
ব্যাটিংয়ে নেমে স্কটিশ মেয়েরা সুবিধা করতে পারেননি। ওপেনার সারা একাই যা লড়েছেন। সঙ্গে ছিলেন ক্যাথরিন। এছাড়া বাংলাদেশের বোলারদের সামনে স্কটিশরা ছিলেন অনেকটা অসহায়। ফলে নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৭৬ রান সংগ্রহে সমর্থ হন তারা। সারা করেন ৩১ রান। এছাড়া ক্যাথরিনের ২১ রান ছিল ইনিংসের উল্লেখযোগ্য রান। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নাহিদা ও রুমানা নেন ২টি করে উইকেট। এছাড়া সালমা ও ফাহিমা নেন ১টি করে উইকেট।
ফাইনাল ম্যাচেও সেই একই দৃশ্যপট। আয়ারল্যান্ডকে ২৫ রানে হারিয়ে শিরোপা জয়ের উৎসবে মেতে ওঠেন বাংলাদেশের মেয়েরা। অবশ্য এর আগে ফাইনালের টিকিট পেয়ে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলা নিশ্চিত করেছিল সালমা খাতুনের দল।
আইরিশদের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের উট্রেক্টে ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নামে বাংলাদেশের মেয়েরা। ম্যাচের ফলাফলেও তারই ছায়া দেখা গেল। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তুলে ১২২ রান। এরপর ৯৭ রানে আয়ারল্যান্ডকে অলআউট করে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। অথচ গতবার বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ফাইনালে এই আয়ারল্যান্ডের কাছেই হেরেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। এবার তারই প্রতিশোধ নিলেন সালমা-রুমানারা। অবশ্য এই হারের আগেই আইরিশরাও পেয়ে গেছে আগামী নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠেয় টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার টিকিট। এই ফাইনাল ম্যাচটি ছিল মর্যাদার লড়াই; যেখানে জয় পেয়েছেন লাল-সবুজ মেয়েরা।
ফাইনালে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা বেশ ভালোই ছিল বাংলাদেশের। উদ্বোধনী জুটিতে শামিমা সুলতানা আর আয়েশা রহমান ৪ ওভারে তুলেন ২৮ রান। এর মধ্যে শামিমা ফিরেন ১৬ বলে ১৬ রান করে। আর আয়েশা সাজঘরে ফিরেন ৪৬ রানে। এই রান করতে আয়েশা খেলেন ৪২ বল। ইনিংসে ছিল ৫ চার আর ২ ছক্কার সমাহার। এক পর্যায়ে ১ উইকেটে ৮০ রান ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে দল। শেষ পর্যন্ত ১২০ রানে যেতেই ৯ উইকেট খুইয়ে বসে বাংলাদেশ। ফারজানা করেন ১৭ রান। জাহানারা অপরাজিত ১২। এরপর অবশ্য বল হাতে বোলাররা আগুন ঝরিয়েছেন। বিশেষ করে পান্না ঘোষ। বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত এই পেসার ১৬ রান দিয়ে তুলে নেন ৫ উইকেট। তার সামনেই তছনছ হয়ে যায় আইরিশদের ইনিংস। ম্যাচ সেরা হন পান্না ঘোষ। এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত আইসিসি মহিলা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন।
আইসিসি মহিলা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করায় বাংলাদেশ প্রমীলা ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বরাবরের মতো প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছায় বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেটাররা সিক্ত হলেও এবারও তাদের সংবর্ধনা প্রদানে এগিয়ে আসেনি কোনো করপোরেট হাউজ। তারা পুরুষ ক্রিকেট নিয়ে মাতামাতি করলেও নারী ক্রিকেটাররা যে এতবড় সাফল্য বয়ে আনলÑ সেজন্য সংবর্ধনা দূরে থাক সামান্য সৌজন্য শুভেচ্ছাও জানায়নি নারী ক্রিকেটারদের। বহু করপোরেট হাউজ নারীর ক্ষমতায়নের কত গল্পই না বলে বেড়ায়, কিন্তু নারী ক্রিকেটারদের এই সাফল্য তারা যেন দেখতেই পেল না।