প্রতিবেদন

ডিসি সম্মেলন-২০১৮ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী : সেবার মানসিকতা নিয়ে সততার সাথে দায়িত্ব পালনের জন্য জেলা প্রশাসকদের প্রতি শেখ হাসিনার নির্দেশ

সাবিনা ইয়াছমিন : সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টির জন্য প্রতি বছর ডিসি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমস্যাসমূহ এবং সেগুলো সমাধানের পথ ও কৌশল নির্ধারণে এ সম্মেলন কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। এবারের সম্মেলন ২৪ জুলাই শুরু হয়ে ২৬ জুলাই শেষ হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলন উদ্বোধন করেন এবং জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন। ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকদের কঠোর নির্দেশনা দেন। এর পাশাপাশি তিনি ডিসিদের সুনির্দিষ্ট ২৩ দফা নির্দেশনা দেন এবং এগুলো মাঠপর্যায়ে কার্যকরের জন্য জেলা প্রশাসকদের মনোযোগী ও আন্তরিক হতে বলেন। তিনি সেবার মানসিকতা নিয়ে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করার জন্য জেলা প্রশাসকদের প্রতি নির্দেশ দেন।
ডিসি সম্মেলন উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে আমি বলতে চাইÑ বিনা দ্বিধায় আপনারা টেন্ডারবাজি, পেশিশক্তি, সন্ত্রাস এবং মাদক নির্মূল করবেন। এখানে কে কোন দল করে, কে কী করে সেগুলো দেখার কোনো দরকার নেই। যদি কেউ বাধা দেয়, আপনারা প্রয়োজনে সরাসরি আমার সঙ্গে বা আমার অফিসে যোগাযোগ করতে পারবেন। শেখ হাসিনা বলেন, দেশের সরকারপ্রধানের বাইরেও আমি কিন্তু জাতির পিতার কন্যা, আপনাদের সেটাও মনে রাখতে হবে। তিনি বলেন, আমরা সমাজ থেকে সব ধরনের অশুভ তৎপরতা নির্মূল করে মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই।
ডিসি সম্মেলনে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. নজিবুর রহমান বক্তৃতা করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। এতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পক্ষে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান, চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক বেগম শায়লা ফারজানা এবং রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার মো. নূর-উর-রহমান বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার অভিশাপমুক্ত একটি সুখী, সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক, জ্ঞাননির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ। এ ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসকদের অতীতের ধ্যান-ধারণা পরিহার করে সেবার মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ঔপনিবেশিক মানসিকতা পরিহার করে আপনাদের সেবার মনোভাব নিয়ে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তবেই দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে বলেন, সরকারের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব আপনাদের, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের। আমি বিশ্বাস করি যে, আপনাদের মাঝে অনেক উদ্ভাবনী শক্তি আছে। আপনারা এই উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
একটি দেশের উন্নয়নে দেশে গণতন্ত্র বিদ্যমান থাকা এবং সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকা অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটানা দুই মেয়াদে প্রায় সাড়ে ৯ বছর সরকার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছি। এর ফলে আমরা অনেক উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছি। আর্থসামাজিক খাতে আজ বাংলাদেশের যে অভাবনীয় অগ্রগতি, তা সম্ভব হয়েছে এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকার জন্য। জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর্থসামাজিক সূচকের ক্ষেত্রে আমরা শুধু দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে নয়, অনেক উন্নত দেশকেও ছাড়িয়ে যেতে পেরেছি।
দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধির উচ্চ হার বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। গত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশে। আর মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের নিচে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে এই মূল্যস্ফীতির পরিমাণ ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। মাথাপিছু জাতীয় আয় ২০০৬ সালের ৫৪৩ মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৭৫২ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৬৩ হাজার কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকায়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে এডিপির আকার ছিল ২৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এডিপির আকার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। দারিদ্র্যের হার ২০০৬ সালের ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে বর্তমানে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। শিক্ষার হার বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলের ৪৫ শতাংশ থেকে ৭৩ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের ২৮ লাখ ৪০ হাজার স্কুল শিক্ষার্থীকে মিড-ডে মিল কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে এবং প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ ছাত্রছাত্রীকে বিভিন্ন ধরনের উপবৃত্তি এবং বৃত্তির আওতায় আনা হয়েছে। উপবৃত্তির টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি মায়েদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে। এসব কর্মসূচির ফলে বাংলাদেশের বিদ্যালয়গামী প্রায় সব শিশু আজ বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। ঝরে পড়া বন্ধ হয়েছে। সারাদেশে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। যেখান থেকে বিনামূল্যে ৩০ প্রকারের ওষুধ প্রদান করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, দারিদ্র্য নিরসন এবং বৈষম্য দূর করে আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে তাঁর সরকার পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার পাশাপাশি ১০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। প্রধানমন্ত্রী এ পর্যায়ে ২০২১ সাল থেকে ২০৪১ সালের বাংলাদেশকে আমরা কেমন দেখতে চাই সেই প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকদের এসব পরিকল্পনা প্রণয়নে তাদের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানের সন্নিবেশন ঘটানোর আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার দুর্নীতি দমন ও শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা) বিধিমালা-২০১৭ প্রণয়ন করেছে। সাধারণ মানুষের সেবা প্রাপ্তিতে যেকোনো সমস্যা নিরসনে গণশুনানি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকারি কাজে গতিশীলতা আনয়নে সকল সরকারি দপ্তরে ই-সেবার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে ই-ফাইলিং বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। সরকারি সেবা পেতে সাধারণ মানুষ যাতে কোনোভাবেই হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার না হন, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা এবং চলমান মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখাসহ জেলা প্রশাসকদের ২৩ দফা নির্দেশনা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। ২৩ দফা নির্দেশনা ছাড়াও জাতীয় গৌরব, মুক্তিযুদ্ধ এবং ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে আগামী প্রজন্মকে জানানোর জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ট্রাফিক রুল সম্পর্কে গণসচেতনতা গড়ে তোলা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে আমরা ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়তে চাই। এজন্য সকলকে যার যার জায়গা থেকে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীতে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ঢাকা-চট্টগ্রাম, সিলেট, দিনাজপুর এবং বরিশালের মধ্যে দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন চালুর পরিকল্পনা তাঁর সরকারের রয়েছে। তিনি এ সময় রেল যোগাযোগের পরিসর আরো বাড়ানোর জন্য ঢাকা থেকে বরিশালসহ পায়রাবন্দর পর্যন্ত রেল যোগাযোগ স্থাপন এবং ভবিষ্যতে বিমান ও হেলিকপ্টার নির্মাণের লক্ষ্যে লালমনিরহাটে একটি অ্যারোনটিক্যাল সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে আরো বলেন, সরকারের একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, কমিউনিটি ক্লিনিক, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের দেশে ছোট ছোট জমি চাষ করার চেয়ে কিভাবে জমি বড় করে সমবায়ভিত্তিক চাষাবাদ করা যায় তা দেখতে হবে। এছাড়া কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এটা হলে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য যেমন বিদেশে বাজার পাবে তেমনি দেশেও বিক্রি করা যাবে।
জেলা প্রশাসকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর
২৩ দফা নির্দেশনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা প্রশাসকদের সম্মেলন উদ্বোধনকালে তাদের জন্য ২৩ দফা নির্দেশনা দেন। নির্দেশনাগুলো হচ্ছে : ১. সরকারি সেবা পেতে সাধারণ মানুষ যাতে কোনোভাবেই হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার না হন, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। ২. যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। মাদকবিরোধী অভিযান চলবে। ৩. জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা দূর করে সর্বক্ষেত্রে শান্তিশৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ৪. গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সম্ভাবনাময় স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে উদ্যোগী হতে হবে। ৫. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশে নেতৃত্ব প্রদান করতে হবে। ৬. তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করতে হবে। ৭. শিক্ষার সকল স্তরে নারীশিক্ষার হার বৃদ্ধি, ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে হবে। ৮. ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরকারি ভূমি রক্ষায় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। ৯. কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সার, বীজ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ইত্যাদির সরবরাহ নির্বিঘœ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নিতে হবে। ১০. ভেজাল খাদ্যদ্রব্য বাজারজাত প্রতিরোধে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি এবং এ ধরনের অনৈতিক কর্মকা- কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। ১১. দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। ১২. পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এই সংক্রান্ত আইন ও বিধি-বিধানের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ১৩. প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয় প্রশমনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২ এবং এ সংক্রান্ত স্থায়ী নির্দেশনাবলি অনুসারে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ১৪. সাধারণ মানুষকে সহজে সুবিচার প্রদান ও আদালতে মামলার জট কমাতে গ্রাম আদালতগুলোকে কার্যকর করতে হবে। ১৫. জেলা প্রশাসকগণ জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সকল কমিটিকে সক্রিয়, গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে হবে। ১৬. দপ্তরসমূহের বিদ্যমান সেবাসমূহ তৃণমূলে পৌঁছানোর লক্ষ্যে তথ্য মেলা, সেবাসপ্তাহ পালনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। ১৭. শিল্পাঞ্চলে শান্তি রক্ষা, পণ্য পরিবহন ও আমদানি-রপ্তানি নির্বিঘœ করা এবং চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, পেশিশক্তি ও সন্ত্রাস নির্মূল করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ১৮. বাজার ব্যবস্থার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে। বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। ১৯. নারী ও শিশু নির্যাতন ও পাচার, যৌতুক, ইভটিজিং এবং বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে নজরদারি বাড়াতে হবে। ২০. নারীর প্রতি সহিংসতা, নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। ২১. নিজ নিজ জেলায় ক্রীড়া, বিনোদন ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের সুযোগ বাড়াতে হবে। শিশু-কিশোরদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংস্কৃতিবোধ ও বিজ্ঞানমনস্কতা জাগিয়ে তুলতে হবে। ২২. প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ২৩. পার্বত্য জেলাসমূহের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, বনাঞ্চল, নদী-জলাশয়, প্রাণিসম্পদ এবং গিরিশৃঙ্গগুলোর সৌন্দর্য সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়া পর্যটনশিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং কুটিরশিল্পের বিকাশে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে হবে।