রাজনীতি

নির্বাচনি প্রচারণায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ : উন্নয়নের বার্তা নিয়ে ভোটারের দোরগোড়ায় দলের নেতাকর্মীরা

এম নিজাম উদ্দিন : ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করে দিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার যে প্রচারণা চলেছে তা ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন এখন নৌকার। সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনেও নৌকার প্রার্থীরা ভালো করবেÑ এমনটি আশা করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। নৌকার নির্বাচনি এ প্রচারণা এখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সারাদেশের মানুষ এখন জানে নৌকা এনেছে এদেশের স্বাধীনতা, নৌকা দিয়েছে অর্থনৈতিক মুক্তি, নৌকায় ভর করে বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের উন্নয়নশীল দেশ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাস পাঁচেক বাকি। এই চার-পাঁচ মাসেই সমস্ত ভোটারকে নৌকায় উঠাতে সারাদেশব্যাপী চলছে আওয়ামী লীগের প্রচারণা। উন্নয়নের বার্তা সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিতে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ১০ বছর আগে দেশ কোথায় ছিল, ১০ বছর পরে কোথায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশÑ এই পার্থক্য তুলে ধরে ভোটারদের মাঝে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তাঁর কর্মী বাহিনীকে ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন ভোটারের কাছে যেতে, ভোটারের কথা শুনতে, ভোটারের সমস্যার নিরসন করতে এবং ভোটারকে উন্নয়নের বার্তা জানাতে। শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এখন তা-ই করছেন দেশজুড়ে। তারা ভোটের মাঠে নেমেছে ডিজিটাল নির্বাচনি প্রচারণা নিয়ে। সেজন্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমেও বড় বড় শহরে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এই প্রচারণা কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আদতে শুরু হয়ে গেছে মধ্য জুলাই থেকেই। নৌকার এই প্রচারণা চলবে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত। এজন্য ৬ সদস্যের একটি সাব কমিটি গঠন করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি ভোটারের কাছে পৌঁছাতে এ ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে থাকবে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নমূলক নানা কর্মকা- নিয়ে বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র। জানা গেছে, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনার জন্মদিনে তাঁর অর্জন, কর্মময় জীবন এবং আন্দোলনের ওপর সেমিনার ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে এ ডিজিটাল প্রচারণার কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবতার কারণে জুলাই থেকেই এ প্রচারণার কাজ শুরু হয়ে গেছে। আগস্টজুড়ে শোক পালন হলেও ডিজিটাল নির্বাচনি প্রচারণা চলবে নিয়মমাফিক। ডিজিটাল নির্বাচনি প্রচারণায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি যে অপপ্রচার চালাচ্ছে তার জবাব দেয়া হবে। সারাদেশে সরকারের উন্নয়ন বার্তা ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের দুর্নীতির বিষয়টিও জনগণের মাঝে ডিজিটাল ওয়ের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে। আর ২০১৮ সালের পুরো সময়টাকেই নির্বাচনি বছর হিসেবে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলা এবং পৌরসভা এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ সভা ও সমাবেশ করাসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এতে প্রচার করা হচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-ের ফিরিস্তি। সারাদেশের শহর-উপশহরের উল্লেখযোগ্য বিলবোর্ড নির্বাচনি প্রচারের কাজে দলের পক্ষে ভাড়া নেয়া হচ্ছে। এসব বিলবোর্ডে দৃষ্টিনন্দন স্লোগান লিখে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে যুদ্ধাপরাধীর বিচার করা, জঙ্গি দমন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা ও বেকার সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়াসহ যুবসমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে নতুন নতুন পরিকল্পনা তুলে ধরে নির্বাচনি প্রচারণা চালানো হচ্ছে। শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বের কারণে দেশে দারিদ্র্যের হার ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রবৃদ্ধি বর্তমানে ৭.৭৮ শতাংশ। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১৮ হাজার ৩৫৩ মেগাওয়াট। মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়ে ১৭৫২ ডলারে উন্নীত হয়েছে। মহাকাশে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা সংবলিত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেল, গভীর সমুদ্রবন্দর, মেট্রোরেল ও পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। তাছাড়া বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ঘোষিত ভিশন-২০২১ ও ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে। আর আওয়ামী লীগ সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে। আগামীতে আবার সরকার গঠন করতে পারলে দেশ থেকে দারিদ্র্য চিরতরে দূর হবেÑ এই বার্তা ডিজিটাল ওয়েতে ছড়িয়ে দিতে দলের নেতাকর্মীরা এখন থেকেই কাজ শুরু করেছেন। এতেই সাফল্য আসবে বলে মনে করছেন দলের নেতাকর্মীরা। নৌকায় ভোট দিলে কেউ কখনও বঞ্চিত হয় না বরং মানুষ কিছু পায়Ñ মানুষ যে আসলে কিছু পায়, মানুষকে (ভোটারকে) তা জানিয়ে দিতে কাজ করছে আওয়ামী লীগ। এই জানানো যতটা আন্তরিক হবে, ভোটারের হৃদয়ে নৌকার স্থান হবে ততটা। তাই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ ও কৃষক লীগসহ দলের সব অঙ্গসংগঠনকেই নির্বাচনি এ প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে বলা হয়েছে। তাদের বলা হয়েছেÑ ‘নৌকার জন্য ভোট চাইতে হবে। শেখ হাসিনার জন্য ভোট চাইতে হবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য নৌকায় ভোট চাইতে হবে।’ আর সক্রিয়ভাবে আন্তরিকতার সাথে ভোট চাইলে নির্ধারিত লক্ষ্যে অবশ্যই পৌঁছা যাবে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের চাওয়া এবং পাওয়ার সুসমন্বয় ঘটাতে পারলেই আগামী নির্বাচনে নৌকা বাজিমাত করবে। নৌকার জয় হবে এবং বর্তমান সরকার ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা পাবে।