প্রতিবেদন

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় : এলে দেশে ফাইভ-জি সেবা চালু হবে -সজীব ওয়াজেদ জয়

বিশেষ প্রতিবেদক : শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত যাবতীয় সেবা এখন সারাদেশের শহর-গ্রামের সকল শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষের পর্যায়ে সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সময়োপযোগী সঠিক দিকনির্দেশনা ও যথাযথ তদারকির কারণে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নজরকাড়া এ সাফল্য পেয়েছে সরকার। যার সুফল ভোগ করছে দেশের সকল মানুষ।
ঢাকায় বসে আমেরিকার মতো ফোর-জি ইন্টারনেট সেবা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। গত ২৪ জুলাই নিজের ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে সজীব ওয়াজেদ জয় এ কথা বলেন। ফেসবুক পেজে জয় লেখেন, ‘এই মুহূর্তে আমি ট্রাফিকে আটকে আছি। কিন্তু ঢাকাতে বসে আমেরিকার মতোই ফোরজি ইন্টারনেট সুবিধা পাচ্ছি। আমরা মাত্র কয়েক মাস আগে ফোর-জি সেবা চালু করেছি। ইতোমধ্যেই কাভারেজ বেশ ভালো বলে মনে হচ্ছে। এ জন্য টেলিকম কোম্পানিগুলোকে ধন্যবাদ জানাই। এটি ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ সরকারের আরেকটি মাইলফলক অর্জন। জয় আরো লেখেন, ২৫ জুলাই বাংলাদেশে ফাইভ-জি প্রযুক্তি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হবে (পরবর্তীতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে)।
এদিকে গত ২৫ জুলাই সজীব ওয়াজেদ জয় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ফাইভ-জি সামিট-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার আবারও ক্ষমতায় এলে ফাইভ-জি সেবা চালু করবে। সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং মোবাইল অপারেটর রবির সহায়তায় এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ফাইভ-জি প্রযুক্তি প্রদর্শন করে হুয়াওয়ে। সজীব ওয়াজেদ জয় এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।
ফাইভ-জির পরীক্ষামূলক প্রদর্শনীর জন্য হুয়াওয়েকে এক সপ্তাহের জন্য প্রয়োজনীয় স্পেকট্রাম বরাদ্দ দেয় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-বিটিআরসি। অনুষ্ঠানে ফাইভ-জির সর্বোচ্চ গতি পাওয়া গেছে ৪ দশমকি ১৭ জিবিপিএস।
দেশে ১৯৯০ সালে মোবাইল ফোন সেবা চালুর পর ২০১৩ সালে আসে থ্রি-জি প্রযুক্তি। আর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফোর-জি সেবা চালু করে সেলফোন কোম্পানিগুলো। বাংলাদেশ ফাইভ-জি সামিট অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ইতোমধ্যে আমরা ফাইভ-জি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছি। যদি দেশের মানুষ ভোট দিয়ে আবারো আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনে তবে বাংলাদেশে ফাইভ-জি চালু করব। ফাইভ-জি ব্যবহারকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম দিকেই থাকবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
বিগত বছরগুলোতে টেলিযোগাযোগ খাতে সরকারের সাফল্যের বিবরণ দিয়ে জয় বলেন, বাংলাদেশ ছিল প্রযুক্তিতে পিছিয়ে পড়া দেশ। মোবাইল ফোন সেবা ছিল দামি ও শহরে সীমাবদ্ধ। আওয়ামী লীগ নির্বাচনি ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তা বাস্তবায়ন করতে পেরেছে। দেশের প্রায় অধিকাংশ স্থানে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছেছে। বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশে ইন্টারনেটের দাম সবচেয়ে কম জানিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ১০ বছর আগে দেশে ইন্টারনেটের দাম যা ছিল তার থেকে ৯৯ শতাংশ কমেছে। তিনি আরো বলেন, বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে দ্রুতগতিতে বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগে প্রযুক্তি সম্প্রসারিত হয়েছে। এজন্য মোবাইল কোম্পানিগুলো ধন্যবাদ পেতে পারে।
অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বারের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, হুয়াওয়ের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট জেমস উসহ অনেকে।