প্রতিবেদন

বিশ্বে তৃতীয় মৎস্য উৎপাদক দেশ হিসেবে এফএওর স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা-এফএও চীন ও ভারতের পরে অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদনকারী হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ দেশ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ১৮ জুলাই মৎস্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে সাংবাদিকদের বলেন, এফএও-এর ২০১৮ সালের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন ও ভারতের পরে জলাশয়ে মাছ উৎপাদক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের প্রাক্কালে মৎস্যমন্ত্রী বলেন, মাছ উৎপাদনে স্বনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশে এখন প্রতি বছর মাথাপিছু মাছের চাহিদা ৬২ দশমিক ৫৮ গ্রাম। এটি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদন অনুযায়ী দৈনিক প্রোটিন চাহিদার ৬০ গ্রামের তুলনায় বেশি। মন্ত্রী বলেন, এ খাতের ধারাবাহিক সাফল্য বজায় রাখতে এবং জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে প্রতি বছর জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ১৮ থেকে ২৮ জুলাই কার্যকরভাবে পালন করা হয়।
২০১৬-১৭ মৌসুমে মৎস্য উৎপাদনের পরিসংখ্যানের কথা উল্লেখ করে মৎস্যমন্ত্রী বলেন, এ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দেশে ৮৪ হাজার মেট্রিক টন বেশি মাছ উৎপন্ন হয়েছে। তিনি জানান, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে মৎস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন, সেখানে উৎপাদন হয়েছিল ৪১ লাখ ৩৪ হাজার মেট্রিক টন। তিনি বলেন, মৎস্য সেক্টরের টেকসই উন্নয়ন বজায় রাখাতে সরকার জাটকা সংরক্ষণ এবং ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ জলাশয় ও মাছের আবাসস্থলের উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক প্রজননের জায়গা, সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব চিংড়ি চাষ সম্প্রসারণ, উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা এবং সমুদ্রের মাছের সহনশীল আহরণ, মাছ সরবরাহ, সংরক্ষণ এবং মাছ ও মাছজাত পণ্য রপ্তানিসহ বিভিন্ন ধরনের আগাম কর্মসূচি গ্রহণের পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে ২০টি সামুদ্রিক নজরদারি চেকপোস্ট স্থাপন, সব মাছ ধরার ট্রলার ও জাহাজের লাইসেন্স প্রদান, কমপক্ষে ৫ লাখ জেলে পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এনে ২০৩০ সালের মধ্যে জেলেদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য মডেল গ্রাম প্রতিষ্ঠা করা হবে।