প্রতিবেদন

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশুনার খরচ

স্বদেশ খবর ডেস্ক : কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার কথা শুনলে সবারই সেই ছোট বেলার কথা মনে হয়। নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলে প্রথম ক্লাসেই শিক্ষক জানতে চান, কেন সায়েন্স নিয়েছো? বড় হয়ে কী হতে চাও?
আমরা কেউ বলি ডাক্তার হবো, কেউ বলি শিক্ষক হবো, কেউ বলি ইঞ্জিনিয়ার হবো কিন্তু কেউ নির্দিষ্ট করে কিছুই বলতে পারি না। কেউ হয়ত বলে বুয়েটে পড়তে চাই, কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে! তখন পাশে থেকে কেউ একজন হয়ত বলে ওঠে, এত সহজ না, চান্স পেতে হয়!
আসলেই চান্স পেতে হয়। চান্স পেতে ভালো পড়াশুনার সাথে সাথে ভাগ্যও লাগে। অনেককেই দেখা যায় প্রচ- ভালো শিক্ষার্থী, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পেয়ে মন খারাপ করে বসে আছে। আপনার সন্তানের ভাগ্য যদি এমন হয়? তখন আপনি কী করবেন? পছন্দের বিষয়ে চান্স পায়নি বলে মন খারাপ করে বসে থাকতে দেবেন? অবশ্যই না! সন্তানকে দেখেশুনে ঠিকই ভালোমানের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করাবেন।
আমাদের দেশে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে তেমন বেশি পরিমাণে খরচ হয় না; চিন্তা হচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খরচ নিয়ে। ভালো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক খরচ মোটামুটি কম না। আপনার সন্তানের জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে অবশ্যই কত খরচ হতে পারে সে সম্পর্কে একটি ধারণা নিতে হবে আপনাকে।
ভালোমানের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সম্ভাব্য খরচের একটি তালিকা স্বদেশ খবর পাঠকদের জন্য দেয়া হলো :
তালিকা দেখে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ৪ বছরের স্নাতক কোর্সের জন্য আপনার প্রায় ৪ লাখ থেকে ৮ লাখ টাকা খরচ হবে। শুধু ইউনিভার্সিটির খরচ বাদ দিয়েও আরো কিছু বাড়তি খরচ হবে আপনার সন্তানের জন্য। যেহেতু আপনি তাকে কম্পিউটার সায়েন্সে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াতে চাচ্ছেন অতিরিক্ত কিছু প্রযুক্তিগত সুবিধা দিতে হতে পারে আপনার সন্তানকে। সেক্ষেত্রে কিছু ইমার্জেন্সি মানির ব্যবস্থা রাখতেই হবে আপনাকে। এছাড়াও বই, ফটোকপি, পকেটমানি মিলিয়ে আরো বেশকিছু খরচ রয়েছে। আর আপনি যদি ঢাকার বাইরে থাকেন আর সন্তানকে ঢাকায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে চান তাহলে তার মেস চার্জ, ডাইনিং খরচসহ আরো কিছু খরচ গুনতে হবে আপনাকে।
বই, ফটোকপি আর পকেটমানি মিলিয়ে প্রায় ৪,০০০ টাকা প্রতিমাসে খরচ হয়েই যায়। ছাত্রদের মেস ভাড়া আনুমানিক ৩,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৬,০০০ টাকা; ডাইনিংয়ের খরচ আলাদা করে ১,৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ২,৫০০ টাকা। ছাত্রীদের জন্য এই খরচ ৪,০০০ টাকা থেকে ৮,০০০ টাকা এবং ১,৫০০ টাকা থেকে ২,৫০০ টাকা।
পুরো টাকাই যে জমিয়ে রাখতে হবে তা কিন্তু নয়। তবে সিংহভাগ টাকা জমিয়ে রাখা ভালো। এক্ষেত্রে মনে রাখবেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর নিজস্ব ফলাফলের ভিত্তিতে কিছু ছাড় পাওয়ার সুযোগ আছে। আপনি যত টাকা জমিয়ে রাখবেন তার কিছু অংশ যদি আপনার সন্তানের ভালো ফলাফলের জন্য বেঁচে যায় তাহলে সেই টাকাটা কিন্তু আপনি বাড়তি হিসাবে অন্য কাজে খরচ করতেই পারেন! তাই সিংহভাগ টাকা জমিয়ে রাখাই ভালো।
টাকা জমানোর জন্য খুলতে পারেন মাসিক ডিপিএস বা পিএসএস। প্রতি মাসে অল্প অল্প করে টাকা জমাতে পারেন এখানে। অ্যাকাউন্টের ম্যাচিউরিটি এলে একটি ভালো অংকের লাভসহ টাকা উইথড্র করতে পারবেন আপনি। এছাড়া ফিক্সড ডিপোজিটও একটি ভালো উপায় হতে পারে। ব্যাংকের স্কিমগুলো সম্পর্কে ধারণা নিতে যোগাযোগ করতে পারেন অভিজ্ঞ কারো সঙ্গে। আর আপনার সন্তান যদি এখনই কলেজের শিক্ষার্থী বা এইচএসসি পরীক্ষার্থী হয়ে থাকে আর আপনার যদি আগে থেকে কোনো পরিকল্পনা না থেকে থাকে তাহলে সন্তানের উচ্চশিক্ষার জন্য আপনি ব্যাংক থেকে পার্সোনাল লোনও নিতে পারেন।