প্রতিবেদন

যুক্তরাজ্যের নাগরিক জুলিয়ান হেনরি ফ্রান্সিসকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক : যুক্তরাজ্যের নাগরিক জুলিয়ান হেনরি ফ্রান্সিসকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছে। গত ২৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে নাগরিকত্ব সনদ গ্রহণ করেন ফ্রান্সিস। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো ব্রিটিশ মানবাধিকারকর্মী হেনরি ফ্রান্সিসের। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে তার অবদান এবং মানবতার প্রতি সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার ৭৩ বছর বয়স্ক এই মানবতাবাদীকে নাগরিকত্ব প্রদান করে। জুলিয়ান ফ্রান্সিস দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে বসবাস করে আসছেন।
গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জুলিয়ান ফ্রান্সিসের হাতে বাংলাদেশের নাগরিকত্বের সনদ তুলে দেন। নাগরিকত্ব গ্রহণ করে ফ্রান্সিস অভিভূত হয়ে বলেন, এটি আমার প্রতি এক বিরাট সম্মান। ফ্রান্সিস ১৯৭২ সালের ২০ জানুয়ারি প্রথম বাংলাদেশে আসেন। তিনি বর্তমান সরকারের সময়ে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে এখন আর মঙ্গা নেই।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, প্রধানমন্ত্রীর কন্যা ও বিশিষ্ট অটিজম বিশেষজ্ঞ সায়মা ওয়াজেদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১২ সালের মার্চে ফ্রান্সিসকে ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ সম্মাননা প্রদান করা হয়। বাংলাদেশি বন্ধুদের কাছে জুলিয়ান ভাই হিসেবে পরিচিত ফ্রান্সিস ১৯৬৮ সালে ভারতের বিহারে অক্সফামের একটি প্রকল্পে কাজে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় ভারতে আশ্রয় নেয়া বাংলাদেশ শরণার্থী শিবিরে তিনি কাজ শুরু করেন। তিনি ১৯৭১ সালে অক্সফামের ত্রাণ তৎপরতায় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। ভারতের সীমান্ত এলাকাগুলোতে তখন অক্সফাম বাংলাদেশি শরণার্থী শিবিরগুলোতে সহায়তা প্রদান করে। আর স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় থেকেই ফ্রান্সিস বাংলাদেশের ত্রাণ ও উন্নয়ন কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।
ফ্রান্সিসের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৯ এপ্রিল যুক্তরাজ্যের মলভারেনে। ১৯৭২ সালের ২০ জানুয়ারি তিনি প্রথম বাংলাদেশে আসেন এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। জাতির পিতার পরামর্শে এবং অক্সফামের সহায়তায় তিনি কস্তুরি, কামিনী এবং করবী এ তিনটি ফেরি সংগ্রহ করেন। ফ্রান্সিস ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত বেশ কয়েকবার বাংলাদেশ সফর করেন এবং শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের সেবায় আত্মনিয়োগ করেন। এছাড়া ১৯৮৭ ও ১৯৮৮ সালের বন্যায় এবং ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় তিনি কাজ করেন। ১৯৯৭ সালে ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির পর তিনি রেড ক্রস/রেড ক্রিসেন্টের কর্মকা-ের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি সিএলপি কর্মসূচির মাধ্যমে অতিদরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও কাজ করেন।
ফ্রান্সিস তার বাকি জীবন বাংলাদেশের মাটিতে কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি যুক্তরাজ্যে বসবাসরত তার বোন এবং দুই সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় ব্রিটিশ নাগরিকত্ব অক্ষুণœ রেখে বাংলাদেশের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন।