অর্থনীতি

এবারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ৪৪ বিলিয়ন ডলার : বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
রপ্তানি আয় বাড়াতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সাথে আমাদের আমদানি ও রপ্তানির বিশাল ফারাক দূর করতে নানামুখী পরিকল্পনা ও কর্মকৌশল গ্রহণ করে সরকার। এরই অংশ হিসেবে সরকার এবারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটা গত অর্থবছরের চেয়ে ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি। পণ্য ও সেবা খাত থেকে এ বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
গত ৮ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ রপ্তানি আয়ের এ লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা দেন। এ সময় বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু ছাড়াও কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বর্তমান সরকার ২৭টি পণ্য রপ্তানি খাতে বিভিন্ন হারে নগদ আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে। সরকার এবার আরও ৯টি পণ্য রপ্তানিতে ১০ শতাংশ হারে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পণ্যগুলো হলোÑ হিমায়িত সফটসেল কাঁকড়া, ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য ও ওষুধের কাঁচামাল, সিরামিক দ্রব্য, গ্যালভানাইজড সিট বা কয়েলস, ফটোভলটাইক মডিয়ুল, রেজার ও রেজার ব্লেডস, ক্লোরিন, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, কস্টিক সোডা এবং হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, আগামীতে দেশের রপ্তানিকারকরা পণ্য রপ্তানিতে আরও বেশি উৎসাহিত হবেন। রপ্তানির এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২১ সালে দেশের মোট রপ্তানি ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পণ্য রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে ৩৯ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের চেয়ে ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি। আর সেবা খাতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে ৫ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের চেয়ে ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি।
তিনি বলেন, গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪০ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার এসেছে পণ্য রপ্তানি থেকে। সেবা খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরে ৪১ বিলিয়ন ডলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছিল।
গত অর্থবছরে রপ্তানি পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছি। চামড়া খাত ছাড়া সব খাতে রপ্তানি ভালো হয়েছে। মন্ত্রী জানান, এবার দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক খাত থেকে ৩২ হাজার ৬৮৯ কোটি ডলার আসবে বলে ধরা হয়েছে, যা মোট রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার ৮৩ দশমিক ৮২ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ওভেন পোশাক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৫৩৯ কোটি ডলার, যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরের চেয়ে ৭ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি। আর চলতি অর্থবছরে নিট পোশাক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ১৫০ কোটি ডলার। এতে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, গত অর্থবছর তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩০ হাজার ৬১৪ কোটি ডলার, যা মোট রপ্তানি আয়ের ৮৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এর মধ্যে নিট পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৫ হাজার ৪২৬ কোটি ডলার। আর ওভেন পণ্যে রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৫ হাজার ১৮৮ কোটি ডলার।
এবার ৫ দশমিক ৮০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৫ কোটি ডলার। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ১২৪ কোটি ডলার, প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ। কৃষিজাত পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭১১ কোটি ডলার, প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ। অন্যদিকে ৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ওষুধে ১১২ কোটি ডলার এবং ৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে হোম টেক্সটাইলে ৯৪০ কোটি ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এছাড়া ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫২ কোটি ডলার, যা গতবারের চেয়ে ১ দশমিক ১১ শতাংশ কম।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২১ সালে এ রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়াবে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তৈরি পোশাক নতুন বাজারে রপ্তানিতে আগে ৩ শতাংশ হারে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হতো, এখন আরও ১ ভাগ বাড়িয়ে ৪ শতাংশ হারে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। আশা করা হচ্ছে আগামীতে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ১০ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হবে।
সভায় এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, পোশাক রপ্তানির ওপর থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের নতুন নতুন পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিতে নজর দিতে হবে।
বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য অবকাঠামোর উন্নয়ন, ব্যবসায়িক জটিলতা নিরসন ও সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং স্থল ও সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা প্রয়োজন।