প্রতিবেদন

গণভবনে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গার্ল গাইডস শাখা খোলা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে ২৯ জুলাই আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের বেইলী রোডে অবস্থিত ১০তলা জাতীয় কার্যালয় ভবন, বাংলাদেশ স্কাউটসের শতাব্দী ভবনসহ অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড বিতরণ করেন। এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গার্ল গাইডস ও স্কাউটদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ স্কাউটসের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে দেশব্যাপী গার্ল গাইডসের কর্মকা- আরো জোরদার ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সকল নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গার্ল গাইডসের শাখা খোলার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের প্রায় সবক’টি বালক বিদ্যালয়ে স্কাউটস এবং শাপলা কাব শাখা গঠন করা হয়েছে। কিন্তু মেয়েদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে পরিমাণ গার্ল গাইডস শাখা খোলা উচিত ছিল, তা হয়নি। ছোট বেলায় আমরা দেখেছি, সে সময় নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গার্ল গাইডসের বিপুলসংখ্যক শাখা চালু ছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আপনাদের অনুরোধ জানাবোÑ আপনারা সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই সংগঠনটি গড়ে তুলুন। বিশেষ করে নারীদের যত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এর প্রত্যেকটিতেই গার্ল গাইডসের শাখা খোলা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের গণশিক্ষা মন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং স্কাউটস এবং গার্ল গাইডসের কর্মকর্তারা এখানে আছেনÑ তারা এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে আশা করি।
বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান জাতীয় কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান এবং বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার সৈয়দা রেহানা ইমাম অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় কমিশনার (প্রোগ্রাম) মো. আতিকুজ্জামান।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে দেশের ১২টি অঞ্চলের কাব স্কাউটসদের মাঝে তাদের সর্বোচ্চ সম্মান ‘শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করে প্রত্যেককে ব্যাজ পরিয়ে দেন। ৬ থেকে ১১ বছর বয়সীদের সংগঠন কাব স্কাটউসদের মধ্যে ১৮৩ জন এ বছর এই সম্মান অর্জন করে।
প্রধানমন্ত্রী স্যার লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল প্রতিষ্ঠিত স্কাউটস এবং গার্ল গাইডস আন্দোলনের প্রশংসা করে বলেন, আমি মনে করি যে, ছোটবেলা থেকে শিশুরা শিখছে এবং তাদেরকে সবকিছু শেখানো হচ্ছে। যেমন তারা পরিবেশ রক্ষার জন্য কাজ করছে, বৃক্ষরোপণ করছে, আমাদের দেশের যারা দুস্থ, প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ এবং অসহায় মানুষ তাদের পাশে দাঁড়ানো, এমনকি বিদ্যুৎ সাশ্রয়েও জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে স্কাউটরা পারদর্শিতা দেখিয়েছে। আমি মনে করি, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ছোটবেলা থেকেই সকলের মাঝে মানবিক গুণাবলি তৈরি হবে। তাদের মানবতাবোধ জাগ্রত হবে, সচেতনতা বাড়বে। আজকের শিশুরাই পরবর্তীতে যখন জীবন-জীবিকার জন্য কাজ করবে তখন এসব গুণাবলি দেশ ও জাতির উন্নয়নে বিরাট অবদান রাখবে। লেখাপড়ার পাশাপাশি এসব সমাজসেবামূলক কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি বিশ্বাস করি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি এই সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করা উচিত, আরো বিস্তৃত হওয়া উচিত এ সংগঠনের কর্মপরিধি এবং এর ফলে দেশ থেকে আমরা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকসহ নানা ধরনের অসামাজিক কাজ বন্ধ করতে পারবো। আমাদের সচেতন ছেলে-মেয়েরাই এদেশকে ভবিষ্যতে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে জাতির পিতা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। আর সে লক্ষ্য নিয়েই এদেশের যাত্রা শুরু। আজকে আমরা বাংলাদেশকে বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। হয়ত বহু পূর্বেই আমরা তা করতে পারতাম, যদি না বাঙালির জীবনে ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের মতো কালরাত্রি না হানা দিত। জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা থেমে যায়। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকেই আমরা প্রচেষ্টা চালাচ্ছি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে আমাদের নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষায় সুশিক্ষিত করতে হবে। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। দেশ ও জাতিকে ভালোবাসতে শিখাতে হবে এবং দেশের মানুষের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের স্কাউটস এবং গার্ল গাইডস তাদের এই সংগঠনের কাজটাই হচ্ছে দেশের সেবা, মানুষের কল্যাণে কাজ করা, পাশে দাঁড়ানো, নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলা শেখানো এবং দেশের কল্যাণে কাজ করা। আমি দেখেছি যেকোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাকেও স্কাউটস দল ছুটে যায়, মানুষের পাশে দাঁড়ায়। সে কারণে আমি মনে করি এই সংগঠনগুলো আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী স্কাউটসের উন্নয়নে তাঁর সরকারের পদক্ষেপসমূহের কথা উল্লেখ করে বলেন, ঢাকায় গার্ল গাইডসের জন্য ১০তলা ভবন করা হয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষ করে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে যেখানে গার্ল গাইডের নিজস্ব জায়গা রয়েছে সেখানে কার্যালয় নির্মাণ করা প্রয়োজন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যদি এর কার্যালয় গড়ে ওঠে তাহলে গার্ল গাইডসের কার্যক্রম আরো বিস্তৃতি লাভ করবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গার্ল গাইডস সদস্য এবং শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, জাতির পিতা একদিন এই গণভবনের প্রাঙ্গণে স্কাউটস এবং গার্ল গাইডস সদস্যদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং সেই কথা চিন্তা করেই আজ (২৯ জুলাই) সকলকে এখানে আমন্ত্রণ জানিয়ে এনেছি।
আজ সকলের পদচারণায় গণভবনের মাটি ধন্য উল্লেখ করে জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা কোমলমতিদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘মনে হয় যেন শত শত, হাজার হাজার ফুল ফুটে রয়েছে এই গণভবনের বাগানে।’