প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

গণভবন থেকে নতুন ৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফলক উন্মোচনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বালাতে অঙ্গীকারবদ্ধ সরকার

বিশেষ প্রতিবেদক
মহাজোট সরকারের রূপকল্প-২০২১ এর ঘোষণা অনুযায়ী ২০১৩ সালের মধ্যে ৭ হাজার, ২০১৫ সালের মধ্যে ৮ হাজার, ২০১৮ সালের মধ্যে ১৩ হাজার ৫০০ এবং ২০২১ সাল নাগাদ চাহিদা ২০ হাজার মেগাওয়াট বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এই লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২০১৮ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সাড়ে ১৩ হাজার মেগাওয়াটের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ৯ হাজার ৬৪৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন, দারিদ্র্য বিমোচন ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিদ্যুৎ মূল চালিকাশক্তি। দেশে বিদ্যুৎ চাহিদা ক্রমাগতই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধান, বর্তমান সরকরের নির্বাচনি ইশতেহারের ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক বিভিন্ন মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদানপূর্বক বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিসহ এ খাতের সার্বিক ও সুষম উন্নয়নে তাৎক্ষণিক, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৫ আগস্ট নতুন ৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া তিনি এ সময় দু’টি গ্রিড সাবস্টেশন এবং দেশের আরো ২১টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। নবনির্মিত ৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বালাতে তাঁর সরকারের লক্ষ্য ও অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বালানো। এই লক্ষ্য পূরণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ জনগণের মুখে হাসি ফোটানোর মাধ্যমে সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশ স্বাধীন করেছিলেন। দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়তে এবং রোগে ভুগে কেউ যেন মারা না যায় ও অন্ধকারে না থাকে সে লক্ষ্যে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা চাই প্রত্যেকে শিক্ষিত হোক। প্রত্যেকের ঘরে আলো জ্বলুক।
বিদ্যুৎ ব্যবহারে জনগণকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়Ñ এ কথা আপনাদের মনে রাখতে হবে। বিদ্যুৎ খাতে সরকার প্রচুর পরিমাণ ভর্তুকি দিচ্ছে। উৎপাদন ব্যয়ের চেয়েও আমরা বেশি পরিমাণে ভুর্তকি দিচ্ছি। আর এর মাধ্যমে আমরা জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নিজ হাতে সুইচ বন্ধ করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা চাই না বিদ্যুতের অপচয় হোক।
দেশের প্রত্যেক এলাকা শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আসবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩ হাজার ২০০ থেকে ১৮ হাজার ৯০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করেছে। আমরা ১২২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছি এবং ১৪ হাজার ১৩৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২৬টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ চলছে। এছাড়াও আমরা ভারত থেকে ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করেছি এবং ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির প্রক্রিয়া চলছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নেপাল ও ভুটান থেকে হাইড্রো ইলেকট্রিসিটি ক্রয়ের ব্যাপারে কথাবার্তা চলছে। তিনি বলেন, দেশে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সরকার পারমাণবিক বিদ্যুতের মতো বহুমুখী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। জনগণ এ থেকে উপকৃত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নতুন যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করেন সেগুলো হলো : ঘোড়াশালের কোড্ডায় ঘোড়াশাল ৩৬৫ মেগাওয়াট সমন্বিত বিদ্যুৎকেন্দ্র, গাজীপুর ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, দাউদকান্দি ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, ফেঞ্চুগঞ্জ ২০০ মেগাওয়াট সমন্বিত বিদ্যুৎকেন্দ্র, নোয়াপাড়া ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, মুন্সিগঞ্জের কমলাঘাটে মুন্সিগঞ্জ ৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সিদ্ধিরগঞ্জে ৩৩৫ মেগাওয়াট সমন্বিত বিদ্যুৎকেন্দ্র (গ্যাস টারবাইন) ও সিদ্ধিরগঞ্জ ২২৫ সমন্বিত বিদ্যুৎকেন্দ্র (দ্বিতীয় ইউনিট)।
শতভাগ বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় এসেছে এমন ২১টি উপজেলা হচ্ছে : মৌলভীবাজার সদর, গাইবান্ধার সাঘাটা, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম, নরসিংদীর মনোহরদী, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ, জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল ও কালাই, নওগাঁর পোরশা, রাজশাহীর মোহনপুর ও দূর্গাপুর, পঞ্চগড়ের আটোয়ারী, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ, ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া ও সোনাগাজী, চট্টগ্রামের পটিয়া ও হাটহাজারী, সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এবং হবিগঞ্জ সদর উপজেলা।
দু’টি গ্রিড সাবস্টেশন হলো নারায়ণগঞ্জের ভুলতায় ৪০০/২০০ কেভি গ্রিড সাবস্টেশন ও খাগড়াছড়ি ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড সাবস্টেশন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরে কিশোরগঞ্জ, কুমিল্লা, মৌলভীবাজার ও খাগড়াছড়ির উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহি এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অর্জন ও পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।