প্রতিবেদন

নারীর অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব : স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
গত ৮ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে উইমেন জার্নালিস্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (ডব্লিউজেএনবি) বঙ্গমাতার ৮৮তম জন্মবার্ষিকীতে ‘বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে ফজিলাতুন্নেছা মুজিব’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরী। জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পি, বাসসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরী বলেন, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সকল নারীর অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বঙ্গমাতা ছিলেন অনন্য দৃষ্টান্ত। পদ-পদবি ছাড়াই তিনি অনন্য। অন্তরালে থেকে বঙ্গমাতা দলকে পরিচালনা করেছেন।
বঙ্গবন্ধু থেকে কখনোই ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে পৃথক করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করে স্পিকার বলেন, তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের নারীদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
স্পিকার বলেন, দেশের সব নারীর অনুপ্রেরণার উৎস বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। তিনি এমন একজন অনন্য নারী ছিলেন, যিনি বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী হিসেবে। তিনি শুধু বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি জীবনে অনুপ্রেরণাই ছিলেন না, সক্রিয় অংশগ্রহণকারীও ছিলেন। যার অনেক অবদান এবং ভূমিকার মধ্য দিয়েই আজকের বাংলাদেশ।
ড. শিরীন শারমীন চৌধুরী বলেন, একাধারে একজন স্ত্রী, একজন মমতাময়ী মা, দক্ষ সংগঠক এবং দূরদর্শী রাজনীতিবিদ হিসেবেও তাকে আমরা দেখতে পাই। রাজনৈতিক সংগ্রাম আন্দোলনের বেশিরভাগ সময়ই বঙ্গবন্ধুকে কারাগারে অন্তরীণ থাকতে হয়েছে। এই সময়টিতে বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকে শুধু মানসিক সাহস জোগানোই নয়, তাঁর প্রতিটি কাজ কিভাবে এগিয়ে নেয়া যায় সেই বিষয়টিতেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন বেগম মুজিব।
স্পিকার বলেন, শৈশবে বৈবাহিক সূত্রে বঙ্গবন্ধুর জীবনে তাঁর আগমন, অল্প বয়স থেকে বঙ্গবন্ধুর জীবনসঙ্গী হিসেবে তাঁকে অত্যন্ত কাছ থেকে দেখার, জানার এবং চেনার মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ পাওয়ার যে চিন্তা, চেতনা, আদর্শ, সংগ্রামসহ সব বিষয়ের সঙ্গে তিনিও একাত্ম হয়ে পড়েন। নিজের অজান্তেই হয়ত তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ পাওয়ার এই আদর্শটিকে বাস্তবায়নের কাজে পুরোপুরি জড়িত হয়ে যান। অন্তরাল এবং নেপথ্যে থাকা মহান নারীর যে ভূমিকা সেটা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ইতিহাসে অবশ্যই শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে হবে।
স্পিকার বলেন, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতেও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের কথা অনেকবার এসেছে, বঙ্গবন্ধু তাঁকে রেণু বলে ডাকতেন। অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে দেখা যায় বঙ্গবন্ধুর জীবনে সমগ্র সত্তাজুড়েই ছিল রেণুর জন্য অফুরন্ত ভালোবাসা এবং ঠিক তেমনিভাবে বেগম মুজিবেরও তাঁর স্বামীর জন্য নির্মল ও প্রগাঢ় ভালোবাসা আমরা দেখতে পাই। তিনি একটি সংসার চালিয়ে সেখান থেকে কিছু কিছু অর্থ সংরক্ষণ করে রেখে দিতেন। কেননা তিনি জানতেন এর প্রয়োজন রয়েছে এবং সেটি তিনি বঙ্গবন্ধুকে দিয়ে সহযোগিতা করতেন। সেখান থেকেও তাঁর চিন্তার গভীরতা এবং দূরদৃষ্টি সম্পর্কে জানা যায়।
প্যারোলে মুক্তি নয়, বাংলার মানুষই তোমাকে মুক্ত করবে বঙ্গবন্ধুকে দেয়া এমন কথার স্মৃতিচারণ করে ড. শিরীন শারমীন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে যখন প্যারোলে মুক্তি দেয়ার কথা হয় তখন তিনি বাধা দিয়ে বলেন, আপনাকে (বঙ্গবন্ধু) নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে আপনি প্যারোলে মুক্তি নেবেন না। স্বাধীনতার নেপথ্য হিসেবে সাহস যুগিয়েছেন ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। তিনি দেশের স্বাধীনতা এবং বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই ইতিহাস থেকে তাকে সরিয়ে ফেলার কোনো সুযোগ নেই।’
স্পিকার বলেন, ফজিলাতুন্নেছা মুজিব আমাদের নারীদের প্রেরণার উৎস। বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন জাতির সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের সংগ্রামী জীবনও জাতির কাছে তুলে ধরতে হবে। বঙ্গবন্ধু যখন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি তখন ফজিলাতুন্নেছা মুজিব শিশু সন্তানদের নিয়ে যেমন সংসারকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন, তেমন দলীয় নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করতে তিনি ভূমিকা রাখেন। তিনি জেলে বঙ্গবন্ধুকে কাগজ দিয়ে আসতেন তার স্মৃতি লিখে রাখার জন্য। শিরীন শারমীন চৌধুরী বলেন, বঙ্গমাতা অত্যন্ত সরল জীবনযাপন করতেন, সাধারণের মাঝে মিশে থাকতেন। তাঁর নিজস্ব কোনো চাহিদা বা চাওয়া-পাওয়া ছিল না। শুধু বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন-আদর্শ যেন বাস্তবায়িত হয় সেজন্য বিভিন্ন ধরনের ঘাত-প্রতিঘাত, চড়াই-উতরাই পেরিয়ে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করেছেন। তাঁর মাঝে আমরা দেখতে পাই অসীম সাহস, দৃঢ় মনোবল এবং আত্মবিশ্বাসÑ এর মধ্য দিয়েই তিনি সব বাধা অতিক্রম করেছেন। তিনি প্রতিটি ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকেছেন, সহযোগিতা করেছেন এবং এই দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে অনেক সংকটময় মুহূর্ত ছিল। কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়ার অনেক সময় এসেছে এবং সেই সময়ে অত্যন্ত ধৈর্য ও দৃঢ়তার সঙ্গে চিন্তাপ্রসূত দিকনির্দেশনা সংবলিত সিদ্ধান্ত বেগম মুজিব দিয়েছেন, যার মধ্য দিয়ে তার গভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞাই দেখা যায়।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে আঙ্গুর নাহার মন্টির পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তৃতা করেন সাবেক তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক বাংলাদেশের খবর সম্পাদক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া ও ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পী এমপি।