প্রতিবেদন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকা-ে পাশে থাকবে জাপান

বিশেষ প্রতিবেদক
রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের উন্নয়ন কর্মকা-ে অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও টোকিও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে নিশ্চয়তা দিয়েছেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো।
বাংলাদেশ সফরকালে ৭ আগস্ট জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই নিশ্চয়তা দেন। সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশ থেকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে মিয়ানমারকে রাজি করানোর জন্য জাপানসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতি তাঁর আহবান পুনর্ব্যক্ত করেন। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবশ্যই তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য জাপানসহ বিশ্বের সাহায্যদাতা প্রভাবশালী দেশসমূহের বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত বছরের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী এসে এদেশে আশ্রয় গ্রহণ করেছে এবং তারা সংখ্যায় কক্সবাজার জেলার স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও ছাড়িয়ে যাওয়ায় নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। কক্সবাজারের স্থানীয় লোকজন এ কারণে ব্যাপক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। কারণ তাদের চাষাবাদের জমি পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য ছেড়ে দিতে হয়েছে। তাই স্থানীয় লোকজনকেও আমাদের সহায়তা করতে হচ্ছে।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, যদিও নেপিডো রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল, তবুও তারা এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেন, তিনি তার সাম্প্রতিক মিয়ানমার সফরে দেশটির রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচির সঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছেন। মিয়ানমারের নেতৃবৃন্দ তাকে জানিয়েছেন, তারা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছেন।
জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো বলেন, বাংলাদেশ থেকে ফিরে যাওয়ার পর যাতে ভালো পরিবেশে তারা বসবাস করতে পারে সেজন্য রাখাইন স্টেটে ঘরবাড়ি এবং স্কুল নির্মাণ কর্মসূচি দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য আমি তাদেরকে বলেছি। বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলো যাতে তাদের প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে পরিদর্শন করানো হয় এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত নেয়ার বিষয়ে তারা যেন বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সেজন্যও তিনি মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন।
জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের জন্য জাপান সরকার ২০ লাখ মার্কিন ডলার আর্থিক সাহায্য প্রদান করবে, যাতে করে চলমান বর্ষা মওসুমে তাদের কোনো সমস্যা না হয়। এ প্রসঙ্গে মিয়ানমার এবং বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের পরিপূর্ণ অংশীদারিত্ব বিদ্যমান থাকার কথা উল্লেখ করে তারো কোনো বলেন, বাংলাদেশের সকল উন্নয়ন কর্মকা-ে টোকিও তার সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। জাপানের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে আরো অধিক বিনিয়োগে আগ্রহী বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যেই জাপানের বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমি বরাদ্দ করেছে, যাতে করে তারা সেখানে নির্বিঘেœ বিনিয়োগ করতে পারেন।
জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ২০১৬ সালে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর বাংলাদেশ সরকারের ত্বরিৎ পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। এর উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
তারো কোনো ওয়ার্ল্ড এক্সপো-২০২৫ আয়োজন এবং ২০২৩-২৪ মেয়াদে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অস্থায়ী সদস্যপদের জন্য জাপানের প্রার্থিতার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, টোকিওতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রুবাবা ফাতিমা এবং ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোইসয়াসু ইজুমি এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।