কলাম

বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার সাথে নিজের একাত্মতা ও কিছু স্মৃতিকথা

আব্দুস সালাম বাচ্চু
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার পরিচয় দিলে আল্লাহর রহমতে আশা করি আপনি আমাকে চিনবেন।
আপনি ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রবিবার জন্মগ্রহণ করেন। আপনার জন্ম দিবস রবিবারের একটি বিশেষ ঘটনা আপনার সামনে তুলে ধরলাম। আপনার কনিষ্ঠ ভাই শেখ রাসেল ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর রবিবার জন্মগ্রহণ করেন। আপনার জন্ম দিবস রবিবারের সাথে ভাই ও বোনের সুন্দর মিল আছে। আপনার জন্ম দিবস রবিবারে ভালো ভালো অনেক ঘটনা আছে।
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর আপনার জন্ম দিবসটিতে আমি সাপ্তাহিক ‘স্বদেশ খবর’ পত্রিকার পরবর্তী সংখ্যায় আশা করি একটি কলাম লিখব। গত ১৭ মার্চ ছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম দিবস। আমার লেখার শিরোনাম ছিল ‘বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও বুধবার’। সাপ্তাহিক স্বদেশ খবর পত্রিকায় আমি ওই লেখাটি লিখেছিলাম। জানি না প্রধানমন্ত্রী আমার সেই লেখাটি আপনি পড়েছিলেন কি না?
২০০৪ সালের অক্টোবর মাসের কোনো এক সন্ধ্যায় ধানমন্ডি ৩ নম্বর সড়কে আওয়ামী লীগ অফিসে নিজ হাতে আমার নিজের তৈরি ক্যালেন্ডার ও বুধবারের ওপর ভিত্তি করে আমার একটি লেখা আপনাকে দিয়েছিলাম। আমি আপনার সাথে মোট তিন বার মোবাইলে কথা বলেছি। যখন আমার তৈরি ক্যালেন্ডার ও বুধবারের লেখার কথা উল্লেখ করে মোবাইলের মাধ্যমে আপনাকে আমার পরিচয় দিতাম ‘আমি আব্দুস সালাম বাচ্চু বলছি’ তখনই আপনি আমাকে মোবাইলে বলতেন ‘আমি আপনাকে চিনতে পেরেছি’। আমি ভীষণ আনন্দিত হই এই কারণে যে, আপনি একজন সুন্দর মনের বড় মাপের মানুষ বলে আমার মতো সামান্য একজন সতীর্থকেও আপনি মনে রাখেন।
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট শুক্রবার জন্মগ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধুর প্রথম পুত্র শেখ কামাল ১৯৪৯ সালের ৫ আগস্ট শুক্রবার জন্মগ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা ১৯৫৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জন্মগ্রহণ করেন। তাদের তিনজনের জন্মদিবসটি আল্লাহর রহমতে শুক্রবারেই সংঘটিত হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বুধবার জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর দ্বিতীয় পুত্র শেখ জামাল ১৯৫৪ সালের ২৮ এপ্রিল বুধবার জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ও পুত্রের বুধবারে জন্মদিনের সুন্দর সাযুজ্য বলা যায় একে। বিশিষ্ট সাংবাদিক আব্দুল গাফফার চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১২ ডিসেম্বর বুধবার জন্মগ্রহণ করেন। চৌধুরী সাহেব কি কখনও জানতেন বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন বুধবারের সাথে তার জন্মদিন বুধবারের কেমন মিল রয়েছে। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মেয়ে বেবী আখতার বঙ্গবন্ধুকে একটি পার্কার কলম উপহার দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু আব্দুল গাফফার চৌধুরীকে নিজের সহোদর ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন। সেই কলমটি বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে নেয়ার জন্য অনেকেই ব্যস্ত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেষ পর্যন্ত গাফফার চৌধুরীকে কলমটি দিয়েছিলেন। কলমটি অবশ্য শেষ পর্যন্ত গাফফার চৌধুরী হারিয়ে ফেলেন। এই কলমের কাহিনি লিখতে গেলে শেষ হবে না, বিশাল ঘটনা।
সজীব ওয়াজেদ জয় ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই মঙ্গলবার জন্মগ্রহণ করেন। তার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন মঙ্গলবারের সাথে শেখ হাসিনার দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুন্দর একটি মিল আছে।
১৯৬৯ সালের ১৪ এপ্রিল সোমবার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আমার সরাসরি প্রথম দেখা হয়। সেই সময় আমরা অনেক মানুষ ছিলাম। আমাদের অনেকের সাথে তিনি হাতে হাত মিলিয়েছিলেন। সেই সময় বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে গাড়ির ড্রাইভার ছাড়া অন্য কোনো নেতা ছিলেন না। বঙ্গবন্ধু গাড়িতে বসে সবার উদ্দেশে হাত নাড়েন আর হাসতে থাকেন। বঙ্গবন্ধু এরকমই একজন সাধারণ মনের মানুষ ছিলেন। সেই দিনের কথা আজও মনে পড়ে। মনে হয় যেন এই তো সেদিন! এই ঘটনাটি আমার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত স্মরণ থাকবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়া ১৯৪২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার জন্মগ্রহণ করেন। তৎকালীন পাকিস্তানের সামরিক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর সোমবার পাকিস্তানে নির্বাচন দেন। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসনে জয়লাভ করে। ময়মনসিংহের নান্দাইল থেকে পিডিপি’র নূরুল আমিন নির্বাচিত হন। স্বতন্ত্র প্রার্থী চাকমা রাজা ত্রিদিব রায় পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত হন। এই দুটি আসন ছাড়া আওয়ামী লীগ পূর্ববাংলার সবক’টি আসনে জয়লাভ করে।
স্বাধীন বাংলাদেশকে ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর সোমবার স্বীকৃতি দেয় ভারত। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি সোমবার বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালো রাতে যখন হানাদার পাক সেনারা বঙ্গবন্ধুকে আটক করে পাকিস্তান নিয়ে যায় সেদিন তাঁর জন্য আমি দু’টি রোজা মানত করেছিলাম। বঙ্গবন্ধু যদি স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন, আমি তাঁর জন্য দু’টি রোজা করব। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে এলে আমি দু’টি রোজা আদায় করেছি।
আমার ধারণা, আল্লাহপাক বঙ্গবন্ধুকে সৃষ্টিই করেছিলেন বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য। বঙ্গবন্ধু অসম্ভবকে সম্ভব করে গিয়েছিলেন। আমার মনে কৌতূহল জাগে, বঙ্গবন্ধু ও বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দ্দৌলা কী বারে জন্মগ্রহণ করেছেন। তা জানার জন্য আমি নিজ হাতে সাড়ে তিন ’শ বছরের ক্যালেন্ডার তৈরি করি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আমাকে অনেক চড়াই-উতরাই পার হতে হচ্ছে। আপনি দেশের প্রধানমন্ত্রী, আমি মনে করি অল্প কথাতে বিস্তারিত বুঝতে আপনার কষ্ট হবে না। ২০০১ সালে যখন বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তখন বিএনপির নেতারা আওয়ামী লীগের অনেক কর্মীকে জেল খাটিয়েছে। আজকে বিএনপির সেসব নেতা অনেক স্কুল-কলেজের সভাপতি হয়ে বসে আছেন। বিএনপির লোকজন বর্তমানে আওয়ামী লীগের কর্মীদের থেকে অনেক ভালো অবস্থানে আছে, অনেক ক্ষেত্রে তাদের নির্দেশে আওয়ামী লীগের কর্মীদের কাজ করতে হয়। এর বেশি আর লেখার প্রয়োজন মনে করি না মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। দলের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে আমার আশা, আপনি উপরোক্ত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।
লেখক : একজন নিবেদিতপ্রাণ
আওয়ামী লীগ কর্মী