খেলা

বিদেশের মাটিতে ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি সিরিজ জয়ে উল্লসিত বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক
টি-টুয়েন্টির বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সেন্ট কিটসে প্রথম ম্যাচ হেরে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে গিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা। ফ্লোরিডার লডারহিল স্টেডিয়ামে টানা দুই ম্যাচেই জয় পায় তারা। ফলে তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ জিতে নেয় ২-১ ব্যবধানে। সর্বশেষ গত ৬ আগস্ট বৃষ্টি আইনে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ১৯ রানের জয় পায় বাংলাদেশ। ম্যাচে কিছু রেকর্ডের পাশাপাশি সিরিজ জিতে দারুণ সব অর্জনের খাতায় নাম লেখায় লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। স্বদেশ খবর পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো :
ক্স ২২ বলে দলীয় ৫০। এটি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে দ্রুততম দলীয় ফিফটির রেকর্ড।
ক্স ১৮৪ রান টি-টুয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। আগের রেকর্ডটি ছিল ১৭৯ রানের (২০১২ সালে ঢাকায়)।
ক্স ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের এটাই প্রথম তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ। এ ফরমেটে দুই দলের মধ্যকার আগের চারটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ ছিল ১ ম্যাচের। বাংলাদেশ একটিতে এবং এক ম্যাচের দুইটি সিরিজে জয় পায় ক্যারিবীয়রা। ২০১৪ সালের সবশেষ ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়।
ক্স টি-টুয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের মুখোমুখি লড়াইয়ে সমতা বিরাজ করছে। সব মিলিয়ে ৯ বারের দেখায় দুই দলই সমান ৪ ম্যাচে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। ১টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়।
ক্স বিদেশের মাটিতে টাইগারদের দ্বিতীয়বার টি-টুয়েন্টি সিরিজ জয়। সবশেষ ২০১২ সালে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডকে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ।
ক্স একের অধিক ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশের দ্বিতীয়বার সিরিজ জয়। এরকম আগের ১১ সিরিজের ৪টি দেশে ও ৭টি বিদেশের মাটিতে খেলে বাংলাদেশ। হোম কন্ডিশনে কখনো একাধিক ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ জেতা হয়নি টাইগারদের।
ক্স ২০১৫ সালের পর বাংলাদেশের প্রথম টি-টুয়েন্টি সিরিজ জয়। ৩ বছর আগে ঢাকায় পাকিস্তানকে হারানো সিরিজটি ছিল ১ ম্যাচের।
ক্স অপরাজিত থেকে বাংলাদেশের আমেরিকা জয়। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে প্রথমবারের মতো খেলতে নেমেই বাজিমাত সাকিবদের। এর আগে গত ৩০ জুলাই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৮ রানে হারিয়ে দিয়ে ৯ বছর পর বিদেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। সেন্ট কিটসে তৃতীয় এবং শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পরাজিত করে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ ঘরে তোলে টাইগাররা। টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তামিম ইকবালের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি আর মাহমুদুল্লাহর ঝড়ো ব্যাটিংয়ের ৬৭ রানের ওপর ভর করে ৬ উইকেটে ৩০১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। তাড়া করতে নেমে ৬ উইকেটে ২৮৩ রান করতেই ওভার শেষ হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ইতঃপূর্বে গায়ানায় বাংলাদেশ প্রথম ওয়ানডে ৪৫ রানে জিতলেও দ্বিতীয় ম্যাচে মাত্র ৩ রানের জয় পেয়ে সিরিজে সমতা ফেরায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
শেষ কথা : প্রতিপক্ষের মাঠে জয়ের স্বাদ। সেই কবে ২০০৯ সালের আগস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। দেশের মাটিতে আফগানিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টাইগাররা সর্বশেষ সিরিজ জিতেছিল ২০১৬ সালে। ৯ বছর পর আবার বিদেশের মাটিতে সিরিজ জিতল টাইগাররা; যা বেশ স্বস্তিদায়ক। তাই এটি এক বিশেষ ঘটনা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য। এতে ক্রিকেট দলটি যেমন আনন্দে উদ্বেলিত হয়েছে, ক্রিকেটভক্তরাও অনেকদিন পর আনন্দসাগরে ভেসেছে।
বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেট যতটা ভালো খেলে, টেস্ট এবং টি-টুয়েন্টিতে সেরকম ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাতে পারে না। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ওয়ানডের পাশাপাশি টি-টুয়েন্টিতেও সিরিজ জয় করে বাংলাদেশ অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।
হতাশাময় টেস্ট সিরিজের পর ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোটা কঠিন এক চ্যালেঞ্জ ছিল বাংলাদেশ দলের জন্য। কাজটা সহজ ছিল না ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা এবং টি-টুয়েন্টির অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের জন্য। সেই ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জে জিতেছে বাংলাদেশ, জয়ী অধিনায়ক হিসেবেই সিরিজ শেষ করেছেন মাশরাফি ও সাকিব। দুই ফরমেটের দুই অধিনায়কের পাশাপাশি বাংলাদেশের পুরো ক্রিকেট দলকেই অভিনন্দন।