প্রতিবেদন

মন্ত্রিসভায় কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন ২০১৮-এর খসড়া অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে একটি ট্রাস্টের অধীনে আনার লক্ষ্যে ‘কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন ২০১৮-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, ট্রাস্টের তহবিল ব্যবহার করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং অন্যান্য হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের সঙ্গে কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাই এ আইনের লক্ষ্য।
প্রকল্পের আওতায় মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ১৪ হাজার ৮৯০টি কমিউনিটি ক্লিনিক এই ব্যবস্থার আলোকে ট্রাস্টের আওতায় সরকারি-বেসরকারি অর্থায়নের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে গত ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এন এম জিয়াউল আলম বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন ২০১৮-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রেক্ষিতে বিস্তারিত আলোচনার পর কিছু সংশোধনীসাপেক্ষে এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আইনটি পাস হলে দেশের সব কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্টের আওতায় চলে আসবে।
জিয়াউল আলম বলেন, সারাদেশেই কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্যসেবায় অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে। বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার যে অগ্রগতি হয়েছে তা কেবল কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্যই হয়েছে।
সারাদেশে ১৪ হাজার ৮৯০টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এখন পর্যন্ত ক্লিনিকগুলো থেকে সেবা গ্রহণকারীর সংখ্যা ৬২ কোটি ৫৭ লাখ।
বর্তমানে দেশে ১৩ হাজার ৮৬১টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে জানিয়ে জিয়াউল আলম বলেন, আরো ১ হাজার ২৯টি কমিউনিটি ক্লিনিক বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি ন্যাশনাল অ্যাডভাইজারি কাউন্সিল আছে। ওই কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইনের খসড়া করা হয়েছে।’
ট্রাস্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে জিয়াউল আলম বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। ট্রাস্টের তহবিল ব্যবহার করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা। এ জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক সহযোগিতা গ্রহণ, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সম্পদ ও অনুদান সংগ্রহ এবং এর সুষ্ঠু ব্যবহার। এছাড়া রয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিকের সঙ্গে ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা পর্যায়ে হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি কার্যকর রেফারেল প্রতিষ্ঠা করা।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব বলেন, ট্রাস্টে একটি উপদেষ্টা পরিষদ থাকবে, সেখানে প্রধানমন্ত্রী সভাপতি হবেন। এছাড়া একটি বোর্ড থাকবে। যিনি বোর্ডের প্রধান হবেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত খ্যাতিমান ব্যক্তি হবেন। বোর্ড গঠনের বিবরণ আইনে রাখা হয়েছে।
বোর্ডে একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালকও থাকবেন উল্লেখ করে জিয়াউল আলম বলেন, তার পদমর্যাদা হবে সরকারের অতিরিক্ত সচিব বা সমমর্যাদার। বোর্ডের সদস্য হবেন ১৪ জন। বোর্ডের সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ থাকবে এবং মনিটরিং ব্যবস্থা থাকবে। কোনো রোগীর চিকিৎসা দিতে কমিউনিটি ক্লিনিক যদি ব্যর্থ হয়, যদি জটিল রোগী হয় তবে ক্রমান্বয়ে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হবে, রেফারেল সিস্টেম থাকবে।