প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

মন্ত্রিসভায় সড়ক পরিবহন আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন : সড়ক দুর্ঘটনার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের দাবির প্রতি একাত্ম সরকার : সকল দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সব দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই বিষয়টি তদারকি করছেন। ইতোমধ্যে ঘাতক বাসের চালক ও মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই দুই বাসের রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সব স্কুলের সামনে স্পিড ব্রেকার স্থাপন, প্ল্যাকার্ডধারী বিশেষ ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন, শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজসংলগ্ন বিমানবন্দর সড়কে আন্ডারপাস নির্মাণ এবং ওই স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াতের জন্য প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পাঁচটি বাস প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক পরিবহন আইন সময়োপযোগী করে তা আগামী দুই মাসের মধ্যে পাস করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভায় সড়ক পরিবহন আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ তাদের বিশেষ তৎপরতার অংশ হিসেবে পুলিশ সপ্তাহ পালন করে রাস্তায় চলাচলরত গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট, রুটপারমিট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার কাজ শুরু করেছে। এতে রাস্তায় গণপরিবহনের স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। তাই জনদুর্ভোগ লাঘবে জরুরি তৎপরতার অংশ হিসেবে বিআরটিএ’র অফিস টাইম কেবল শুক্রবার বাদ দিয়ে সপ্তাহের অন্যান্য দিনে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
এসব কার্যকরী ও দৃশ্যমান বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সকল দাবি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা দিয়ে তাদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ৪ আগস্ট ক্লাসে ফিরে যায় এবং প্রায় এক সপ্তাহের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘটায়।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে জাবালে-নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম এবং আবদুল করিম রাজিব নিহত হন। পরদিন থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে তুমুল আন্দোলন শুরু করে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে চালকের লাইসেন্স আছে কি না, সেটা পরীক্ষা করে। আর লাইসেন্স না থাকলে মামলা করায় পুলিশকে দিয়ে। লাইসেন্স না থাকলে পুলিশের গাড়িও আটকে দেয় শিক্ষার্থীরা। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া গাড়ি নিয়ে বের হতে পারেননি এমপি-মন্ত্রীরাও। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রকেও আটকে দেয় শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের সড়কে অবস্থান ছিল অনেকটা শৃঙ্খলার মধ্যে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তাদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর অবস্থানে যায়নি।
এদিকে দলমত নির্বিশেষে সারাদেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতো সরকারও শিক্ষার্থীদের দাবিটা যৌক্তিক বলে গ্রহণ করেছে। এমনকি নিরাপদ সড়কের দাবিতে সারাদেশে শিক্ষার্থীদের অহিংস-শান্তিপূর্ণ ও স্বতঃস্ফূর্ত এ আন্দোলনকে সময়োপযোগী এবং যৌক্তিক বলে সকলেই এ ধরনের কর্মকা-ের প্রশংসা করেছে। পাশাপাশি উপরোক্ত অনাকাক্সিক্ষত সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের অপ্রত্যাশিত উক্তির কারণে সারাদেশে নিন্দার ঝড় ওঠে এবং এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দারুণভাবে মর্মাহত হন। প্রধানমন্ত্রী নৌ-পরিবহনমন্ত্রীকে সংযত হয়ে কথা বলার নির্দেশ দেন। নৌপরিবহনমন্ত্রী নিজেও তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছেন এবং নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের কাছে গিয়ে শাজাহান খান গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, সরকার এবার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার নিজেই উদ্যোগ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সড়ক পরিবহন আইন আগামী দুই মাসের মধ্যে পাস করার টার্গেট নেয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন আইন পাস হওয়ার পর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আরো কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
জানা গেছে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বাধা না দিয়ে ধৈর্য ধরে সবকিছু সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করায় অনভিপ্রেত সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়। সার্বিক পদক্ষেপ গৃহীত হওয়ায় ৪ আগস্টের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং ৭ আগস্টের দিকে রাজধানী পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।

মন্ত্রিসভায় সড়ক পরিবহন
আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন
সড়ক দুর্ঘটনার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-
বেপরোয়া গাড়ি চালনায় কেউ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারাত্মক আহত বা নিহত হলে চালকের সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদ- এবং জরিমানার বিধান রেখে ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বিদ্যমান আইনে একই অপরাধে ৩ বছরের কারাদ-ের বিধান ছিল। তবে সড়ক পরিবহন আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদনের পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, সড়ক দুর্ঘটনাটি যদি হত্যার উদ্দেশ্যে হয়েছে এটা প্রমাণ করা যায় তবে ওই দুর্ঘটনার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদ- বা যাবজ্জীবন কারাদ-।
গত ৬ আগস্ট সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে জানানো হয়, বেপরোয়া গাড়ি চালানোর মাধ্যমে গুরুতর আহত বা প্রাণহানি ঘটালে এখন নতুন আইনে তার জন্য ৫ বছর কারাদ-ের বিধান রাখা হয়েছে। অতীতে এক্ষেত্রে ৩ বছর কারাদ-ের বিধান ছিল। তবে বর্তমান আইনে বলা আছে, সড়ক দুর্ঘটনাটি যদি হত্যার উদ্দেশ্যে হয়েছে এটা প্রমাণ করা যায় তবে ওই দুর্ঘটনার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদ- বা যাবজ্জীবন কারাদ-।
উল্লেখ্য, রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীজুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন আইনের খসড়াটি মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে উত্থাপন করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ১৯৮৩ সালের মোটরযান অধ্যাদেশ সংশোধন ও পরিমার্জন করে এই আইনটি করা হয়েছে যেখানে ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিপরীতে পয়েন্ট সিস্টেম চালুর বিধান সংযুক্ত করা হয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিষয়ে নতুন আইনে বলা হয়েছে, অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে বয়স ১৮ এবং পেশাদার চালকদের লাইসেন্স পেতে বয়স ২১ হতে হবে। চালকের অপরাধের জন্য ১২ পয়েন্ট বরাদ্দ থাকবে। তার যেকোনো অপরাধের দোষসূচক পয়েন্ট কাটা যাবে। পয়েন্ট শেষ হলে তার লাইসেন্স বাতিল হবে। এছাড়া কোনো ব্যক্তি মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স ব্যবহার করে জনসমক্ষে কোনো গাড়ি চালাতে পারবেন না। গণপরিবহন চালানোর জন্য আলাদা অনুমতি লাগবে। বেপরোয়া গাড়ি চালানোর মাধ্যমে মৃত্যু হলে তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় এটা ইচ্ছাকৃত ছিল, তবে দ-বিধি ৩০২ ধারা অনুযায়ী তার বিচার হবে। এটার শাস্তি হবে মৃত্যুদ-।
খসড়া আইনে বেপরোয়া গাড়ি চালনার জন্য জরিমানার সীমা উল্লেখ করা হয়নি। এটি মামলার বিচারকের ওপর ন্যস্ত হয়েছে।
মোটরযান দুর্ঘটনায় আহত বা প্রাণহানি হলে পেনাল কোড অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। তবে শর্ত থাকে যে, পেনাল কোডে যা কিছু থাকুক না কেন, অবহেলাজনিত কারণে গুরুতরভাবে আহত বা প্রাণহানি হলে পাঁচ বছর কারাদ- বা অর্থদ- বা উভয় দ-ে দ-িত হবে। সংসদের আগামী অধিবেশনে আইনটি পাসের জন্য তোলা হবে বলে জানা গেছে।
চূড়ান্ত খসড়ায় ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদ- বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দ-ের বিধান করা হয়েছে। কেউ এই অপরাধ করলে তাকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করা যাবে। বর্তমানে এই অপরাধে ৩ মাস কারাদ- বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। বর্তমান আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে কোনো অপরাধীকে লাইসেন্স দেয়া হবে না। আর আগে দেয়া হয়ে থাকলে তা প্রত্যাহার করা হবে। বাসচালকের সহকারী লাইসেন্স ছাড়া গাড়িতে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। এছাড়া রেজিস্ট্রেশন ছাড়া গাড়ি চালানো যাবে না। মোটরযানের মালিকানা পরিবর্তিত হলে তা ৩০ দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। দুর্ঘটনা ঘটলে ড্রাইভার, হেলপার বা তাদের প্রতিনিধিকে নিকটস্থ পুলিশ, থানা, দমকল স্টেশন এবং হাসপাতালকে জানাতে হবে এবং দুর্ঘটনাকবলিতদের দ্রুত চিকিৎসার উদ্যোগ গ্রহণের কথা খসড়ায় বলা হয়েছে।
সড়কে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আক্রমণাত্মক আচরণ ও জনরোষ নিয়ন্ত্রণে গাড়ির কোনো ক্ষতি না করার কথা বলা হয়েছে নতুন আইনে। ওই সময় চালক বা সহকারীদের ওপর কোনো আক্রমণাত্মক আচরণ করা যাবে না। দুর্ঘটনায় জড়িত মোটরযান বা মোটরযানের যাত্রী বা ঘটনাস্থলে সমবেত হয়ে জনশৃঙ্খলাপরিপন্থি কোনো ধরনের আচরণ করা যাবে না। এমনকি কোনো সংগঠনের ব্যানারেও এসব আচরণ করা যাবে না। চালকের সিটবেল্ট বাঁধা বাধ্যতামূলক, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনের ব্যবহার এবং বিপরীত লেন দিয়ে গাড়ি চলানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে এই আইনে। কেউ মানসিক বা শারীরিকভাবে অসুস্থ হলে, মদ্যপ হলে বা অন্যান্য অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হলে তার লাইসেন্স স্থগিত থাকবে। সুস্থতার প্রমাণ পেলেই লাইসেন্স আবার কার্যকর হবে। নিবন্ধন ছাড়া গাড়ি চালালে ৬ মাস কারাদ- ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদ- বা উভয়দ-ে দ-িত করা যাবে। ফিটনেস না থাকা মোটরযান চালালে বর্তমানে শাস্তি সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদ- বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানার দ্বিগুণ করে সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদ- বা সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা করার প্রস্তাব করা হয়েছে চূড়ান্ত খসড়ায়। গাড়ির মালিক এ শাস্তি ভোগ করবে।
গাড়ির চেসিস বা আকৃতির পরিবর্তন করলে তিন বছর কারাদ- এবং ৩ লাখ টাকা অর্থদ- বা উভয় দ-ের বিধান রাখা হয়েছে। বর্তমান আইনে এক্ষেত্রে ২ বছর কারাদ- এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদ-ের বিধান রয়েছে। চালকের কর্মঘণ্টাও নির্দিষ্ট করে দেয়ার কথা বলা হয়েছে চূড়ান্ত খসড়ায়। নতুন আইনে রাজধানী বা দেশের কোনো এলাকায় বা সারাদেশে মোটরযানের সংখ্যা এবং কোন যানবাহন কত বছর চালানো যাবে, তা নির্ধারণ করে দিতে পারবে সরকার। মোটরযানের গতিসীমা এবং শব্দমাত্রা নিয়ন্ত্রণের কথাও বলা আছে। পার্কিংয়ের স্থান নির্দিষ্ট করে দেয়ার কথাও বলা আছে। চালক কোনোভাবেই সহকারীকে গাড়ি চালাতে দিতে পারবে না, মদ্যপ বা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো যাবে না।
দুর্ঘটনায় কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাকে বা তার উত্তরাধিকারকে আর্থিক সহায়তা দিতে বা চিকিৎসার খরচ জোগাতে তহবিল করার কথাও আইনে বলা আছে। এছাড়া দুর্ঘটনার সংবাদ প্রদানের জন্য পুলিশ একটি টোল ফ্রি নম্বরও চালু করবে বলে আইনের চূড়ান্ত খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে।

শেষ কথা
গণপরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্টরা এবং নগর পরিকল্পনাবিদদের অনেকেই মনে করছেন, পরিবহন সেক্টরের শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্যে সম্প্রতি সরকার সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’র খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদানের পাশাপাশি সাম্প্রতিক গৃহীত সরকারের নানামুখী দৃশ্যমান উদ্যোগের ফলে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের গণপরিবহন ব্যবস্থা তথা পরিবহন সেক্টরের অব্যবস্থাপনা অনেক কমে আসবে এবং ধীরে ধীরে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। তারা আরো বলছেন, এ খাতের ব্যাপক পরিবর্তনের জন্য সরকারের পাশাপাশি সাধারণ জনগণ তথা সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন ও সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি হতে হবে এবং আইন মানার প্রবণতা জাগ্রত হতে হবে। তাহলেই কেবল অবস্থার আশানুরূপ উন্নয়ন হওয়া সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।