Uncategorized

‘সতীর্থ-স্বজন’ আয়োজিত স্মৃতিচারণায় বক্তারা আদর্শ তারুণ্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র শেখ কামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
উত্তরাধিকার সূত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নানা মানবিক ও নেতৃত্বের বিশেষ গুণাবলি পেয়েছিলেন শেখ কামাল। এর সঙ্গে শাণিত হয়েছিল সংস্কৃতিবোধ ও ক্রীড়া দর্শন। সংযুক্ত হয়েছিল দেশ ও মানুষের প্রতি অনুপম দরদ এবং দায়িত্ববোধ। খেলার মাঠ থেকে নাটকের মঞ্চ, সংগীতের ভুবন থেকে রাজনীতির ময়দানÑ সর্বত্রই ছিল তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি। ছিলেন বন্ধু ও সতীর্থদের মধ্যমণি। রাষ্ট্রপ্রধানের সন্তান হলেও তাঁর মধ্যে ছিল না অহংকার, ছিল না বিলাসিতা। তাই বন্ধু, সতীর্থ ও সহপাঠীদের চোখে বঙ্গবন্ধুতনয় শেখ কামাল হয়ে উঠেছিলেন স্বপ্নবান ও আদর্শ তারুণ্যের এক উজ্জ্বল প্রতিকৃতি।
৫ আগস্ট ছিল স্বপ্নচারী এই মানুষটির জন্মদিন। দিনটি উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উঠে আসে শেখ কামালের এসব গুণের কথা। তাঁর ৭০তম জন্মদিনে বন্ধু ও সতীর্থরা আবেগঘন এক আয়োজনে ফুটিয়ে তোলেন অনন্য এক শেখ কামালকে।
জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রিক এক আয়োজনে তাঁকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানান বন্ধু-সতীর্থরা। বন্ধুদের কখনো উচ্ছল হাসিতে, কখনো অশ্রুসজল চোখে ভেসে ওঠে শেখ কামালের অবয়ব।
ব্যক্তি শেখ কামাল, বন্ধু শেখ কামাল, সহপাঠী শেখ কামাল, সহযোদ্ধা শেখ কামাল, নাটকের শেখ কামাল, গানের শেখ কামাল, সংগঠক কামালÑ এমন নানা প্রসঙ্গে তাঁর অবদান তুলে ধরেন তাঁর বন্ধু-সতীর্থরা। ভিন্নধর্মী এ আয়োজনটি করে ‘সতীর্থ-স্বজন’ নামের সংগঠন। আয়োজনটি ছিল অত্যন্ত সাদামাটা। কোনো সভাপতি নেই। প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিও নেই। অনেকটা আড্ডার ছলে যেন ফিরে আসে ষাট ও সত্তরের দশকের উত্তাল দিনগুলো। সতীর্থ-স্বজনের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় সঞ্চালনা করেন অনুষ্ঠানটি। তিনিও ছিলেন শেখ কামালের সতীর্থ ও অনুজ বন্ধু। এরপর একে একে শেখ কামালের অন্যান্য ঘনিষ্ঠ বন্ধু, সহপাঠী, সতীর্থ আবেগঘন আবহে তুলে ধরেন সেই স্বপ্নবান তরুণের কথকতা। গোটা আয়োজনটিই ছিল স্মৃতিচারণামূলক। তাতে উঠে এসেছে শেখ কামালের জীবন ও কর্ম। সহপাঠী-বন্ধুদের মধ্যে স্মৃতিচারণা করেন শেখ কামালের সহপাঠী-বন্ধু মাসুরা হোসেন, আ ত ম মুনীরউদ্দিন, সৈয়দ শাহেদ রেজা, মুক্তিযুদ্ধে সহযোদ্ধা মেজর জেনারেল সাঈদ আহমেদ (অব.), খেলার মাঠের বন্ধু হারুনুর রশীদ, সাইদুর রহমান প্যাটেল, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান প্রমুখ।
হারুনুর রশিদ বলেন, শেখ কামালের চিন্তা চেতনা অত্যন্ত দূরদর্শী ছিল। ক্রীড়াঙ্গনকে কিভাবে আধুনিক করা যায় তিনি সবসময় সে চিন্তা করতেন। পরোপকারী মন থাকলে অল্প বয়সেই সমাজ-হিতৈষী কত কিছু করা যায় তার নজির সৃষ্টি করেছিলেন শেখ কামাল।
সাইদুর রহমান প্যাটেল বলেন, বিশ্বের বুকে ক্রীড়ার মাধ্যমে বাংলাদেশকে পরিচিত করানোই লক্ষ্য ছিল শেখ কামালের। তাই স্বাধীনতার পর তিনি ক্রীড়াঙ্গনকে ঢেলে সাজান। একটা স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ খেলাধুলায় এগিয়ে যাবে এটাই লক্ষ্য ছিল শেখ কামালের। তিনি বলেন, সারাদেশের যুবসমাজকে জানতে হবে কামাল কে ছিলেন এবং তিনি স্বল্প সময়ে দেশের জন্য কী কী করে গেছেন। তাই তরুণ প্রজন্মকে কামাল সম্পর্কে জানাতে হবে।
মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, একজন দক্ষ সংগঠক ছিলেন শেখ কামাল। শেখ কামালের মধ্যে যেসব গুণ ছিল তা তাঁর সমসাময়িক কারো মধ্যে আমি তা দেখিনি।
সতীর্থ-স্বজন আয়োজিত উপস্থিত বক্তাদের আলোচনায় উঠে আসে, শেখ কামাল সারা জীবন পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কাজ করে গেছেন। বাংলাদেশে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে কিভাবে উন্নত করা যায় সেই লক্ষ্যেই তিনি কাজ করে গেছেন। স্বাধীন দেশ হিসেবে খেলাধুলায় আমরা কিভাবে এগিয়ে যাব এই লক্ষ্যই ছিল কামালের।
‘সতীর্থ-স্বজন’ এর স্মৃতিচারণ ছাড়াও সারাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছেলে শেখ কামালের জন্মদিন উদযাপন করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো। উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল শেখ কামালের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন, মিলাদ মাহফিল, সংবাদচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনাসভা।
৫ আগস্ট সকালে বনানীতে শেখ কামালের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আওয়ামী লীগ। এ সময়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।
শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তিনি প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন; যিনি ছিলেন ক্রিকেটের একজন সংগঠক। বাংলাদেশে আধুনিক ফুটবলের জনক বলা যায় তাঁকে। তিনি ছিলেন একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা।’
শিল্পকলা একাডেমির চতুর্থ তলার চিত্রশালার ৬ নম্বর গ্যালারিতে যুবলীগের মাসব্যাপী সংবাদচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করা হয়। এতে বঙ্গবন্ধুর জীবনভিত্তিক ও ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলার সংবাদচিত্র প্রদর্শন করা হয়। আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এই সংবাদচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। বক্তব্য দেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদ সেরনিয়াবাত ও মজিবুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।