কলাম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি

নিরাপদ সড়কের দাবিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে স্বার্থান্বেষী মহল ছাত্রদের ওপর হামলার গুজব ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে তাদের অহিংস আন্দোলনকে সহিংস আন্দোলনে রূপ দেয়ার অপচেষ্টা করে। এতে দেখা যায়, কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিত উপায়ে নানা ধরনের গুজব তৈরি করে ফেসবুকের মাধ্যমে তা দ্রুত ছড়িয়ে দেয়। এই চক্র ফটোসপে এডিট করা বিভিন্ন হামলার ছবি ও অশ্লীল ভাষার প্ল্যাকার্ড তৈরি করে ফেসুবকে ভাইরাল করে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পুলিশ ও সরকারের মুখোমুখি করে তোলার চেষ্টা হিসেবে এই অপকর্ম করা হয়। কেউ ফেসবুকে এসে লাইভে জানিয়েছে ধানমন্ডিতে ২ জন মারা গেছে, কেউ কান্নাকাটি করে বলেছে ৪ জন শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছে, কেউ বলেছে আইডিয়াল স্কুলের ফারদিন ফাহিম নামে এক শিক্ষার্থী পুলিশের হামলায় মারা গেছে, আবার কেউ কেউ বলেছে ছাত্রলীগ পিটিয়ে হত্যা করেছে। তবে এসব সংবাদের কোনোটিরই সত্যতা পাওয়া যায়নি। অনেক ফেসবুক আইডি থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থীর মৃত্যুর গুজব, নৌমন্ত্রীর পদত্যাগ, প্রধানমন্ত্রীর ভুল বার্তা ইত্যাদি দেয়া হয়েছে। এসব গুজবের ভিডিও দেখার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আরো ফুঁসে ওঠে। চলমান আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে এসব গুজব ছড়ানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের উসকানিদাতা হিসেবে ২৮টি ফেসবুক ও টুইটার আইডি শনাক্ত করেছে প্রশাসন। এসব আইডির মালিক ও অ্যাডমিনদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ অভিযান শুরু করেছে। ইতোমধ্যে এ ২৮টি ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে রমনা থানায় একটি মামলা করেছে পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ। নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্রছাত্রীদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের সময় সব থেকে বেশি ভাইরাল হয়েছে অভিনেত্রী কাজি নওশাবার ভিডিও। এ অভিনেত্রী ফেসবুক লাইভে এসে কান্নাকাটি করে বলেন, ঝিগাতলায় দুইজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। একটু আগে ধানমন্ডির ঝিগাতলায় আমাদেরই ছোট ভাইদের একজনের চোখ তুলে ফেলা হয়েছে এবং দুইজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। আপনারা সবাই একসাথে হোন প্লিজ। ওদের প্রোটেকশন দেন, বাচ্চাগুলো আনসেভ অবস্থায় আছে, প্লিজ। আপনারা রাস্তায় নামেন, প্লিজ রাস্তায় নামেন, প্লিজ রাস্তায় নামেন এবং ওদের প্রোটেকশন দেন। মুখে কাপড় পেঁচিয়ে অপর এক নারী ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন। তাতে কান্নারত অবস্থায় মেয়েটি হাতজোড় করে বলেন, ঝিগাতলা ছাত্রলীগের অফিসে মেয়েদের আটকে রাখা হয়েছে, তাদের ধর্ষণ করা হচ্ছে। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক আহত ছাত্র বলছে, গুলিতে চার ছাত্র মারা গেছে ও চার ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। অবশ্য পরবর্তীতে সবকটি গুজবই শেষ পর্যন্ত মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এক্ষেত্রে আমরা মনে করি, গুজব তৈরিকারীরা যা করেছে প্রযুক্তির মাধ্যমেই করেছে। সেই প্রযুক্তির মাধ্যমেই সকল গুজব রটনাকারীকেও শনাক্ত করা সম্ভব। তাই এ বিষয়ে কোনো ছাড় নয় বরং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে এক্ষেত্রে অন্যরাও সাবধান হবে।