প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

১০ জেলার ৩০০ ইউনিয়নে অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রযুক্তির উৎকর্ষে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি। দেশের নানা ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। সরকারের নানা সেবা এখন ইন্টারনেটে পাওয়া যাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপায়ণের প্রথম শর্ত সর্বত্র ইন্টারনেট সংযোগ প্রতিষ্ঠা করা এবং এর খরচ জনসাধারণের হাতের নাগালে রাখা। শতভাগ মানুষকে না পারলেও প্রতিটি পরিবারকে ইন্টারনেটের আওতায় নিয়ে আসতেই হবে। নয়তো ডিজিটাল বাংলাদেশ কাগজ-কলমেই আটকে থাকবে। ১৮ কোটি মানুষকে প্রযুক্তি সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিতে হবে, অন্তত সঠিক ও ফেইক ওয়েবসাইট শনাক্তকরণ, ভাইরাস বা স্পাইওয়্যার সম্পর্কে ধারণা প্রদানসহ ইন্টারনেট দুনিয়ার নিরাপত্তা এবং এর ব্যবহার শেখাতেই হবে যথাসময়ে।
এত বড় একটা জনগোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ দেয়ার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আবার প্রশিক্ষণ যদি মানসম্মত না হয় তাহলে এর ভোগান্তি হবে ভয়াবহ। নাগরিকদের একটা বড় অংশ প্রযুক্তির সঙ্গে এখনও পরিচিত নয়। ডিজিটাল দুনিয়া মানে গ্লোবালাইজেশন। এখানে যেমন সহজে তথ্য পাওয়া যাবে তেমনি প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সরকার ঘোষণা করেছে, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে ডিজিটাল বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্যে অনেক দূর এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। আইসিটি খাতকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিলেও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট এখনও সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া যায়নি। তাই মানুষ মোবাইল নেটওয়ার্কের ওপর বেশি নির্ভরশীল।
আবার তৃণমূল পর্যায়ের গ্রাহকদের একটা বড় সমস্যা হচ্ছে মোবাইল ইন্টারনেট। ২ জিবি ডাটা কিনতে গড়ে ৩০০ টাকা খরচ হয়, যার মেয়াদ থাকে ৩০ দিন। একজন গ্রাহক কোনো কারণে যদি তার ডাটা ব্যবহার না করে রেখে দেন, তাহলে ৩০ দিনের মেয়াদ শেষে তা আর ব্যবহার করতে পারেন না। এভাবে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার অব্যবহৃত ডাটা এক্সপায়ার্ড হয়ে যাচ্ছে, যা গরিবের পকেট কাটার মতোই ব্যাপার। ডাটার মেয়াদ হবে অসীম, পাশাপাশি দাম কমাতে হবে ডাটা প্যাকের।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে নিরলস কাজ করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে প্রায় ১ কোটি গ্রামীণ জনগণকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসতে ১০ জেলার ৩০০ ইউনিয়নে অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ উদ্বোধন করেন।
ফাইবার বা ফাইবার অপটিক হলো এক ধরনের পাতলা ও স্বচ্ছ তন্তুবিশেষ, যা সাধারণত কাচ বা প্লাস্টিক দিয়ে বানানো হয়। ফাইবার অপটিক আলো পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। এটি উচ্চগতির ইন্টারনেট বা তথ্যপ্রবাহের আরেকটি বিকল্প প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে লম্বা দূরত্বে অনেক কম সময়ে বিপুল পরিমাণ তথ্য পরিবহন করা যায়। অপটিক্যাল ফাইবার মূলত টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত। এরই অংশ হিসেবে ১০ জেলার ৩০০ ইউনিয়নে অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ উদ্বোধন করা হয়েছে।
ন্যাশনাল ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট (ইনফো-গভর্নমেন্ট থার্ড ফেজ) প্রকল্পের অধীনে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং আইসিটি মন্ত্রণালয়ের আইসিটি বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল চীন সরকারের সহযোগিতায় ১০ জেলার ৩০০ ইউনিয়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, পটুয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, রাজশাহী ও চাঁদপুর জেলার ৩০০ ইউনিয়নের প্রায় ১ কোটি মানুষ এই সুবিধা ভোগ করবে। দেশের ২ হাজার ৬০০ ইউনিয়ন অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগের আওতায় আনার লক্ষ্যে ২০৩৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
১০ জেলার ৩০০ ইউনিয়নে অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে স্বাধীনতার সুফল এবং সরকারের সেবাসমূহ জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া এবং এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধু মৌলিক অধিকার খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং আবাসনসহ সরকারি সব ধরনের সেবা ধাপে ধাপে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন। এখন আমরা তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। তাঁর ডিজিটাল ভিশন কর্মসূচির প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পরে আওয়ামী লীগ যখন ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে তখন বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত ছিল না এবং দেশে কম্পিউটারের ব্যবহার ছিল বিরল। ক্ষমতা গ্রহণের পরে জনগণের জন্য কম্পিউটার সহজলভ্য করতে কম্পিউটার ও এর যন্ত্রপাতির কর প্রত্যাহার করেছি এবং ওই সময়ে কম্পিউটার বিষয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। তিনি বলেন, আমাদের সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পরে ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করে, যাতে জনগণ কারিগরি শিক্ষায় পিছিয়ে না থাকে এবং যাতে তারা উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারে। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার ভোলা জেলার প্রত্যন্ত চর কুকরিমুকরি থেকে শুরু করে গোটা দেশে ৫ হাজার ২০০টি ডিজিটাল সেন্টার গড়ে তুলেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারি অফিসের ২৫ হাজার ওয়েবসাইট নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম ওয়েবপোর্টাল চালু করেছে এবং ৮,৫০০টি পোস্ট অফিসকে ডিজিটাল সেন্টারে রূপান্তরিত করেছে।