রাজনীতি

ঈদের আমেজে উন্নয়নের বার্তা নিয়ে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রচারণা সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়ায় উজ্জীবিত দলের তৃণমূল নেতাকর্মী

নিজস্ব প্রতিবেদক
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রায় বছরখানেক আগে থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছে। প্রচারণা শুরুর পর থেকে দলটির সামনে সুযোগ হিসেবে এসেছে দুই ঈদ। ঈদুল ফিতরে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা সাধারণ মানুষের খুব কাছাকাছি গিয়েছেন। ঈদুল আজহায়ও নেতারা একই ধারা বজায় রেখে ভোটারের কাছাকাছি যাওয়ার কাজ সেরেছেন। ঈদুল ফিতরে নতুন কাপড় এবং ঈদুল আজহায় কোরবানীর মাংস প্রদানের মাধ্যমে তারা ভোটারের মন জয় করার চেষ্টা করেছেন। মোট কথা আওয়ামী লীগ নেতারা নির্বাচনি প্রচারণার কাজকে ঈদ উৎসবে ভালোমতোই কাজে লাগিয়েছেন।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে বর্তমান সংসদ সদস্য এবং সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় এলাকায় ছুটে গেছেন। ঈদের পরও অনেকে এখনো নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান করছেন। লক্ষ্য একটাই, ঈদকে কেন্দ্র করে যারা বাড়ি গিয়েছে, সঙ্গে স্থানীয় যারা আছে তাদের মন জয় করা। এর জন্য প্রার্থীরা ব্যাপক গণসংযোগসহ প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে এবং আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের বার্তা প্রচারে পোস্টার, ব্যানার, গেট নির্মাণ করে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন।
মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এবার ঈদুল আজহাকে উপলক্ষ করে ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার প্রত্যাশায় অনেক বেশি গণসংযোগ করেছেন। অনেকে নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় এবার অধিক পরিমাণে আর্থিক অনুদান এবং নানা ধরনের উপহারসামগ্রী বিতরণ করেছেন। প্রায় প্রত্যেকেই নিজ নিজ এলাকায় কোরবানি দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে মাংস বিতরণ করেছেন। আয়োজন করেছেন গণভোজের।
দীর্ঘদিন যেসব নেতা এলাকায় যাননি; তারাও এবার ছুটে গেছেন নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায়। নেতাকর্মী-সমর্থকদের খোঁজখবর নিয়েছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ঈদ উৎসবকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন। তাদের সুখ-দুঃখের খোঁজখবর নিয়েছেন।
ঈদ উপলক্ষে নিজ নির্বাচনি এলাকা ঝালকাঠিতে গিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। এলাকার সাধারণ মানুষের পাশাপাশি তিনি খোঁজখবর নিয়েছেন দলের নেতাকর্মী-সমর্থকদের।
অন্যদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদও ঈদ উপলক্ষে তার নির্বাচনি এলাকা ভোলায় যান। ঈদের পরদিন তিনি তার নির্বাচনি এলাকায় গণসংযোগ করেন। ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে এক কর্মিসভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এখন বিএনপির জন্য দুটি পথ খোলা আছে। হয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা, আর তা না হলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো। এটা তাদের ব্যাপার। তবে বিএনপি আসুক বা না আসুক, নির্বাচন হবেই। এই নির্বাচন ঠেকানোর ক্ষমতা বিএনপির নেই। কারণ যে দল ২০০৯ সালের পর থেকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে একটি আন্দোলন করতে পারেনি, ১৪ সালে নির্বাচন বানচাল করার জন্য মায়ের কোল খালি করেছে, প্রিসাইডিং অফিসার হত্যা করেছে, পুলিশ বুথ পুড়িয়ে দিয়েছে, পুলিশ হত্যা করেছেÑ তারপরও তারা সফল হয়নি। এবারও সফল হবে না। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কী বলল তাতে কিছু যায় আসে না।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নির্বাচনি প্রচারণার জন্য নিজ নিজ সংসদীয় আসনে ঈদুল আজহা পালন করায় সব আসনের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশ চাঙ্গাভাব লক্ষ্য করা যায়। মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা যেমন ভোটারের খোঁজখবর নেন, তেমনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে উপহারসামগ্রীও বিতরণ করেন। তবে ঈদটি ঈদুল আজহা হওয়ায় মাংস বিতরণের মাধ্যমে ভোটারের মন জয় করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশী নিজ সংসদীয় আসনের প্রতিটি ইউনিয়নে পশু কোরবানীর ব্যবস্থা করেন। বর্তমান এমপিরাও পশু কোরবানীর মাধ্যমে মাংস বিতরণ করে সংসদীয় আসনের ভোটারদের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করেন।
তবে একটি বিষয় অনেকের মধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। বিষয়টি হলো প্রায় প্রতিটি আসনে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীর উপস্থিতি। কোনো কোনো সংসদীয় আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা ১০ জনও ছাড়িয়ে গেছে। এদের প্রত্যেকেই দাবি করতে থাকে দলীয় হাই কমান্ড তাকেই প্রার্থী হিসেবে গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছে। বিষয়টি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি করে। তবে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা নিজেদের ভাগ্যবানও ভাবতে থাকে এজন্য যে, তারা প্রত্যেক মনোনয়নপ্রত্যাশীর কাছ থেকেই মূল্যায়ন পাচ্ছেন। বললে বেশি হবে না যে, এবার ক্ষমতাসীন দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে আশাতীত ঈদ বকশিস পেয়েছেন।
এবারের ঈদুল আজহায় বিভিন্ন সংসদীয় আসনে নতুন মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপের কাছে বর্তমান এমপিরা ছিলেন অনেকটা কোণঠাসা। বর্তমান এমপিদের প্রায় প্রত্যেকেই নিজ সংসদীয় এলাকায় ঈদ করলেও নতুন মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কারণে নেতাকর্মীর অভাবে ভুগেছেন। তৃণমূলের বেশিরভাগ নেতাকর্মীই ব্যবসায়ী শ্রেণির প্রার্থীদের পেছনে সময় ব্যয় করেছেন। প্রত্যেকেই আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হওয়ায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা যার কাছ থেকে বেশি সুবিধা পেয়েছেন তার দিকেই ঝুঁকেছেন। ফলে বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা হয়ে পড়েছেন বহুধাবিভক্ত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীর তৎপরতার কারণে বিভিন্ন সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভিত এলোমেলো হয়ে পড়ছে। আওয়ামী লীগ যদি ৬ মাস আগে থেকেই প্রতিটি আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিত, তাহলে এখন উন্নয়নের প্রচারণা চালানো যেতো সম্মিলিতভাবে। এখন একেক জন একেক উপায়ে সরকারের উন্নয়ন বার্তা প্রচার করছে; যা আওয়ামী লীগের তৃণমূলকে দ্বিধান্বিত করে তুলছে।