খেলা

এশিয়া কাপ ক্রিকেটের উত্তেজনা শুরু : বাংলাদেশের ভালো করার আশাবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০১৮ এশিয়া কাপ ক্রিকেটের সময়সূচি ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। চলতি বছর এশিয়া কাপ ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও নয়া দিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যকার চলমান শীতল সম্পর্কের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতকেই ভেন্যু হিসেবে বেছে নিয়েছে আইসিসি।
২০০৮ সালে মুম্বাই আক্রমণের পর থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে ভারত। কিন্তু বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে দুই দল ঠিকই একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে। গত বছরও ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে এই দুই দেশ মুখোমুখি হয়েছিল এবং ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
এশিয়া কাপ ক্রিকেটকে ঘিরে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ক্রিড়ামোদীদের মধ্যে উৎসাহ-উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভেন্যু আরব আমিরাত হওয়ায় তাদের মধ্যে উত্তেজনাটা যেন একটু বেশি। তাছাড়া টুর্নামেন্টটি ৫০ ওভারের ফরমেটে হওয়ায় এবং এই ফরমেটের বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি হওয়ায় সবার মধ্যেই উৎসাহ-উদ্দীপনা যেন একটু বেশি। অনেকেই মনে করেন, এশিয়া কাপে যতগুলো দল অংশ নিচ্ছে, তারমধ্যে অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফি সবচেয়ে সিনিয়র ও অভিজ্ঞ। সে হিসেবে এবারের এশিয়া কাপ বাংলাদেশের ঘরে উঠতে পারার সম্ভাবনায় ক্রিড়ামোদিদের মধ্যে উত্তেজনার পারদ ঊর্ধ্বমুখী।
আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কা বনাম বাংলাদেশের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে এশিয়া কাপের পর্দা উঠবে। ৬টি দল এই প্রথমবারের মতো দু’টি গ্র“পে বিভক্ত হয়ে এশিয়া কাপে অংশ নিচ্ছে। গ্র“প-এ তে আছে ভারত, পাকিস্তান ও বাছাইপর্ব থেকে উঠে আসা দল এবং গ্র“প-বিতে আছে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। প্রতি গ্র“পের শীর্ষ দু’টি দল নিয়ে সুপার ফোর অনুষ্ঠিত হবে। সুপার ফোরের শীর্ষ দু’টি দল ২৮ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে ফাইনালে মুখোমুখি হবে।
২৯ আগস্ট থেকে বাছাইপর্ব শুরু হয়েছে। চলবে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। বাছাইপর্বে অংশ নেয়া ৬টি দল হলোÑ সিঙ্গাপুর, হংকং, মালয়েশিয়া, নেপাল, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই ৬টি দল থেকে যে দল চ্যাম্পিয়ন হবে, সে দলটি গ্রুপ-এ’র তৃতীয় দল হিসেবে মূলপর্বে খেলবে।
এশিয়া কাপ আগে ৪ বছর পর পর অনুষ্ঠিত হলেও বর্তমানে ২ বছর পর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগে ৫০ ওভারের ফরম্যাটে টুর্নামেন্ট হলেও গত ২ টার্মে অর্থাৎ ২০১৪ ও ২০১৬ সালে টি-২০ ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হয়। এবার আবারো প্রথাগত ৫০ ওভারের ফরম্যাট ফিরে এসেছে।
বাংলাদেশের জন্য সুখস্মৃতি হয়ে আছে একাদশ এশিয়া কাপ; যা ঢাকাতে অনুষ্ঠিত হয় ২০১২ সালে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলেছিল। রোমাঞ্চকর ওই ম্যাচে বাংলাদেশ মাত্র ২ রানে হেরেছিল। শেষ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৪ রানের, কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান ১ রান করলে ২ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ।
প্রথম বারের মতো টুর্নামেন্টের ইতিহাসে বাংলাদেশ ফাইনালে জায়গা করে নিতে দোর্দ- প্রতাপে হারায় ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে। ফাইনালে পাকিস্তান মাত্র ২৩৬ রানের টার্গেট দেয় বাংলাদেশকে। কিন্তু বাংলাদেশের রানের চাকা থেমে যায় ২৩৩ রানে।
ফাইনালে ওই ম্যাচটি হেরে গেলেও এশিয়া কাপে এখন পর্যন্ত এটাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন। সেই অর্জনকেই লক্ষ্য ধরে বাংলাদেশ আশা করছে এবার আবারো ফাইনালে উঠবে এবং চ্যাম্পিয়ন হবে।

এশিয়া কাপের সূচি
১৫ সেপ্টেম্বর : বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা (দুবাই)
১৬ সেপ্টেম্বর : পাকিস্তান বনাম বাছাইপর্বের দল (দুবাই)
১৭ সেপ্টেম্বর : শ্রীলঙ্কা বনাম আফগানিস্তান (আবুধাবি)
১৮ সেপ্টেম্বর : ভারত বনাম বাছাইপর্বের দল (দুবাই)
১৯ সেপ্টেম্বর : ভারত বনাম পাকিস্তান (দুবাই)
২০ সেপ্টেম্বর : বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান (আবুধাবি) সুপার ফোর
২১ সেপ্টেম্বর : গ্র“প-এ চ্যাম্পিয়ন বনাম গ্র“প-বি রানার্স-আপ (দুবাই)
২১ সেপ্টেম্বর : গ্র“প-বি চ্যাম্পিয়ন বনাম গ্র“প-এ রানার্স-আপ (আবুধাবি)
২৩ সেপ্টেম্বর : গ্র“প-এ চ্যাম্পিয়ন বনাম গ্র“প-এ রানার্স-আপ (দুবাই)
২৩ সেপ্টেম্বর : গ্র“প-বি চ্যাম্পিয়ন বনাম গ্র“প-বি রানার্স-আপ (আবুধাবি)
২৫ সেপ্টেম্বর : গ্র“প-এ চ্যাম্পিয়ন বনাম গ্র“প-বি চ্যাম্পিয়ন (দুবাই)
২৬ সেপ্টেম্বর : গ্র“প-এ রানার্স-আপ বনাম গ্র“প গ্র“প-বি রানার্স-আপ (আবুধাবি)
২৮ সেপ্টেম্বর : ফাইনাল (দুবাই)