প্রতিবেদন

কোরবানির বর্জ্য অপসারণে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
কোরবানির বর্জ্য অপসারণে এবার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজধানী থেকে বর্জ্য অপসারণের লক্ষমাত্রা অনেকটাই পূরণ হয়েছে। ঈদের দিন যেসব পশু কোরবানী হয়, তার বর্জ্য ঈদের পরদিন বেলা ২টার মধ্যেই অপসারণ সম্ভব হয়। কিন্তু ঈদের দ্বিতীয় দিনে আবার যেসব পশু কোরবানী হয়, সেসবের বর্জ্য নতুন করে সমস্যা তৈরি করে। কোনো ঈদের দ্বিতীয় দিনে রাজধানীতে এত পশু কোরবানি হয় না; যা এবার হয়েছে। ঈদের তৃতীয় দিনেও রাজধানীতে পশু কোরবানী হতে দেখা যায়। এসবের ফলস্বরূপ প্রকৃত অর্থে রাজধানী থেকে কোরবানীর বর্জ্য অপসারণে ২৪ ঘণ্টার জায়গায় ৭২ ঘণ্টা লেগে যায়।
তারপরও কোরবানীর বর্জ্য অপসারণে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন থেকে যে নিশ্চয়তা দেয়া হয় তা অনেকটাই পূরণ হয় বলে নাগরিকরা মন্তব্য করেছেন। দুই সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষও যথাযথ সময়ে বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে বলে দাবি করে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নিজস্ব ২ হাজার ৭০০ জন পরিচ্ছন্ন কর্মীসহ সর্বমোট ৯ হাজার ৫০০ জন পরিচ্ছন্ন কর্মী নিরলস পরিশ্রম করে পূর্ব ঘোষিত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সংস্থাটির আওতাধীন এলাকা কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করেছে বলে দাবি করেছে ডিএনসিসি। ২৩ আগস্ট সংস্থাটি কর্তৃক আয়োজিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত ঈদুল আজহা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ বছর কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন পূর্ব ঘোষিত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সাফল্যের সাথে সমাপ্ত করতে পেরেছে। এ বছর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এলাকাসমূহে প্রথমদিনে আনুমানিক ২ লাখ ১৫ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কর্তৃক ১৮৩টি পশু জবাইয়ের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল। এছাড়া সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন আবাসিক কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে উপযুক্ত স্থান হিসেবে চিহ্নিত ৩৬৬টি স্থানসহ মোট ৫৪৯টি স্থানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পশু কোরবানি দেয়া হয়েছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবছর নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানিতে জনগণের সাড়া ছিল উৎসাহব্যঞ্জক। নির্ধারিত স্থানে পশু জবাইয়ের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, ১ হাজার ৫৪৫টি ট্রিপে ৮ হাজার ৫০০ টন বর্জ্য ল্যান্ডফিলে পরিবহন করা হয়েছে। এই স্বল্পসময়ে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ, বর্জ্য ব্যবস্থায়ন এবং সড়ক পরিচ্ছন্নতা কাজে ২৮০টি বিভিন্ন ধরনের যান-যন্ত্রপাতি নিয়োজিত ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেসবাহুল ইসলামসহ অনেকে।
অপরদিকে ঘোষিত ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে নগরীর ৯০ শতাংশ কোরবানির বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সিটি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন ২৩ আগস্ট বর্জ্য অপসারণ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।
ঈদের দিন বেলা ২টা থেকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে কোরবানীর বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দিয়ে নগরীতে কাজ শুরু করে।
মেয়র বলেন, ঘোষণা দিয়েছিলাম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করা হবে। সেই কাজ অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত বর্জ্য থাকবে ততক্ষণ পরিচ্ছন্ন কর্মীরা মাঠে থাকবে। শতভাগ বর্জ্য অপসারণ করে নগরবাসীকে একটি বর্জ্যমুক্ত নগরী উপহার দেয়া হবে।
মেয়র বলেন, ডিএসসিসির লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২০ হাজার মেট্রিক টন কোরবানির বর্জ্য হবে। এরই মধ্যে ১৫ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। বাকি ৫ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণের মাধ্যমে শতভাগ পরিষ্কার করে নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন নগরী উপহার দেবো।
ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিল্লাল, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. শফিকুল আলম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শেখ সালাহউদ্দিন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সাংবাদিক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ এবং স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সৈয়দ আবুল মকসুদ এ সময় বলেন, বর্জ্য অপসারণে সিটি করপোরেশন সন্তোষজনক কাজ করেছে। এটি প্রশংসনীয়। তবে নাগরিকরা নির্ধারিত স্থানে কোরবানী করেননি। আশা করছি আগামীতে তারা এ বিষয়ে সচেতন হবেন।
স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, চেষ্টা করলে সম্ভবÑ এটা মেয়র সাঈদ খোকন প্রমাণ করেছেন। তিনি গভীর রাত পর্যন্ত নগর ভবনে উপস্থিত থেকে এটি নিশ্চিত করেছেন। আশা করছি অমীমাংসিত অন্যান্য সমস্যা নিরসনে তিনি তৎপর হবেন।
এর আগে নির্দিষ্ট স্থানে কুরবানির পশু জবাইয়ের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনে মোট ২ হাজার ৯৩৬টি স্থান নির্ধারণ করে দেয়। ঈদের আগে সচিবালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় এ কথা জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুরবানির পশু জবাই ও দ্রুত বর্জ্য অপসারণকল্পে কর্মপরিকল্পনা ও প্রস্তুতি-পর্যালোচনা সংক্রান্ত এ সভায় আলোচনাকালে তিনি এ কথা জানান।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. সাঈদ খোকন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভিসহ দেশের সকল সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে পাড়ায় পাড়ায় যথেষ্ট লোক নিয়োগ করে নির্দিষ্ট স্থানে পশু কুরবানি নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি কাউন্সিলরদের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করায় সিটি করপোরেশনের মেয়রদের প্রতি আহ্বান জানান। নিজ বাড়িতে কেউ কুরবানি করলে নিজ দায়িত্বে কুরবানির স্থান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখারও আহ্বান জানান।
বর্জ্য ফেলার জন্য সিটি করপোরেশন বিনামূল্যে পলিথিন ব্যাগ ও ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করার কথা জানান তিনি।
তবে কোরবানীর বর্জ্য অপসারণে রাজধানীবাসী বরাবরের মতো এবারও ব্যক্তিগত সাড়া দেয়নি। সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানী করেনি অনেকেই। অনেকেই রাস্তায় পশু কোরবানী করে বর্জ্য রাস্তায় ফেলে কোরবানীর গোস্ত নিয়ে বাসায় চলে গেছেন; বর্জ্য অপসারণের দায়িত্বটি সিটি করপোরেশনের ওপর ফেলে রেখেছেন। সিটি করপোরেশন বর্জ্য অপসারণের দায়িত্ব যথাযথ পালন করলেও নাগরিকরা তাদের দায়িত্ব পালন করেননি মোটেও। সুনাগরিকের পরিচয় দিতে পারেনি রাজধানীবাসীর অনেকেই।