প্রতিবেদন

মানবিক কারণে আশ্রয়প্রাপ্ত নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বিশ্বসম্প্রদায়ের কার্যকর হস্তক্ষেপ জরুরি

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও সেদেশীয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকদের অত্যাচার-নির্যাতন এখনও চলছেই। ১ বছর আগে থেকে শুরু হওয়া রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশমুখী ঢল এখনো থামছে না। জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের জন্য মিয়ানমার সরকারের কঠোর সমালোচনার পাশাপাশি মানবিক কারণে আশ্রয় দেয়া নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের দ্রুত বাংলাদেশ থেকে তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে। জাতিসংঘ মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর প্রতি মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বানও জানিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, রোহিঙ্গারা স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ জীবনধারণের মৌলিক অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে নানাভাবে বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হচ্ছে। অথচ মিয়ানমার সরকার এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া এবং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে নানা টালবাহানা করছে। কয়েক দশক ধরেই মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চলছে। এতে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বাহিনীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে আসছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করাই যে এসব হামলার মূল লক্ষ্য, তা স্পষ্ট। জাতিসংঘ, ওআইসিসহ বিভিন্ন সংস্থা ও প্রভাবশালী দেশ একে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে মিয়ানমারের কঠোর সমালোচনা করে যাচ্ছে। এসব সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে দ্রুত প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার যে ধরনের জোরালো ভূমিকা নেয়ার প্রয়োজন ছিল, দুঃখজনকভাবে তার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বিশ্ব শুধু বাংলাদেশের প্রশংসা করে যাচ্ছে। কিন্তু রোহিঙ্গারা যে দিনের পর দিন বাংলাদেশে অবস্থান করে এদেশের আর্থসামাজিক অবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে যাচ্ছে, সে বিষয়ে কেউই কিছু বলছে না। রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমারের আচরণের প্রতিবাদের মধ্যেই সবাই সবার কর্মকা- সীমিত রেখেছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের এমন নতজানু মনোভাবের কারণে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার সাহস দিন দিনই বেড়েই চলেছে। সামরিক জান্তার হাতের পুতুল অং সান সূ চি এখন উল্টো কথা বলছেন। তিনি বলছেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশই নাকি বড় বাধা। অথচ বাংলাদেশ আজ ১ বছরের বেশি সময় ধরে রোহিঙ্গাদের খাদ্য, বস্ত্র বাসস্থান ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারের লোকজন ভয়াবহ সমস্যার মধ্যে আছে। তারা স্থানীয় লোকজনের গাছপালা কেটে উজাড় করছে। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয়টি হলো তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। অনেক রোহিঙ্গা পরিচয় গোপন করে বাংলাদেশি পাসপোর্ট তৈরি করে বিদেশে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছে। মোট কথা, রোহিঙ্গাদের জন্য এক অমানবিক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে কুতুপালংসহ সবগুলো শরণার্থী ক্যাম্পে। এক দেশের অভ্যন্তরীণ ঝামেলার জন্য আরেক দেশ যে কী সমস্যায় পড়তে পারে তার নিদারুণ উদাহরণ হলো বাংলাদেশ। তাই বিশ্ব সম্প্রদায় ও বিশ্বনেতাসহ জাতিসংঘের প্রতি বাংলাদেশের উদাত্ত আহ্বান, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে জোরালো পদক্ষেপ নিয়ে বাংলাদেশকে এই অপ্রত্যাশিত ঝামেলা থেকে রক্ষা করুন। প্রয়োজনে মিয়ানমারের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করা হোক। এক্ষেত্রে আমরাও মনে করি, জাতিসংঘের মাধ্যমে মিয়ানমারকে কঠোর হস্তে নিবৃত্ত করা না গেলে বাংলাদেশ এ অনভিপ্রেত ঝামেলা থেকে আদৌ মুক্তি পাবে না।