প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

আইআরআই জরিপের ফলাফল : বাংলাদেশের জনগণের মাঝে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতায় এগিয়ে শেখ হাসিনা

সাবিনা ইয়াছমিন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপকথার ফিনিক্স পাখির মতো; আগুনের ছাই থেকে উঠে এসেও নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশকে। অথচ এ দেশেই একদিন আততায়ীর হাতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছিলেন তাঁর বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন। নিজেও হামলার শিকার হয়েছেন বেশ কয়েকবার। এত কিছুর পরও বাংলাদেশের মাটিকে ভালোবেসে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত, সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে পথ চলছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই দৃঢ়চেতা প্রত্যয়ের কারণে বাংলাদেশের জনগণের মাঝে তাঁর জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের ৬৬ শতাংশ নাগরিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি ৬৪ শতাংশ নাগরিক আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
ওয়াশিংটন ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) পরিচালিত এক জরিপের ফলাফলে এ কথা বলা হয়। এ বছরের ১০ এপ্রিল থেকে ২১ মে’র মধ্যে এই জরিপ পরিচালিত হয়।
এতে বলা হয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি আশানুরূপভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ৬২ শতাংশ নাগরিক মনে করেন অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় দেশ সঠিক পথে আছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৬৯ ভাগ নাগরিক।
আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইনসাইট অ্যান্ড সার্ভের এক গবেষণা প্রতিবেদনে ৩০ আগস্ট এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বেড়েছে। ৬৬ ভাগ নাগরিকের কাছে জনপ্রিয় শেখ হাসিনা। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রতি ৬৪ ভাগ নাগরিকের সমর্থন রয়েছে।
গবেষণা প্রতিবেদনের নোটে বলা হয়েছে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদপে গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। আর সে কারণেই ৬৮ ভাগ নাগরিক জননিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট। এর মধ্যে ৫৭ ভাগ মনে করছেন, সামনে জননিরাপত্তা ব্যবস্থার আরো উন্নতি হবে।
জরিপের ফলাফলে বলা হয়, সরকারি বিভিন্ন সেবা প্রদানের েেত্রও জনসন্তুষ্টির পরিমাণ বেড়েছে। জনস্বাস্থ্য খাতে সরকারি সেবায় সন্তুষ্ট ৬৭ ভাগ মানুষ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৬৪ ভাগ নাগরিক। এ ছাড়া সড়ক ও ব্রিজের উন্নয়নের প্রভাব নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৬১ ভাগ নাগরিক।
দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক আবহ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৫১ ভাগ নাগরিক। পার্লামেন্টের কার্যক্রমের ওপর তাদের আস্থা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। নাগরিকদের কাছে ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ৮১ ভাগ জানায়, আগামী নির্বাচনে তারা ভোট প্রদান করবেন। এদের মধ্যে ৫১ ভাগ দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক আবহের পে মত প্রদান করেন।
চলতি বছরের এপ্রিলের ১০ তারিখ থেকে ২১ মে পর্যন্ত এই পরিসংখ্যান চালানো হয়। সেখানে দেশের মোট জনসংখ্যাকে কিছু স্তরে ভাগ করে কয়েকটি পর্বে বাছাই করা হয় (মাল্টি স্টেজ স্ট্রেটিফাইড প্রবাবিলিটি স্যাম্পল) এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি অথবা বাসায় (ইন পারসন/ইন হোম) ফোন করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণার জন্য স্তরগুলো দেশের বিভাগ ও জেলা এবং গ্রাম ও শহর হিসেবে ভাগ করে নেয়া হয়। এই গবেষণার জন্য ৫ হাজার মানুষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয় যাদের বয়স ১৮ বা তার বেশি এবং আগামী নির্বাচনে ভোট দেয়ার অধিকার রাখেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিক ইনস্টিটিউট (আইআরআই)-এর গবেষণা প্রতিবেদনেও কাছাকাছি ফল পাওয়া যায়। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত গবেষণা সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬৪ ভাগ নাগরিক মনে করে, দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
২০১৫ সালে ব্রিটিশ কাউন্সিল, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) যৌথ পরিসংখ্যানেও একই কথা বলা হয়।
প্রতিবেদন জানানো হয়, ৭৫ ভাগ তরুণের মতে বাংলাদেশ আগামী ১৫ বছরে আরো উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে এবং তাদের মধ্যে ৬০ ভাগ তরুণ মনে করেন দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এই গবেষণা প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বিশ্বস্ত নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে ৭২ দশমিক ৩ ভাগ নাগরিক দেশ পরিচালনায় শেখ হাসিনার পে ‘ভালো’ মত প্রকাশ করেন। এই প্রতিবেদনেই ২৬ দশমিক ৬ ভাগ নাগরিক দেশ পরিচালনায় খালেদা জিয়ার পে ‘ভালো’ মত প্রকাশ করেন।
২০১৫ সালে আইআরআই প্রকাশিত অপর এক জরিপ অনুসারে, ৬৭ ভাগ নাগরিক দেশ পরিচালনায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখেন।

শেখ হাসিনা জনগণের মাঝে
যেভাবে অর্জন করলেন
অসম্ভব জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তাঁর টানা ১০ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশের সোপানে তুলে বাস্তবায়ন করেছেন ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন। স্বাধীনতার চার দশক পর হলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে জাতিকে করেছেন কলঙ্কমুক্ত। মাথা নত করেননি দেশি-বিদেশি অজস্র চক্রান্তের কাছে। উল্টো সাহসিকতা, মানবিকতা ও নেতৃত্বগুণে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পেয়েছেন শতাধিক পুরস্কার, অর্জন ও উপাধি। দেশের গ-ি পেরিয়ে তিনি এখন বিশ্বনেত্রী।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন অনুকরণীয় নেতৃত্ব। খাদ্যনিরাপত্তা, শান্তিচুক্তি, যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, সমুদ্র বিজয়, নিজস্ব স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মহাকাশ বিজয়, নারীর মতায়ন, অর্থনৈতিক উন্নতি, স্বাধীনতার মর্যাদা রায় সমুজ্জ্বল তিনি। বিপথগামী একদল সেনা কর্মকর্তার হাতে বাবা-মা, ভাইসহ পুরো পরিবার নিহত হওয়ার পর নির্বাসনে ছিলেন ৬ বছর। সব বাধা উপো করে ও জীবনবাজি রেখে দেশে ফেরেন ১৯৮১ সালে। তাঁর এই ফিরে আসাটা ছিল গণতন্ত্রের মুক্তি, দেশের উন্নয়ন ও প্রগতির নবস্বপ্ন। নিজের নীতি ও আদর্শকে সমুন্নত রাখার এই যাত্রায় আততায়ীর হামলার শিকার হয়েছেন ১৯ বার। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে যাওয়াটা ছিল নতুন জীবন।
সত্তরোর্ধ্ব শেখ হাসিনার হাসি এখনো প্রাণবন্ত। সোনার বাংলা থেকে ুধা ও দারিদ্র্যকে বিদায় করে বাবার স্বপ্নপূরণের জন্যই যেন তার ছুটে চলা। আশির দশকে যেমন তিনি ভাঙনের হাত থেকে রা করেছেন দলকে, তেমনি একটি অনুন্নত দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। দীর্ঘ তিন যুগ ধরে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে মতায় এনেছেন তিনবার। তার নেতৃত্বেই আওয়ামী লীগ এখন অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের দিনবদলের যাত্রা শুরু হয় ২০০৮ সালে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৬৪টিতেই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট জয়লাভ করে। শুরু হয় রূপকল্প ২০২১-এর পথযাত্রা। জাতীয় প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় রেকর্ড ছাড়ায় অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে। নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষণা দিয়ে বিচার করেন চিহ্নিত রাজাকার-আলবদর নেতাদের। যদিও শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের যারা একসময় মন্ত্রী-এমপি ছিলেন, তাদের বিচারকে প্রভাবিত করতে বহির্বিশ্বের নানা চাপ ছিল।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের অনেকগুলো দলই অংশ নেয়নি। এ জন্য অনেকের মধ্যে একটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব আছে। তবে আওয়ামী লীগ সভাপতির মতে, দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রায় ওই নির্বাচনের বিকল্প ছিল না। চলতি মেয়াদসহ তিনবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। অর্থনীতির প্রতিটি সূচকে এগিয়ে যাচ্ছে লাল-সবুজের বাংলাদেশ। বিশ্বের কাছে একটি রোলমডেল। সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনেও তিনি বিশ্বনেতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সাফল্য ছিল ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারতের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানি চুক্তি। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ এখনো কম-বেশি পানির ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছে। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে ুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালিদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের রক্তয়ী সংঘর্ষ বন্ধে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বারিত হয়।
বিভিন্ন জটিলতায় সেই চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হলেও এখন আর পাহাড়ে আগের মতো যুদ্ধের ডামাডোল নেই। শেখ হাসিনার আমলেই ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরের বছর থেকেই দিবসটিকে যথাযথ মর্যাদায় পালন করছে জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলো। ২০০৯ সালে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য হেগের সালিশি আদালতে নোটিশ করে। এর পথ ধরেই ২০১২ সালে মিয়ানমার ও ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ সমুদ্রসীমার রায় পায়। এতে সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশ ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের রাষ্ট্রীয় সমুদ্র, ২০০ নটিক্যাল মাইল একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল মহীসোপান এলাকায় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। শেখ হাসিনার চলতি মেয়াদে ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি কার্যকর করায় দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান হয়। ৬৮ বছর পর নাগরিক হিসেবে পরিচয় পায় ছিটমহলবাসী।
নানা েেত্র অবদান রাখায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন শেখ হাসিনা। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, শিা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা তাকে সম্মাননা দিয়েছে। চলতি বছর পশ্চিমবঙ্গের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার (ডি-লিট) ডিগ্রি প্রদান করে। নারীর মতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য একই বছর পেয়েছেন গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় ২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যের টেলিভিশন চ্যানেল ফোর তাকে মাদার অব হিউম্যানিটি আখ্যা দেয়, দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস আখ্যা দিয়েছে স্টার অব দি ইস্ট।
২০১৬ সালে শেখ হাসিনাকে এজেন্ট অব চেঞ্জ পুরস্কার ও প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন পুরস্কার প্রদান করে জাতিসংঘ। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার-২০১৫ চ্যাম্পিয়ন অব দি আর্থ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন ও তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য পান আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার। রাজনীতিতে নারী-পুরুষের বৈষম্য কমানোর েেত্র দণি ও দণি-পূর্ব এশিয়ায় নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালনের জন্য পান উইম্যান ইন পার্লামেন্ট (ডব্লিউআইপি) গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড। নারী ও শিশু শিা উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৪ সালে শেখ হাসিনাকে শান্তিবৃ পদক পুরস্কারে ভূষিত করে ইউনেস্কো। সমুদ্রসীমা জয়ের জন্য ২০১৪ সালে সাউথ সাউথ পুরস্কার দেয় জাতিসংঘ।
এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন অবদানের জন্য মান্থন অ্যাওয়ার্ড, ডিপ্লোমা অ্যাওয়ার্ড, কালচারাল ডাইভারসিটি অ্যাওয়ার্ড, গ্লোবাল ডাইভারসিটি অ্যাওয়ার্ড, সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড, জাতিসংঘের মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অ্যাওয়ার্ড, ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পদক-২০০৯, পার্ল এস বাক পদক, ডক্টরস অব হিউম্যান লেটার্স, সেরেস পদক, মাদার তেরেসা পদক, ইউনেস্কোর ফেলিং হুফে বইনি শান্তি পুরস্কার, নেতাজি মেমোরিয়াল পদক-১৯৯৭সহ বিদেশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ও সম্মাননা পেয়েছেন।
পাশাপাশি শেখ হাসিনা তাঁর নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্বের কারণে বিভিন্ন স্বীকৃতিও অর্জন করেছেন। এর মধ্যে বিশ্বখ্যাত ফোর্বস সাময়িকীর দৃষ্টিতে বিশ্বের মতাধর শত নারীর তালিকায় ৩৬তম এবং টাইমস সাময়িকীর জরিপে ২০১১ সালে বিশ্বের সেরা প্রভাবশালী নারী নেতাদের তালিকায় সপ্তম স্থান দখল করেন তিনি।

রাষ্ট্র পরিচালনার শত ব্যস্ততার পাশাপাশি বাঙালি নারীর মতো ঘরসংসারও দতার সঙ্গে সামলেছেন শেখ হাসিনা। ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলও নানা ও মায়ের আদর্শ ধারণ করেন। তার প্রয়াত স্বামী ড. এম ওয়াজেদ মিয়া ছিলেন একজন স্বনামধন্য পরমাণুবিজ্ঞানী।
দিনের নির্দিষ্ট একটি সময়ে নাতি-নাতনিদের সঙ্গেও একান্তে সময় কাটান শেখ হাসিনা। ইসলাম ধর্মের অনুশাসন প্রতিপালন করা এই নেত্রীর দিন শুরু হয় ফজর নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে। সূর্য ওঠার আগেই ঘুম থেকে উঠে দিনের পরিকল্পনা শুরু করেন তিনি। এভাবেই প্রতিদিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।