ফিচার

ডেঙ্গু প্রতিরোধে যেসব কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন

স্বদেশ খবর ডেস্ক
ডেঙ্গু জ্বর হচ্ছে চার ধরনের ভাইরাসজনিত ট্রপিক্যাল বা উষ্ণম-লীয় রোগ। এটি একটি ভাইরাসজনিত জ্বর। এডিস মশা এই ভাইরাস বহন করে। আমাদের দেশে জুন-জুলাই মাসে এই জ্বরের বিস্তার বেশি হয়। সারাবিশ্বে বছরে ৪০০ মিলিয়নের মতো লোক এ জ্বরে আক্রান্ত হয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৃথিবীতে এখনও কোনো টিকা উদ্ভাবিত হয়নি। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতাই উত্তম ব্যবস্থা।
প্রতিবারের মতো বাংলাদেশে এবারও এ জ্বরের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে এবং ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ মহল বলেছেন, ডেঙ্গু জ্বর সৃষ্টির পেছনে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরাই দায়ী; কারণ অসাবধানতাবশত আমাদের ঘরের কোণে, বাড়ির ছাদে এবং বাগানের ফুলের টবে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতেই এডিস মশা বংশ বিস্তার করে থাকে।

ডেঙ্গু জ্বরের লণ
একজন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির সাধারণত উচ্চ জ্বর হয় অর্থাৎ তাপমাত্রা ১০৪-১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তারচেয়েও বেশি হবে। সাথে নিচের লণগুলোর অন্তত দুটি প্রকাশ পাবে।
ক্স তীব্র মাথাব্যথা
ক্স চোখের পেছনের দিকে তীব্র ব্যথা
ক্স জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা
ক্স মাংসপেশি অথবা হাড়ে ব্যথা (এজন্য ডেঙ্গুর অন্য নাম : হাড়ভাঙ্গা জ্বর)
ক্স হামের মতো র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা যায়
ক্স নাক, দাঁতের মাড়ি থেকে অল্প রক্তপাত হতে পারে
ক্স রক্তে শ্বেতকণিকার পরিমাণ কমে যাবে।
ক্স লণগুলো রোগীর বয়স অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। শিশু ও প্রথমবার আক্রান্তদের থেকে বয়স্ক, শিশু ও দ্বিতীয়বার আক্রান্তদের মাঝে রোগের তীব্রতা বেশি হয়।

ডেঙ্গু জ্বরের জটিলতা
সাধারণত ৩-৭ দিনের মধ্যেই জ্বরের তাপমাত্রা কমতে থাকে। তবে যদি নিম্নোক্ত লণগুলো দেখা যায় দ্রুত ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
ক্স তীব্র পেটব্যথা ও ক্রমাগত বমি
ক্স ত্বকে লাল দাগ
ক্স নাক ও মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়লে
ক্স বমির সাথে রক্ত এলে
ক্স কালো বা আলকাতরার মতো পায়খানা হলে।
ক্স ত্বক ফ্যাকাশে, ঠা-া ও স্যাঁতসেতে হলে
ক্স শ্বাসকষ্ট হলে।

ডেঙ্গু জ্বরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা
এ রোগের কোনো টিকা নেই। তাই ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক ব্যবস্থা নিতে হয়। জমে থাকা খোলা পাত্রের পানিতে মশা ডিম পাড়ে। পোষা প্রাণির খাবার পাত্র, পানির পাত্র, ফুল গাছের টব, নারকেলের মালা ইত্যাদিতে পানি জমে থাকতে পারে। সেগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে। দিনের বেলা ও রাতে আলোতেও এরা কামড়ায়। তাই দিনের বেলাতেও মশারি ব্যবহার করতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে যাতে মশা কামড়াতে না পারে তারও ব্যবস্থা নিতে হবে।

ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা
এই রোগের সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। তাই রোগের দৃশ্যমান লণগুলোর ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হয়।
ক্স রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখুন।
ক্স প্রচুর পানি পান করতে দিন।
ক্স স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে কাপড় ভিজিয়ে শরীর বারবার মুছে দিন।
ক্স প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খাওয়ানো যাবে।
ক্স ডাক্তারের পরামর্শে ব্যথানাশক ওষুধ দিন।
ক্স রোগীকে অ্যাসপিরিন বা এ জাতীয় ওষুধ দেবেন না।
ক্স ডেঙ্গু জ্বরে ভয়ের কিছু নেই। তবে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি এবং ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চললে সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করা যায়।

যেসব খাবার ডেঙ্গু প্রতিরোধে সহায়তা করে
ক্স কমলায় প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি ও ভিটামিন সি থাকে, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। জ্বরের মাত্রা বেশি হলে রোগীকে কমলা খেতে দিন। এতে জ্বর কমার সঙ্গে সঙ্গে হজমশক্তিও বাড়বে।
ক্স বিভিন্ন রোগ সারাতে পেঁপে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, পেঁপের বীজ মশার কামড় থেকে সৃষ্ট রোগ সারায়। আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, পেঁপে ডেঙ্গু রোগীদের প্লাটিলেট বাড়াতে দ্রুত কাজ করে। এছাড়া পেঁপের কচি পাতা প্রতিদিন দুইবার রস করে খেলে তা ডেঙ্গু জ্বর সারাতে ভূমিকা রাখে।

ক্স ডেঙ্গু জ্বর হলে সাধারণত পেটে সমস্যা দেখা দেয়। এ কারণে এই সময় তৈলাক্ত ও ঝালজাতীয় কোনো খাবার খাওয়া ঠিক নয়।
ক্স হারবাল চা ডেঙ্গু জ্বরের ঝুঁকি কমায়। এ কারণে জ্বর হলে দারুচিনি, লবঙ্গ, আদা দিয়ে চা পান করুন।
ক্স ডেঙ্গু হলে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এই সময় ডাবের পানি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করে। সেই সঙ্গে শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
ক্স ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি যেমন গাজর, শসা এবং অন্যান্য সবুজ শাকের জুস করে খেতে পারেন। এসব শাকসবজিতে থাকা প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ শরীরে রোগ প্রতিরোধ মতা বাড়ায়।
ক্স ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ দেখা দিলে রোগীকে তরল খাবার বিশেষ করে স্যুপ খেতে দিন। এটা ুধা বাড়াবে এবং অস্থিসন্ধির ব্যথা কমাবে।
ক্স ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ মতা বাড়াতে দারুণ কার্যকরী। এ কারণে ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে রোগীকে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল যেমন কমলা, আনারস, স্ট্রবেরি ও পেয়ারা Ñ এসব ফল বা ফলের জুস খেতে দিন। এ ধরনের জুস ভাইরাল সংক্রমণ সারাতে সাহায্য করবে।
ক্স ডেঙ্গু জ্বর সারাতে নিমপাতার রসও খুব কার্যকরী।