খেলা

যেসব তারকা দ্যুতি ছড়াবেন এশিয়া কাপে

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ১৫ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হয়েছে এশিয়া কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। প্রতিযোগিতার বি গ্র“পে বাংলাদেশের প্রতিপ আফগানিস্তান ও শ্রীলংকা ক্রিকেট দল। এশিয়া কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে অনুশীলন শুরু করেছে বাংলাদেশ।
সাম্প্রতিক সময়ে অসাধারণ ক্রিকেট খেলছে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান। গত জুনে আফগানদের বিপে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ধবলধোলাই হয় বাংলাদেশ। যে কারণে এশিয়া কাপেও আফগানিস্তানকে বড় প্রতিপ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে এশিয়া কাপ ওয়ানডে ফরম্যাটে হওয়ায় নির্ভার বাংলাদেশ দল। জাতীয় দলের টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার এশিয়া কাপে শ্রীলংকা ও আফগানিস্তানের চেয়ে নিজেদেরকেই এগিয়ে রাখছেন।
মিরপুরে অনুশীলন শেষে জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার বলেন, এটা ৫০ ওভারের খেলা। বোলারকে দেখেশুনে খেলার সুযোগ পাওয়া যায়। এশিয়া কাপে ভালো খেলার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। নিজেদের সেরাটা খেলতে পারলে ফলাফল আমাদের পে আসবে।
সৌম্য আরও বলেন, অবশ্যই ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখব। সম্প্রতি আমরা যেভাবে ওয়ানডে ফরম্যাটে খেলছি তাতে আমাদের ব্যাটিং শ্রীলংকা ও আফগানিস্তানের তুলনায় অনেক ভালো। ওয়ানডে কিভাবে খেলতে হয়, এখন আমরা সেটা জানি।
ইতোমধ্যেই জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে টুর্নামেন্টকে ঘিরে। কোন দল চ্যাম্পিয়ন হতে পারে, সেটি নিয়ে একেক জনের একেক রকম মত। এ নিয়ে কি ভাবছেন বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল?
একটা সময় বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় তারকা ছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। ফিক্সিংয়ের কালো থাবায় যার জীবন থেকে হারিয়ে গেছে পাঁচটি বছর। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবারও জাতীয় দলে ফেরার আশায় কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এই তারকা ব্যাটসম্যান। ঘরোয়া ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগকে সামনে রেখে প্রস্তুত করছেন নিজেকে। সেই প্রস্তুতির ফাঁকেই আসন্ন এশিয়া কাপ নিয়ে কথা বললেন আশরাফুল, যে টুর্নামেন্টটিতে এবার অংশ নিচ্ছে ছয়টি দল-বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও হংকং।
আশরাফুলের মতে, এবারের এশিয়া কাপে ভীষণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। কারণ প্রতিটি দলকেই বেশ শক্তিশালী মনে করছেন তিনি। তাই বলে কি কেউই এগিয়ে নেই? বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়কের চোখে একটি দল অবশ্য কিছুটা এগিয়েই। সেই দলটির নাম কি?
আশরাফুল বলেন, এবারের এশিয়া কাপে প্রতিটি দলই শক্তিশালী। নিজেদের দিনে যে কেউ যে কাউকে হারাতে পারে। তবে আমি পাকিস্তানকে সবচেয়ে শক্তিশালী বলব। কারণ তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিজেদের পরিচিত ভেন্যুতে খেলবে। তারা এই কন্ডিশনে দীর্ঘদিন ধরে খেলে আসছে। তাছাড়া শুধু কন্ডিশন পরিচিত বলেই নয়, পাকিস্তান তাদের ভালো ক্রিকেটের জন্যই এশিয়া কাপের দাবিদার থাকবে।
পাকিস্তানকে এগিয়ে রাখছেন বলে নিজের দেশ বাংলাদেশকে একেবারে ফেলে দিচ্ছেন না আশরাফুল। ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান মনে করিয়ে দিলেন, টাইগাররা দুইবার এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলেছে, বাংলাদেশ দলের জন্য প্রথম ম্যাচটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তারা যদি শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পারে (প্রথম ম্যাচে) তবে ছন্দ পাবে, পরে আফগানিস্তান ম্যাচটা সহজ হয়ে যাবে। আমরা দুইবার এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলেছি। তবে একবারও জিততে পারিনি। আমার মনে হয়, এবার আমরা বড় কিছুর আশায় থাকব।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে সবগুলো দল একই হোটেলে থাকছে। কিন্তু ভারতীয় দলের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে আলাদা হোটেলের! সেই হোটেলে থাকছেন শুধু ভারতীয় ক্রিকেটাররাই। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও হংকং এশিয়া কাপের সময় থাকছেন দুবাইয়ের ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে।
প্রথমে ভারতের জন্যও ওই হোটেলে ঘর বুক করা হয়েছিল। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত বুকিং বাতিল করা হয়। নতুন করে ঘর বুক হয় দুবাইয়ের গ্র্যান্ড হায়াতে। অথচ, অন্য দলগুলো থাকবে ইন্টারকন্টিনেন্টালে। মানে, রোহিতরা বাকি দলগুলোর থেকে আলাদাই থাকছেন। ফলে, হোটেলে কোনো দেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গে ভারতীয়দের দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
এশিয়া কাপের আয়োজক বিসিসিআই। আয়োজক দেশ হিসেবেই বোর্ড এই বাড়তি সুবিধা নিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। রোহিতরা ছাড়াও হোটেলে থাকবেন অফিসিয়াল ও স্পনসররা। সবাইকে একসঙ্গে রাখার জন্যই এহেন হোটেল-বদল বলে জানা গেছে। আয়োজক দেশ হিসেবে রোহিতরা সব ম্যাচ খেলবেন দুবাইয়ে। বাকিদের যদিও আবুধাবিতেও খেলতে হচ্ছে।
ভারত যদি সেমিফাইনালে ওঠে, তাহলেও ম্যাচ পড়বে দুবাইতে। আর ফাইনাল তো দুবাইতেই। ফলে, ভারতকে আবু ধাবিতে যেতে হচ্ছে না কোনোভাবেই।