প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

সরকারের উন্নয়ন প্রচারণার পাশাপাশি সাইবার যুদ্ধ মোকাবিলায় কার্যকর প্রস্তুতি নেয়ার এখনই সময়

রাজনৈতিক প্রচার-প্রচারণার েেত্র বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারি দলের লোকজন ফেসবুকে সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-ের প্রচারণা চালাচ্ছেন। এর বিপরীতে বিরোধী দলের লোকজন সরকারবিরোধী প্রচারণায় লিপ্ত। সরকারি ও বিরোধী দলের এমন তৎপরতার প্রেক্ষিতে বলা যায়, আসছে সাধারণ নির্বাচনে ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো একটি বড় প্লাটফর্ম হিসেবে যে ব্যবহৃত হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বড় রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়টি নিয়ে বেশ মনোযোগীও হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম এ বিষয়ে দলের নেতা-কর্মীদের বলেছেন, আসছে নির্বাচনে সাইবার যুদ্ধ হবে। এমন প্রোপটে দলটির কর্মী-সমর্থকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশি সক্রিয় হতে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে মতাসীন আওয়ামী লীগ যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে নিয়েছে তার প্রমাণ মিলেছে গত বেশ কয়েক বছর যাবত। মতাসীন দল মনে করে, তাদের রাজনৈতিক প্রতিপ ফেসবুকে অনেক সক্রিয় এবং সরকারবিরোধী নানা ‘অপপ্রচারে’ লিপ্ত। কিন্তু এর বিপরীতে আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকরা ফেসবুকে ততটা সোচ্চার নয় বলেই দলের শীর্ষ পর্যায়ে ধারণা রয়েছে। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সাইবার ব্রিগেড গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলছে, এর মূল ল্য হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘গুজব ছড়ানো প্রতিহত’ করা। এছাড়া আগামী নির্বাচনের জন্য ‘সরকারের উন্নয়ন’ প্রচার করা।
বাংলাদেশ রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘সাইবার যুদ্ধ’ প্রথমবারের মতো ব্যাপক আকার ধারণ করে ২০১২ সালে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে ঢাকার শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের সময়। গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকারীরা যেভাবে অনলাইন ব্লগ এবং সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন তেমনি ফেসবুকসহ ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা। ‘বাঁশের কেল্লা’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে বিচারের সমালোচনা করা হয় ক্রমাগত। ‘বাঁশের কেল্লা’ ফেসবুক পেজটিকে জামায়াতে ইসলামীর মদদ-পুষ্ট বলে মনে করা হয়। এর পর থেকে ফেসবুকে নানা ধরনের গ্র“প তৈরি করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, আসছে নির্বাচনে ফেসবুক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে দুটো কারণে। প্রথম কারণ হচ্ছে, বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যমের একাংশ বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, সাংবাদিকরা মালিকের কথার বাইরে তাদের মত প্রকাশ করতে পারছে না। এ দুটো পরিস্থিতির কারণে যে শূন্যতা দেখা দিয়েছে সেটি পূরণের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং দিন যত যাবে এই ধরণের যোগাযোগ মাধ্যম তত বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে। তবে সে যা-ই হোক, আগামী নির্বাচনে যে সাইবার যুদ্ধ হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সাইবার যুদ্ধ ইতিবাচক নেতিবাচকÑ দুই ভাবেই হতে পারে। সরকারের উন্নয়ন প্রচারের জন্য যদি সাইবার যুদ্ধ হয়, তাহলে ভালোই। কিন্তু কোনো গুজব জন্ম দিয়ে যদি সাইবার যুদ্ধ চালানো হয়, তাহলে তা শক্ত হাতে প্রতিহত করতে হবে এবং এই প্রতিহতের সময় এখনই। নির্বাচনের প্রাক্কালে সাইবার ক্রিমিন্যালদের প্রতিহত করা না গেলে তা নির্বাচনের সময় সরকারের চলার পথের কাঁটা হয়ে থাকবে। তাই সাইবার যুদ্ধের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের এখনই সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।