কলাম

উচ্চশিক্ষায় ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণে গ্রাম ও শহরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা আনতে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে

বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের চ্যান্সেলর ও মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মাধ্যমে দেশের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সমন্বতিভাবে ভর্তি পরীা নেয়ার জন্য আহ্বান জানান। উচ্চশিক্ষায় ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণে যেন গ্রাম ও শহরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা আনতে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়Ñ সেদিকেও খেয়াল রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। বলা বাহুল্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির এ আহ্বানে কার্যকর সাড়া দেননি কোনো উপাচার্য। সমন্বিত ও সমতাভিত্তিক পরীা কেন প্রয়োজন তা ভুক্তভোগী অভিভাবক ও শিার্থী ছাড়া অন্য কেউ বুঝবেন না। দেশের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় গড়ে ২-৩টি বিষয় নিয়ে বিভিন্ন নামে ইউনিট করছে। ইংরেজি আদ্যার এ দিয়ে শুরু হয়ে প্রায় শেষ বর্ণ পর্যন্ত ইউনিটের নাম আছে। যত ইউনিট, তত টাকা আর তত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির লাভ। বিপরীতে শিার্থী-অভিভাবকদের তত বিড়ম্বনা। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিকদের বদনাম হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের জন্য আলাদা ভর্তি ফি ও পরীার তারিখ ভিন্ন থাকে। একইদিনে আবার একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীা থাকে। ভর্তি নিয়ে চলে কোচিং প্রতিষ্ঠানের রমরমা বাণিজ্য। পরীাকালীন মাসব্যাপী ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি-ভোগান্তি চরমে উঠে। ভর্তি পরীার সময় হোস্টেল-ছাত্রাবাস কোথাও থাকার জায়গা থাকে না। যেসব অভিভাবকের মেয়ে শিার্থী থাকে, তাদের এ যন্ত্রণার শেষ থাকে না। সব অভিভাবক ভালো প্রতিষ্ঠানে ছেলেমেয়েদের ভর্তি করাতে চায়। কোথাও কোনো নিশ্চয়তা থাকে না ভর্তি হওয়ার। এ কারণে সবাইকে চ্যালেঞ্জ নিয়ে ভর্তিযুদ্ধে অংশ নিতে হয়। এ নিয়ে অনেকে আবার প্রতারণার শিকারও হন। ভুক্তভোগী অনেক অভিভাবক তাদের এ ধরনের করুণ অভিজ্ঞতার বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে জানাতে সমর্থ হয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বিষয়টি সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখেছেন, এজন্য তিনি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দনও পেয়েছেন। ২০১৮ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীার ফল প্রদান শেষে ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো সমন্বিত এবং গ্রাম ও শহরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতাভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা দেখা যাচ্ছে না। আগের নিয়মেই ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে এবং এতে দেখা যাচ্ছে ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার জন্য শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটছে। এ ধরনের ভর্তি পরীক্ষায় দেখা যায় শহরের নামিদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়, গ্রামের শিক্ষার্থীরা বাদ পড়ে যায়। মেধার দিক দিয়ে গ্রামের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে না থাকলেও উচ্চশিক্ষার ভর্তি পরীক্ষায় মেধা যাচাইয়ের কোনো বিজ্ঞানভিত্তিক উপায় বের না করায় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা বঞ্চিতই থেকে যায়। এ সমস্যার সমাধান এখন সময়ের দাবি। দেশের মোট শিক্ষার্থীর একটা বড় অংশই গ্রামের। অথচ এদের নিয়ে কারোরই কোনো পরিকল্পনা নেই। ভর্তিযুদ্ধে হেরে গিয়ে এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর পড়াশুনার দৌড় ইন্টারমিডিয়েটেই থেমে যায়। এতে করে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যে বিশাল ফারাক থেকে যায়, তার তেমন উন্নতি হয় না। সুতরাং আমরা চাই, দেশের সব অঞ্চল থেকে মেধাবীদের উচ্চশিক্ষায় স্থান করে দিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সমন্বিত ও সমতাভিত্তিক ভর্তিপরীক্ষা নেয়ার আহ্বান দ্রুত কার্যকর করা হোক।