খেলা

উন্মোচিত হলো বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ট্রফি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ১ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ট্রফি। গত ২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে নাচে-গানে উল্লাসের মাধ্যমে সবার সামনে আনা হয় গোল্ডকাপের ট্রফিটি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী শাহজাহান কামাল। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাম মুর্শেদী, সহ-সভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ ও কে-স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহাদ করিম।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নেপাল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতগণ। বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ব্যালে নৃত্য এবং সংসদ সদস্য ও শিল্পী মমতাজ বেগমের কণ্ঠে থিম সং অনুষ্ঠানে বাড়তি মাত্রা যোগ করে।
১ অক্টোবর শুরু হবে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের পঞ্চম আসর। ১ থেকে ৬ অক্টোবর সিলেটে গ্রুপ পর্বের খেলা হবে। ৯ ও ১০ অক্টোবর কক্সবাজারে হবে দুটি সেমিফাইনাল। ১২ অক্টোবর ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ফাইনাল। ফাইনাল ম্যাচে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
টুর্নামেন্টে ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের দুই প্রতিপ লাওস ও ফিলিপাইন। উদ্বোধনী দিনে মাঠে নামবে বাংলাদেশ ও লাওস। ‘এ’ গ্রুপের ৩ দল নেপাল, ফিলিস্তিন ও তাজিকিস্তান।
২২ সেপ্টেম্বরের ড্রতে একে একে অংশ নেয়া দলগুলোর নাম তুলছিলেন অতিথিরা। পঞ্চম দলের নাম তোলার দায়িত্ব পড়ে বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদীর ওপর। তিনি পট থেকে যে দলের নাম থাকা বল তুলবেন তারা হবে বি গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপ। ছিল তাজিকিস্তান ও লাওসের নাম। সবাই চাচ্ছিলেন লাওসকে। যাদের বিপে অতীতে জয়ের রেকর্ড না থাকলেও গত মার্চে ভিয়েনতিয়েনের মাটিতে তাদের সাথে ২ গোলে পিছিয়েও শেষ পর্যন্ত ২-২-এ ড্র করে বাংলাদেশ।
আর তাজিকিস্তান তো নিত্য বড় ব্যবধানে জিতে বাংলাদেশের বিপ।ে ড্রয়ের বলের মুখ খোলার আগে সালাম মুর্শেদীও একটু দোয়া করলেন ওপরওয়ালার কছে। শেষ পর্যন্ত সবার প্রত্যাশা পূরণ হলো। সাবেক এই কৃতী ফুটবলারের হাতে উঠল লাওসেরই নাম। সাথে সাথে উল্লাস ড্রয়ের এই অনুষ্ঠানে। চূড়ান্ত হলো পঞ্চম বঙ্গবন্ধু কাপের গ্রুপিং। বাংলাদেশ গ্রুপে পড়েছে ফিলিপাইন ও লাওস। অন্য দিকে এ গ্রুপের দলগুলো হলো ফিলিস্তিন, বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের গতবারের চ্যাম্পিয়ন নেপাল ও তাজিকিস্তান। গ্রুপে লাওস থাকায় বাংলাদেশের সুযোগ আছে তাদের টপকে সেমিতে যাওয়ার।
ড্রতে র‌্যাংকিং অনুযায়ী তিনটি পটে রাখা হয় ছয় দলকে। ফিলিস্তিনের ফিফা র‌্যাংকিং ৯৯। ফিলিপাইনের ১১৫। অংশ নেয়া দলগুলোর মধ্যে এই দুই দেশের অবস্থান সবচেয়ে ভালো। তাই তাদের ধরা হয় শীর্ষ বাছাই হিসেবে। স্বাগতিক বাংলাদেশ ও গতবারের চ্যাম্পিয়ন নেপাল ছিল দ্বিতীয় পটে। তাজিকিস্তান ও লাওস ছিল তৃতীয় পটে।
১ থেকে ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলের আসর। ২২ সেপ্টেম্বর হয়ে গেল এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাওয়া দলগুলোর গ্রুপিং তথা ড্র। ড্রয়ের জমকালো অনুষ্ঠানে ছয় দেশেরই ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়।
ড্র অনুষ্ঠানে বাফুফে ও সাফ সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন জানান, তারা এবার এই আসরে এশিয়ার পাঁচ জোনের দলকেই নিয়েছেন। কোনো দুর্বল দলকে নেয়া হয়নি। সব দলই শক্তিশালী। যেন দর্শকরা খেলা দেখে মজা পায়।
তিনি বলেন, ফুটবলে এগোতে হলে বাংলাদেশকে এসব দেশের সাথেই খেলতে হবে। এ থেকে শিারও বিষয় আছে। হারবে জিতবে এটাই ফুটবল। আমরা আমাদের কাজ করছি। এখন বাকি কাজ ফুটবলারদের। বাফুফে সভাপতি উল্লেখ করেন, এশিয়ায় এই ধরনের টুর্নামেন্ট ধ্বংস হয়ে গেছে; কিন্তু আমরা তা চালু রেখেছি।
এই আসরের স্বত্ব কিনে নিয়েছে কে স্পোর্টস। তাদের বাজেট ১০ কোটি টাকা। বাফুফেকে তারা দেবে এক কোটি টাকা। চ্যাম্পিয়ন দল ৫০ হাজার ডলার পাবে।
কে স্পোর্টস-এর সিইও ফাহাদ করিম জানান, আমরা এবার প্রতি ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়কে পুরস্কৃত করব। থাকবে দর্শকদের মাঠে টানার ব্যবস্থাও। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের সব খেলা কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেখানো হবে। ধারাবর্ণনা দেয়া হবে বাংলা ও ইংরেজিতে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু কাপে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে বিদায় নিয়েছিল। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ রানার্সআপ হয়েছিল।
গ্রুপ পর্বের ফিকশ্চার
১ অক্টোবর
বাংলাদেশ-লাওস (৬.৩০ মি.)
২ অক্টোবর
নেপাল-তাজিকিস্তান (৬.৩০ মি.)
৩ অক্টোবর
লাওস-ফিলিপাইন (৬.৩০ মি.)
৪ অক্টোবর
তাজিকিস্তান-ফিলিস্তিন (৬.৩০ মি.)
৫ অক্টোবর
বাংলাদেশ-ফিলিপাইন (৬.৩০ মি.)
৬ অক্টোবর
ফিলিস্তিন-নেপাল (৬.৩০ মি.)