প্রতিবেদন

কোটা বাতিলের সুপারিশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনে স্বস্তিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ॥ দ্রুত প্রজ্ঞাপনের দাবি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
সরকারি চাকরিতে বিরাজমান কোটা সংস্কারের লক্ষ্যে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এতে শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা দূর হয়েছে এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সর্বশেষ গত ২০ সেপ্টেম্বর সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলে সচিব কমিটির সুপারিশ অনুমোদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর এই অনুমোদনের ফলে কোটা বাতিলে আর কোনো সমস্যা রইল না। ছাত্রছাত্রীদের দাবির অনুকূলে প্রধানমন্ত্রীর এই অনুমোদনের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আনন্দ মিছিল ও মিষ্টিমুখ করতে দেখা যায়।
প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারে সচিব কমিটির সুপারিশকে ইতিবাচকভাবে দেখছে আন্দোলনকারীরা। তবে তারা দ্রুত এই সুপারিশের বাস্তবায়ন চেয়েছে। আর এই সুপারিশকে স্বাগত জানিয়ে সাধারণ শিার্থীর ব্যানারে আনন্দ মিছিল করেছে ছাত্রলীগ।
১৮ সেপ্টেম্বর কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরণ পরিষদ বিােভ মিছিল শেষে সংপ্তি এক সমাবেশ করে। আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন সচিব কমিটির সুপারিশ দ্রুত প্রজ্ঞাপন আকারে দেয়ার আহ্বান জানান। এর আগে তারা দীর্ঘ দুই ঘণ্টা ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোটা প্রথার সংস্কারের প্রজ্ঞাপনের দাবিতে বিােভ মিছিল করেন। মিছিলে প্রায় তিন শতাধিক ছাত্রছাত্রী অংশ নেয়।
মিছিল শেষে সমাবেশে হাসান আল মামুন বলেন, সচিব কমিটির সুপারিশকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। পাশাপাশি আমরা তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে যে কোটা প্রথা রয়েছে তার যৌক্তিক ও সহনীয় সংস্কার চাচ্ছি। এসময় তিনি অভিযোগ করেন, কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে তারা বাধার সম্মুখীন হয়েছেন।
এদিকে, সরকারি চাকরিতে কোটা না রাখার সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল করেছে। দুপুর সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় এই আনন্দ মিছিল বের করে।
সরকারি চাকরিতে প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির ক্যাডার-নন ক্যাডার পদে কোটা প্রত্যাহার এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদগুলোতে বহাল রাখার সুপারিশ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সচিব কমিটি। ১৭ সেপ্টেম্বর সচিব কমিটির এ সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। আগামী ১ অক্টোবর মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য বৈঠকে এই সুপারিশ অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন করলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নির্বাহী আদেশ দিয়ে পরিবর্তিত কোটা সম্পর্কিত আদেশ জারি করবে। সাধারণভাবে আদেশ জারির তারিখ থেকে তা কার্যকর হবে। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় সফরে দেশের বাইরে। ফিরবেন ৩০ সেপ্টেম্বর। তাই পরবর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠকে ১ অক্টোবর উঠবে ওই সুপারিশ।
প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিতে প্রচলিত কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে এ বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি আন্দোলন শুরু হয়। ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে দেয়া ভাষণে কোটা বাতিল করার ঘোষণা দেন। এরপর গত ২ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে কোটা সংস্কার-বাতিল পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রদানের জন্য কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি ১৭ সেপ্টেম্বর সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করে।
এর আগে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সড়ক অবরোধসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবন তছনছ করা হয়। এ ঘটনায় মামলাও হয়। সারাদেশে উচ্চশিা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ঢাবি ভিসির বাসভবন ভাঙচুরের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় আন্দোলনকারী বেশকয়েকজন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২১ আগস্ট গ্রেপ্তারকৃত আট আন্দোলনকারী জামিনে মুক্তি পায়। ইতোমধ্যে ঘোষিত ৪০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীার আগেই কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানাতে থাকে আন্দোলনকারী শিার্থীরা।
সূত্র জানায়, আপিল বিভাগ ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরণের জন্য যে রায় প্রদান করেছে সে প্রেেিত মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করা যাবে কি না সে বিষয়ে সচিব কমিটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে পরামর্শ চেয়ে গত ১৬ আগস্ট চিঠি প্রেরণ করে। ২০ আগস্ট ফিরতি চিঠিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মতামত প্রেরণ করেন। এ প্রেেিত সচিব কমিটি আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শের ভিত্তিতে তা রাষ্ট্রপতির রেফারেন্সের জন্য প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে মন্ত্রণালয় জানায়, এটি এখন আর আপিল বিভাগে উপস্থাপনের প্রয়োজন নেই। নির্বাহী বিভাগের আদেশ দিয়ে এটি বাতিল, সংশোধন ও সংযোজন করা যেতে পারে। কারণ আদালতের পর্যবেণেই বিষয়টি পরিষ্কার যে কোটা রাখা না রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার নির্বাহী বিভাগের। এর ওপর ভিত্তি করে সচিব কমিটি নির্বাহী আদেশ দ্বারা পরিমার্জিত আকারে কোটার বিষয়ে সুপারিশ চূড়ান্ত করে। সে অনুযায়ী শুধু প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ক্যাডার-নন ক্যাডার পদে কোনো ধরনের কোটা ব্যবস্থা না রাখার আদেশ জারির সুপারিশ করা হয়েছে।