ফিচার

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র আশুরা পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে ২১ সেপ্টেম্বর, ১০ মহররম যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে পবিত্র আশুরা পালিত হয়েছে।
এ উপলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন তাজিয়া মিছিল বের করাসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। পবিত্র আশুরা উপলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দেন। শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে তাজিয়া মিছিলে কারবালাকে স্মরণ করার মধ্য দিয়ে পবিত্র আশুরার কর্মসূচি শুরু হয়।
কারবালার শোকাবহ ঘটনা ও পবিত্র আশুরার স্মরণে পুরান ঢাকায় হোসনি দালানসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তাজিয়া মিছিল বের করা হয়। এসব মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদণি করে ধানমন্ডি লেকের কাছে গিয়ে শেষ হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শান্তিপূর্ণ মিছিল অনুষ্ঠানে সহায়তা করে।
দিবসটি পালন উপলে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক বিশেষ প্রবন্ধ ও নিবন্ধ প্রকাশ করে। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি রেডিও-টিভি চ্যানেলও এই দিনের তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করে।
১০ মুহাররম পবিত্র আশুরার দিনে কারবালা প্রান্তরে হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) হক ও ন্যায়ের পে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে ইসলামের শত্রু ইয়াজিদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নির্ভীকভাবে শাহাদতের অমিয় সুধা পান করে গেছেন। ইসলামকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে তিনি শ্রেষ্ঠত্বের আসনে দাঁড় করিয়ে গেছেন। আর এজন্যই আল্লামা ইকবাল (রহ.) বলেছেন, ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায় হার কারবালাকা বাদ।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, এ মহান দিনে হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) এর শাহাদতের মাধ্যমে ইসলামকে জিন্দা রাখার জন্য নতুন নতুন ইয়াজিদ বাহিনীকে প্রতিহত করতে যে রক্ত প্রবাহ শুরু হয়েছিল সে প্রবাহের ধারা অব্যাহত থাকবে। ঈমানের বলে বলীয়ান এবং সত্য ও ন্যায়ের সাধক হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) হক ও ন্যায়ের পে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে নির্ভীকভাবে শাহাদতের সুধা পান করে পৃথিবীর বুকে চির অমর হয়ে আছেন। যতদিন পৃথিবীসহ আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টিকুল থাকবে, ততদিন তাঁর নাম ও কীর্তি পৃথিবীজুড়ে অভিনন্দিত ও অনুকরণীয় হতে থাকবে। হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) প্রমাণ করে গেছেন, অন্যায় ও অসত্যের কাছে কখনও মাথা নত করা যাবে না। সত্য তথা হক প্রতিষ্ঠায় মাথা উঁচু করে প্রাণ উৎসর্গ করলে আদর্শ প্রতিষ্ঠাসহ জগতের বুকে চির অমøান ও উজ্জ্বল থাকা যায়।
কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনার মাধ্যমে এ শিাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা মুসলিম উম্মাহর অগ্রযাত্রায় নবতর চেতনার উন্মেষ এবং রাব্বুল আলামীনের প্রদর্শিত পথে চলার েেত্র ত্যাগ স্বীকারের জন্য যুগে যুগে ইসলামের উত্থানে অনুপ্রেরণা যুগিয়ে যাচ্ছে। আশুরার দিনে কারবালা প্রান্তরে প্রতিটি ঘটনা মুসলিম উম্মাহর জন্য কল্যাণময় ও তাৎপর্যপূর্ণ এবং বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে আছে। তাই তো কবির উপলব্ধি ছিল শির দেগা, নেহি দেগা আমামা। কারবালার মতো লড়াই যুগে যুগে চলতেই থাকবে। এখনও চলছে মুসলিম দেশে দেশে।
আশুরার দিনটি মুসলমানদের নিকট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদার দিন। তাই আশুরার দিনসহ আগে বা পরে আরো একটিসহ মোট দু’দিন রোজা রাখার কথা বলেছেন, আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.)। রমজান মাসের রোজা ফরজ হওয়ার পর রমজানের রোজা ছাড়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রোজা হচ্ছে আশুরার রোজা। রাসূল (সা.) বলেছেন, আশুরার দিনের সম্মানে মুমিনগণ রোজা রাখলে দোজখের আগুন তাদের স্পর্শ করবে না। আশুরার দিনে ১০ আয়াত কোরআন তেলাওয়াতকারী সারা বছরের কোরআন তেলাওয়াতের ছোয়াব পাবে। যে আশুরার দিনে রোজা রাখলো, সে যেন সারাজীবন রোজা রাখলো।
পবিত্র আশুরার দিনটি বৈশিষ্ট্যময় হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলো হচ্ছে এদিনে জগৎ সৃষ্টির সূচনা হয়। এ দিনেই (শুক্রবার) মহাপ্রলয়ের মাধ্যমে পৃথিবী ধ্বংস হবে। এদিনেই হযরত আদম (আ.)-কে জান্নাত থেকে পৃথিবীর বুকে অবতরণ করানো হয়। এ দিনেই আল্লাহ তায়ালা তার তওবা কবুল করেছিলেন। হযরত নূহ (আ.) এদিনেই মহাপ্লাবন থেকে রা পেয়ে নৌকা থেকে পৃথিবীর বুকে আবার অবতরণ করেছিলেন। এদিনে হযরত ইদ্রিস (আ.) সশরীরে জান্নাতে প্রবেশ করেন। হযরত আইয়ুব (আ.) দীর্ঘদিন কঠিন রোগ ভোগের পর এদিনে রোগমুক্ত হন। এদিনেই হযরত ইউনূস (আ.) মাছের পেট থেকে বের হয়ে রা পেয়েছিলেন।
হযরত ইব্রাহীম (আ.) আল্লাহ তায়ালার অশেষ কুদরতে নমরুদের অগ্নিকু-ের ৪০ দিন অবস্থান করে আশুরার দিনে সুস্থ অবস্থায় বেরিয়ে আসেন। এদিনে হযরত দাউদ (আ.)-এর তওবা কবুল হয় এবং হযরত সোলায়মান (আ.) বাদশাহি লাভ করেন। ১০ মুহাররমে হযরত ইউসুফ (আ.) তাঁর পিতা হযরত ইয়াকুব (আ.)-এর সাথে মিলিত হন। আশুরার দিনেই হযরত মূসা (আ.) আল্লাহ তায়ালার সাথে কথা বলেছিলেন। এদিনেই আল্লাহতায়ালা বনি ইসরাইল সম্প্রদায়কে ফেরাউনের বন্দীদশা থেকে উদ্ধার করেন এবং লোহিত সাগরে ফেরাউন ও তার বাহিনীর সলিল সমাধি ঘটান। পবিত্র আশুরার দিনেই আল্লাহ তায়ালা হযরত ঈসা (আ.) কে শত্রুদের হাত থেকে রা করে সশরীরে আসমানে উঠিয়ে নেন।