প্রতিবেদন

নির্বাচনি রোডম্যাপে প্রচার-প্রচারণায় ভোটের রাজনীতিতে এগিয়ে আওয়ামী লীগ : স্বস্তিতে চাঙা দলের তৃণমূল নেতাকর্মী-সমর্থক

মেহেদী হাসান
নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন মাসও বাকি নেই। বছরজুড়ে সারাদেশে মৃদুমন্দ যে ভোটের হাওয়া ছিল তা ক্রমশই বেগবান হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সামনে টানা তৃতীয়বার মতাসীন হওয়ার চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আওয়ামী লীগ দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অন্যদিকে ভোটের রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল হলো বিএনপি। আর বিএনপি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ ইস্যুতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকায় তাদের নেতাকর্মীরা ভোটের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের মতো এখনও সক্রিয় নয়। এদিক থেকেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভোটের মাঠে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। আর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয়বারের মতো জনরায় নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার জন্য সরকারের বর্তমান উন্নয়ন কর্মকা- এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা-স্বপ্ন নিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় হাজির হচ্ছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার মাঠ জরিপে দেখা যায়, নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় ভোটের রাজনীতিতে বিএনপির তুলনায় এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এগিয়ে থাকায় স্বস্তিতে চাঙা দলের তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা বলছেন, দলের সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ে আসনওয়ারি হিসাব-নিকাশ চলছে দফায় দফায়। বর্তমান এমপি ও দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা, সর্বোপরি নেতাকর্মীরা প্রচার-প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। রাজধানীর ধানমন্ডিতে আলাদা নির্বাচনি কার্যালয় গড়ে তুলে নির্বাচনের সাংগঠনিক ও প্রস্তুতিমূলক কর্মকা- এগিয়ে নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। দিন যত এগোচ্ছে, তাদের ভোটের প্রস্তুতিও তত জোরদার হচ্ছে। টানা দুই মেয়াদে দেশের নানা েেত্র ব্যাপক উন্নয়নের ফলে আগামী নির্বাচনেও দলটির প্রতি জনগণের বিশ্বাস ও আস্থার প্রতিফলন ঘটবেÑ এমন প্রত্যাশা তাদের।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়ের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ এখন পর্যন্ত তিন দফায় মতাসীন হয়েছে। টানা দুই মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ স্বৈরতন্ত্র, জঙ্গিবাদ ও যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অন্ধকারের অপশক্তি জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা প্রায় নিষ্ক্রিয়। দেশের বর্তমান পরিবেশও প্রগতির অনুকূলে। যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পন্ন ও রায় কার্যকর করার বড় চ্যালেঞ্জ সফলভাবেই পার হয়েছে, হচ্ছে। দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কেÑ এমন সত্য স্বীকার করছেন সরকারের কট্টর সমালোচকরাও। স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশের উত্তরণই এর বড় প্রমাণ। গ্রামীণ অর্থনীতিও এখন মজবুত। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আট ভাগ ছুঁই ছুঁই। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর সফল উৎপেণ বিশ্বে দেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে। শেখ হাসিনার সরকারের সময়ই নিজস্ব অর্থায়নে স্বপ্নের পদ্মাসেতুর কাজ শুরু হয়েছে, এরই মধ্যে কাজ এগিয়েছে বহুদূর। যদিও নানা প্রতিকূলতা এই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরুর পথে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছিল, বঙ্গবন্ধুকন্যা তার সবকিছুই অসীম সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করে দৃঢ়চিত্তে এই সেতুর কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। কৃষি, শিা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, বিদ্যুৎসহ আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও নারীর মতায়নের েেত্রও সরকারের সাফল্য প্রশ্নাতীত। অতীতের দুঃসহ বিদ্যুৎ সংকট মিটিয়ে এখন প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার ল্যপূরণের পথে এগোচ্ছে সরকার। গৃহহীনদের জন্য আবাসন নিশ্চিত করার ল্েয আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশাপাশি সমাজের অসহায় দুস্থ মানুষের কল্যাণ এবং বিধবা ও পরিত্যক্তা নারীদের জন্য নানা কল্যাণকর পদপে, ভাতা প্রদানÑ এসবও ছিল সরকারের কল্যাণমুখী পদপে।
অন্যদিকে, মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের এ দেশে আশ্রয়দান এবং এই সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ গোটা বিশ্বে প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনন্যসাধারণ মর্যাদার আসনে আসীন করেছে শেখ হাসিনাকেও। শান্তিপূর্ণ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর ভেতরে থেকেই প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছ থেকে ন্যায্য সমুদ্রসীমার অধিকার আদায়ও তার বিরল কূটনৈতিক সাফল্য। কৃষি, পরিবেশ, শিা ও নারীর মতায়নসহ নানা েেত্র আন্তর্জাতিক পুরস্কার, সম্মাননা ও ডিগ্রি অর্জন করে বাংলাদেশকেও তিনি অনন্য উচ্চাসনে আসীন করেছেন, গোটা জাতিকে করেছেন গৌরবের অংশীদার। নানা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে সাহসী ও দৃঢ়চেতা ভূমিকা রাখার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বনেতা হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিম-লে জায়গা করে নিয়েছেন।
এসব কিছুই আওয়ামী লীগের বড় সাফল্য, যা জনমনে এই দলটির প্রতি প্রত্যাশাকেও বাড়িয়ে তুলেছে। তবে নির্বাচনি অঙ্গীকার প্রতিপালনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার কতখানি আন্তরিক, ব্যর্থতা না সাফল্যের পাল্লা ভারীÑ এর হিসাব-নিকাশও করছে এদেশের রাজনীতি সচেতন ভোটাররা। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে-বিদেশে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বাড়লেও ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের কয়েকটি সহযোগী সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দলসহ টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি এবং সংঘর্ষে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ুণœ হচ্ছে।
সাফল্য ও ভুলত্র“টিÑ সবকিছু ছাপিয়ে ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের দিকে এখন সরকার ও দলের নীতিনির্ধারকদের চোখ নিবদ্ধ। আওয়ামী লীগ সারাদেশেই নির্বাচনি ঢামাডোলের আবহ সৃষ্টি করতে পেরেছে। ৩০০ সংসদীয় আসনের কোনো আসনেই দলটি এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। ফলে প্রতিটি আসনেই আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছে। কোনো কোনো আসনে আট-দশজন প্রার্থীও নৌকা মার্কার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এতে ভোটারদের সঙ্গে প্রার্থীদের তথা দলের একটা ভালো যোগাযোগ গড়ে উঠছে। এক্ষেত্রে দলের সবচেয়ে বড় সার্থকতা হলো তারা প্রার্থীর চেয়ে মার্কাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। একটি আসনে অন্তত ১০ জন নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশা করে নৌকা মার্কায় ভোট চাইছে। তাদের আবেদনের মূল বক্তব্য হচ্ছে আওয়ামী লীগ যাকেই মনোনয়ন দিক, সবাই যেন নৌকা মার্কায় ভোট দেয়। এখানে ব্যক্তি কোনো বিষয় নয়, মার্কা-ই বিষয়। নৌকা মার্কার বিজয়ের জন্যই এখন দেশজুড়ে প্রচারণা শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। চারদিকে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনে সামর্থ্যবান করে তুলতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে বদ্ধপরিকর।