কলাম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনে ‘রবিবার’

আবদুস সালাম বাচ্চু
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৮ সেপ্টেম্বর রবিবার জন্মগ্রহণ করেন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা ১৯৭৪ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। সারাদেশে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় জননেত্রী শেখ হাসিনার ৭২তম জন্মদিন পালিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন শুধু বাংলাদেশের জনপ্রিয় নেতাই নন, তিনি আজ তৃতীয় বিশ্বের একজন বিচক্ষণ নেতা হিসেবে পরিচিত এবং বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।
এখন আসা যাক আলোচ্য রবিবারের কথায়। রবিবার হলো শেখ হাসিনার জীবনের জন্য অত্যন্ত শুভ ও মহিমান্বিত দিন। এই দিনটিতে এমন সব ঘটনা ঘটেছে, যা তাঁকে মানুষের মাঝে স্মরণীয় ও বরণীয় করে রেখেছে। তাঁর জন্মদিন রবিবারের সাথে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য দিকগুলো আলোচনা করলে এর মাহাত্ম কিছুটা অনুধাবন করা সম্ভব হবে।
ক্স জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর, রবিবার জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন, রবিবার প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এটি তাঁর জন্মদিনের অন্যতম একটি বিশেষ সাফল্য।
ক্স জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার আগেই ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি রবিবার ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনের সাথে এর সুন্দর এবং চমৎকার একটি মিল আছে।
ক্স জননেত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত আদরের ছোট ভাই শেখ রাসেল ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর, রবিবার জন্মগ্রহণ করেন। একই পরিবারে ভাই ও বোনের জন্ম দিন একই দিন রবিবার হওয়া একটি বিরল ঘটনা।
ক্স ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, রবিবার শেখ মুজিবুর রহমান ‘বঙ্গবন্ধু’ খেতাবে ভূষিত হন।
ক্স ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ, রবিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। এ ভাষণ ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। ৭ মার্চের ভাষণ বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ ও মুক্তিকামী করে তোলে। ফলে বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করে। যে ৭ মার্চের ভাষণের কারণে বাঙালি স্বাধীনতা পায় সে দিনটিও রবিবার হওয়ায় শেখ হাসিনা ও শেখ রাসেলের জন্মদিন এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের দিন একসূত্রে গাঁথা হয়ে যায়।
ক্স ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল, রবিবার কলকাতাস্থ পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশন অফিসের প্রধান এম হোসেন আলী পাকিস্তানি অফিসার হওয়া সত্ত্বেও মুজিবনগরে গঠিত বাংলাদেশ সরকারের প্রতি তার আনুগত্য প্রকাশ করেন। ওই দিন তিনি হাইকমিশন অফিসে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।
ক্স ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে যখন সপরিবারে হত্যা করে তখন তাঁর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশে থাকলে হয়ত মৃত্যুবরণই করতেন। তাঁরা বেঁচে থাকায় জননেত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে যে দিনটিতে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন সে দিনটি ছিল রবিবার। তাঁর পৃথিবীতে আগমনের সাথে তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের এ যেন এক অপূর্ব মিল।
ক্স ১৯৮২ সালের ২৮ নভেম্বর, রবিবার শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশের নতুন ‘জাতীয় সংসদ ভবন’ উদ্বোধন করা হয়।
ক্স ১৯৯৪ সালের ১৪ আগস্ট, রবিবার ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটিকে ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে উদ্বোধন করা হয়।
ক্স ১৯৯৪ সালের ১৬ অক্টোবর, রবিবার যমুনা বহুমুখী সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। উল্লেখ্য, যমুনা বহুমুখী সেতু বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বৃহত্তম এবং বিশ্বের মধ্যে ১১তম বৃহৎ সেতু।
ক্স ১৯৯৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, রবিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ১৭ মার্চকে ‘জাতীয় শিশু দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
ক্স ১৯৯৭ সালের ১৩ এপ্রিল, রবিবার ৬ষ্ঠ আইসিসি ক্রিকেট ট্রফিতে বাংলাদেশ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়। আর সেই সুবাদে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ‘বিশ্বকাপ ক্রিকেট’ খেলায় সুযোগ করে নেয়। এরপর থেকে বাংলাদেশ প্রতিবারই বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশ নেয়। বাংলাদেশের এ অর্জনটি জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন রবিবারেই সম্পন্ন হয়েছিল।
ক্স ১৯৯৭ সালের ৬ জুলাই, রবিবার হযরত মুহম্মদ (সা.) ও পবিত্র কোরআনের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ পোস্টার প্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র ‘নিন্দা প্রস্তাব’ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
ক্স ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি, রবিবার দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন জননেত্রী শেখ হাসিনা।
ক্স প্রিয় পাঠক, উপরিউল্লেখিত বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার আলোকে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, রবিবার হলো বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনের জন্য অত্যন্ত শুভ ও মহিমান্বিত দিন। ৭২তম শুভ জন্মদিনে আমি তাঁর সর্বাঙ্গীন মঙ্গল ও দীর্ঘ জীবন কামনা করি।