প্রতিবেদন

বাংলাদেশ সফরকালে ভারতের বাণিজ্য, শিল্প ও অসামরিক বিমানমন্ত্রী সুরেশ প্রভু : বাংলাদেশ-ভারতের বিদ্যমান সম্পর্ক আরো জোরদারে কাজ করছে হাসিনা-মোদি সরকার

বিশেষ প্রতিবেদক
বাংলাদেশ সফরকালে ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য, শিল্প ও অসামরিক বিমানমন্ত্রী সুরেশ প্রভু বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক এখন ঐতিহাসিক। এই সম্পর্ক আরো জোরদারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের আমন্ত্রণে ভারতের শিল্প, বাণিজ্য এবং বেসরকারি বিমান চলাচলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু চারদিনের এক সরকারি সফরে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আসেন এবং ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা ত্যাগ করে।
সুরেশ প্রভুর সঙ্গে ভারতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের একাধিক সদস্য বাংলাদেশ সফরে আসেন। সুরেশ প্রভু ঢাকায় পৌঁছেই ২৫ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের সঙ্গে বৈঠক করেন। ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে ভোলা যান। ভোলায় স্বাধীনতা জাদুঘর পরিদর্শন ছাড়াও সেখানে সুধি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সুরেশ প্রভু। ভোলা থেকে ওইদিন ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকায় ফিরেন এবং বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেন। সুরেশ প্রভু বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামালের সঙ্গেও বৈঠক করেন। ২৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন করেন। চারদিনের সফর শেষে সুরেশ প্রভু ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকা ত্যাগ করেন।
বাংলাদেশ সফরকালে সুরেশ প্রভু বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ব্যবসায়িক চুক্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপর। বাংলাদেশ ও ভারত এখন উন্নয়নশীল দেশ। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চল পরিদর্শন করে খুবই আনন্দিত জানিয়ে সুরেশ প্রভু বলেন, আমি ভাগ্যবান যে, মোদি সরকারে আছি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিভাবে একে অপরকে সাহায্য করার চেষ্টা করছেন, তা সবাই দেখছেন। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে দুইবার ভিডিও কনফারেন্সে মিলিত হয়েছেন হাসিনা-মোদি। সুরেশ প্রভু বলেন, ঢাকা-জয়দেবপুর ডুয়েলগেজ রেললাইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ; যার নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে দুই প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন।
২৫ সেপ্টেম্বর ভোলার বাংলাবাজার ফাতেমা খানম কলেজের অডিটোরিয়ামে ভোলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্ব এবং ব্যবসাসংক্রান্ত সুধি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী সুরেশ প্রভু এসব কথা বলেন।
এর আগে ভারত ও বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ভোলার বাংলাবাজারে স্বাধীনতা জাদুঘর পরিদর্শন করেন। এ সময় সুরেশ প্রভু বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের অনেক আগে ১৯৫২ সালে বঙ্গবন্ধু বাংলা ভাষার জন্য আন্দোলন করেছেন। বঙ্গবন্ধু ইন্দিরা গান্ধির সাথে মৈত্রী চুক্তি স্থাপন করেন। সেই চুক্তির আলোকেই আমাদের সম্পর্ক এখন অনন্য উচ্চতায় স্থাপিত।
সুধি সমাবেশে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একজন মহান নেতা। তিনি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী একসাথে কাজ করছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি খুশি। তোফায়েল আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
সুধি সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।
ভোলায় সুধি সমাবেশের পরদিন ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ভারতের বাণিজ্য, শিল্প ও অসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী সুরেশ প্রভুর নেতৃত্বে আগত প্রতিনিধি দলের সাথে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফয়েল আহমেদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, সব ধরনের বাণিজ্যবাধা দূর করতে ভারত ও বাংলাদেশ একমত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানির েেত্র বিদ্যমান বাধাসমূহ তুলে ধরা হয়েছে। পাটজাত পণ্য, খাদ্যপণ্য, ভোজ্যতেলসহ বাংলাদেশের বেশকিছু পণ্য ভারতে রপ্তানির েেত্র জটিলতা রয়েছে। তবে অগ্রাধিকারভিত্তিতে সমস্যাগুলো সমাধান করার বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বর্ডার হাটের বিষয়ে উভয় দেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। বর্তমানে ৪টি বর্ডার হাট চালু রয়েছে, আরো ৬টি চালুর বিষয় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশ ২১টি পণ্য ভারতে রপ্তানির েেত্র বিএসটিআইয়ের টেস্টিং রিপোর্ট গ্রহণ করার অনুরোধ করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে ১৫টি পণ্যের রিপোর্ট গ্রহণ করা হয়েছে, অবশিষ্ট ৬টি পণ্যের রিপোর্ট গ্রহণ করতে ভারত সম্মত হয়েছে। এছাড়া আরো ৬টি পণ্যের রিপোর্ট গ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত বিভিন্নভাবে বাংলাদেশকে সহায়তা করেছে। ভারত সরকার মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি লোকসভায় রেকটিফাই করে তা বাস্তবায়ন করেছে। ছিটমহলবাসী এখন স্বাধীন জীবনযাপন করছে। উভয় দেশের বাণিজ্য এখন ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি।
এ সময় ভারতের বাণিজ্য, শিল্প ও অসামরিক বিমানমন্ত্রী সুরেশ প্রভু বলেন, উভয় দেশের বাণিজ্য েেত্র কিছু জটিলতা আছে। উভয় দেশের সরকার এবং ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে সকল সমস্যার সমাধান করা হবে। বৈঠকে আমরা সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। সমাধানের বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য করতে ভারত খুবই আন্তরিক। বাংলাদেশের প থেকে বিএসটিআইয়ের টেস্টিং রিপোর্ট গ্রহণ, ভোজ্যতেল রপ্তানির েেত্র জটিলতা, নতুন বর্ডার হাট চালু, পাটপণ্য রপ্তানিসহ যে সকল সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করা হবে। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক শিতি যুবককে কাজে লাগানোর সুযোগ এসেছে। ট্যুরিজম ত্রেকে গুরুত্ব দিয়ে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। এ মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য সার্ভিস সেক্টর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকে উভয় দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং বিষয়গুলোতে আমরা একমত হয়েছি। উভয় দেশের স্বার্থ রা করে বাণিজ্য বৃদ্ধি করা হবে।