অর্থনীতি

বিবিএসের চূড়ান্ত হিসাব : প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৭.৮৬% দারিদ্র্যের হার কমে ২১.৮ শতাংশে

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিদায়ী (২০১৭-১৮) অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বেড়ে রেকর্ড ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ হয়েছে। মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৫১ মার্কিন ডলারে, যা টাকার অংকে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৮৯ টাকা। দেশের দারিদ্র্য হার কমে ২১ দশমিক ৮ ভাগে নেমেছে। সেইসাথে হতদরিদ্র মানুষের হারও কমে ১১ দশমিক ৩ ভাগে নেমেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) চূড়ান্ত হিসাবে এ চিত্র উঠে এসেছে।
রেকর্ড প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্যের সর্বশেষ তথ্য ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, এ অর্জন ঐতিহাসিক। এর সবচেয়ে বড় অবদান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তাই একনেক সভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। জিডিপির এই প্রবৃদ্ধি অর্জন গত অর্থবছরের বাজেটে নেয়া ল্যমাত্রা ৭ দশমিক ৪ শতাংশের চেয়েও বেশি।
মন্ত্রী বলেন, দেশের কৃষি খাতে অভাবনীয় সফলতা এসেছে। গেল বছর বন্যা বা অন্য কারণে কৃষি উৎপাদন তিগ্রস্ত হয়নি। শিল্প উৎপাদনও বেড়েছে। তবে সেবাখাতের অবদান আগের মতোই রয়েছে। সরকার যেভাবে অবকাঠামোর উন্নতি করছে তাতে সেবা খাতের উৎপাদনও বাড়বে।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে বেসরকারি খাতের অবদান সেভাবে না হলেও সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে দেশের জিডিপির আকার ২৭৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। যেটি আগের অর্থবছর প্রায় ২৫০ বিলিয়ন ডলার ছিল।
মন্ত্রী জানান, গেল ২০১৭-১৮ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে জিডিপির অনুপাতে বিনিয়োগ হয়েছে ৩১ দশমিক ২৩ ভাগ। এরমধ্যে সরকারি বিনিয়োগ হয়েছে ৭ দশমিক ৯৭ ভাগ এবং বেসরকরি বিনিয়োগ ২৩ দশমিক ২৬ ভাগ। জিডিপির বিপরীতে জাতীয় সঞ্চয়ের শতকরা অনুপাত ২৭.৪২ শতাংশ। জিডিপিতে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের অবদান দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৪.১৯ ভাগ, ১২.০৬ ভাগ ও ৬ দশমিক ৩৯ ভাগ।
দুই বছর আগে বিবিএসের সর্বশেষ তথ্য বলেছে, দারিদ্র্যের হার ২০১৬ সালে ছিল ২৪.৩ শতাংশ। সেটি পরের বছর ২৩ দশমিক ১ ভাগ এবং সর্বশেষ চলতি ২০১৮ সালে ২১ দশমিক ৮ ভাগে নেমে এসেছে।
মন্ত্রী জানান, আগের সাময়িক হিসাবে মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৭৫২ ডলার থাকলেও ডলারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এটি ১ হাজার ৭৫১ ডলার হয়েছে। তবে টাকার অংকে আগের চেয়ে বেড়েছে।
পরিকল্পনামন্ত্রী আরো বলেন, দেশে দারিদ্র্যের হার যে হারে কমে আসছে তাতে ২০৩০ সালের অনেক আগেই দেশ থেকে দারিদ্র্য দূর হবে। আন্তর্জাতিক মানদ-ে দারিদ্র্যের হার তিন শতাংশে নেমে এলে সেই দেশে দারিদ্র্য নেই বলে ধরা হয়।