ফিচার

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৫টি এমআরটি, ২টি বিআরটি এবং ৬টি এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে কাজ করছে সরকার

হাফিজ আহমেদ : যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং মানুষের চলাচল সহজ ও স্বস্তিদায়ক করতে বর্তমান সরকার সারাদেশে রাস্তাঘাট ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ ও সংস্কার এবং ফাইওভার-ওভারপাস নির্মাণের পাশাপাশি সরকার ৫টি ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি), ২টি বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি), ৩ স্তরবিশিষ্ট রিং রোড, ৬টি এক্সপ্রেসওয়ে ও ২টি ট্রান্সপোর্টেশন হাব নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট-ট্রাফিক সেফটি ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বাস পরিবহন সেক্টর পুনর্গঠনেরও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেত্রী শেখ হাসিনা গত ১৯ সেপ্টেম্বর সরকারি দলের সদস্য এম এ মালেকের এক প্রশ্নের উত্তরে এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের আওতায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সাভার ইপিজেড পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-আশুলিয়া অ্যালিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, গণপরিবহন সুবিধাসম্পন্ন পাতাল রেল এবং সাভারের বলিয়াপুর থেকে নিমতলী-ফতুল্লা-বন্দর হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দ পর্যন্ত ৩৯ দশমিক ২৪ কিলোমিটার অ্যালিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের মাধ্যমে পিপিপি’র ভিত্তিতে সরকার সড়ক খাতে উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, যার মধ্যে রয়েছে ২১৮ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ এবং জয়দেবপুর-দেবগ্রাম-ভুলতা-মদনপুর মহাসড়ক (ঢাকা বাইপাস) চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর দেশের পরিবহন খাতকে গুরুত্ব দিয়ে সড়ক, সেতু, নৌপথ ও আকাশপথে যোগাযোগ সহজতর করতে এ পর্যন্ত এ খাতে মোট ২ লাখ ৪১ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং এ বছর এ খাতে ৫৩ হাজার ৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সারাদেশে বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভাগীয় শহরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকা- পরিচালনা করে চলেছে। যানজট নিরসন করে মানুষের যাতায়াত নির্বিঘœ ও স্বস্তিদায়ক করতে বর্তমান সরকার যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে পরিবেশবান্ধব হাতিরঝিল প্রকল্প, সারাদেশে অসংখ্য ফাইওভার-ওভারপাস ও ইউলুপ নির্মাণ করার পাশাপাশি মেট্রোরেল এমনকি নদীর উপরিভাগে পদ্মাসেতুর মতো বড় সেতু, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ এবং নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের মতো ব্যয়বহুল প্রকল্প হাতে নিয়েছে এসব প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকারের নেয়া এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের জনগণ যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বিশ্বমানের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এ দেশেই ভোগ করতে সমর্থ হবে।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদকে জানান, ঢাকা শহরকে ঘিরে চারদিকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনের স্থলে ছয় লেন এবং দ্রুতগামী ট্রেনযোগাযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।