প্রতিবেদন

কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনের পর এবার বহালের দাবিতে আন্দোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক : গত এপ্রিলে কোটা বাতিল আন্দোলনে উত্তপ্ত ছিল দেশ। সরকারের তরফে কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারীদের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল যে, প্রধানমন্ত্রী সংসদে এক বিবৃতিতে কোটা বাতিল ঘোষণা করেছেন। এর ধারাবাহিকতায় সরকার গঠিত একটি কমিটি কোটা বাতিল বা সংস্কার বিষয়ে কাজ করছে। শিগগিরই কমিটি তাদের সুপারিশ সরকারের কাছে পেশ করবে। সরকার তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতেই করবে।
এরপরও কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারীরা খুব বেশি নিবৃত্ত হয়নি। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারবিরোধী গ্রুপ মিলেমিশে দেশে একটি রাজনৈতিক সংকট তৈরির পাঁয়তারা চালাতে থাকে। সরকার অত্যন্ত ধৈর্যসহকারে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
গত কয়েক মাসে কোটা সংস্কার নিয়ে গঠিত কমিটির নানা তৎপরতা শেষে কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে গত ৩ অক্টোবর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে সচিব কমিটি সুপারিশ করে। পরে সরকারও তা অনুমোদন দেয় এবং এ বিষয়ে ৪ অক্টোবর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরপরই সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল চেয়ে পাঁচ দফার আলোকে কোটা সংস্কার চেয়ে ফের আন্দোলন শুরু করে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডসহ প্রতিবন্ধী, আদিবাসী কোটার সুবিধাভোগীরা। তারা সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত বাতিল চেয়ে সকল চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ সকল কোটা বহাল রাখার দাবি জানাতে শুরু করে।
শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ নিয়ে প্রতিদিনই চলছে মানববন্ধন। প্রতিদিন নানা ব্যক্তি ও সংগঠনের নেতারা এই মানববন্ধনে সমর্থন জানাচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো হলো আটক সকল আন্দোলনকারীর মুক্তি দেয়া ও মামলা প্রত্যাহার করা, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলকারীদের শাস্তি দেয়া এবং কোটা বাতিল নয়; বরং পূর্বে জমা দেয়া পাঁচ দফার আলোকে কোটা সংস্কার করা।
মানববন্ধনে সংহতি বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রুশাদ ফরিদী বলেন, কোটা বাতিলের দাবিতে শিার্থীরা আন্দোলন করেনি, তারা কোটার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেছে। কিন্তু এখন কোটা বাতিল করে শিার্থীদের ওপর দায় চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। ঢাবি অধ্যাপক সামিনা লুতফা বলেন, নিপীড়িত শিার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর কারণে শিকদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের ওপরও নির্যাতন চালানো হচ্ছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম-আহ্বায়ক ফারুক হোসেন বলেন, মন্ত্রিসভায় আমাদের পাঁচ দফা দাবির আলোকেই কোটা সংস্কার করতে হবে। আমরা শুধু প্রথম শ্রেণি এবং দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য আন্দোলন করিনি। আমরা সকল বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান, আতাউল্লাহ খান, বিন ইয়ামিন মোল্লা প্রমুখ।

৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের দাবি
এদিকে, কোটা পর্যালোচনা কমিটির দেয়া প্রতিবেদন বাতিলসহ ৬ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ড। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশ করেন তারা। সমাবেশের পর পাঁচজনের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ ওয়াহিদা মল্লিকের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন।
রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দিন ও অধ্যাপক ড. আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ। অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন বলেন, সচিব কমিটি কারো সঙ্গে আলাপ করলো না, হঠাৎ ঘোষণা দিলো কোনো কোটা থাকবে না। সচিব কমিটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, কোটা বাতিলের সুপারিশ আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা প্রত্যাখ্যান করছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের জন্য কোটার ব্যবস্থা করেছিলেন। এসময় তিনি ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কোটা পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন অবিলম্বে বাতিল করা, ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখা, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সুরা আইন প্রণয়ন ও তাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া ইত্যাদি।
সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও পোষ্য কোটা বহালের দাবিতে শাহবাগের অবরোধ থেকে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মুখপাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন বলেন, যেভাবে আমাদের বাবা-ভাইয়েরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন, আমরাও সেভাবে যুদ্ধ করে দাবি আদায় করব। প্রয়োজনে সারাদেশ অচল করে দেয়া হবে।
মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা কোনোভাবেই মানতে পারছি না। যতদিন আমাদের দাবি বাস্তবায়ন করা না হবে, ততদিন শাহবাগে প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি ও সারা বাংলাদেশে একই কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।
প্রসঙ্গত, ৪ অক্টোবর সরকারি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে সবরকমের কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর পর থেকে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডসহ কয়েকটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের ফলে যে উদ্ভূত সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তার দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। সরকারি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারির পর গণমাধ্যমের সঙ্গে এটি ছিল তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরণ পরিষদের নেতা হাসান আল মামুন বলেন, আমরা সাধারণ ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিত্ব করি। তাই আমরা কখনই কোটার বাতিল চাইনি। আমরা সবসময় পাঁচ দফার আলোকে কোটা পদ্ধতির সংস্কার চেয়েছি। তাই এই কোটা বাতিলের কারণে উদ্ভূত সমস্যার দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। তিনি আরো বলেন, সরকারি চাকরিতে কোনো বিশেষ নিয়োগ দেয়া যাবে না। বিশেষ নিয়োগ ছাত্রসমাজ মেনে নেবে না। সেই সাথে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতেও কোটার যৌক্তিক সংস্কার করতে হবে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের এই আহ্বায়ক বলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নামে ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক যেসকল মামলা দায়ের করা হয়েছে, তা দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এসময় তিনি নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রিলিমিনারী, লিখিত ও মৌখিক পরীার নম্বরসহ ফলাফল প্রকাশের দাবি জানান।

প্রতিবন্ধীদের পাঁচ শতাংশ কোটা দাবি
এদিকে, সরকারি চাকরিতে পাঁচ শতাংশ কোটা সংরণসহ ১১ দফা দাবিতে প্রতিবন্ধীরা শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিােভ কর্মসূচি পালন করছে। প্রতিদিন বেলা দুইটা থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী অধিকার সংরণ পরিষদের ব্যানারে শতাধিক প্রতিবন্ধী শিার্থী এই বিােভ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে। আন্দোলনের আহ্বায়ক মো. আলী হোসেন বলেন, সবাই জানে সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধীদের এক শতাংশ কোটা দেয়া হয়। কিন্তু সত্যিকার অর্থে প্রতিবন্ধীদের জন্য কোনো কোটা নেই। ২০১২ সালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রতিবন্ধীদের কোটা সংক্রান্ত যে প্রজ্ঞাপন জারি করে সেখানে দু’টি ধারা ছিল। প্রথম ধারায় বলা হয়, প্রতিবন্ধীদের জন্য এক শতাংশ কোটা রাখতে হবে। আর দ্বিতীয় ধারায় বলা হয় মুক্তিযোদ্ধা, নারী, উপজাতি এসব কোটার েেত্র যদি কোনো আসন খালি থাকে সেেেত্র যোগ্য প্রতিবন্ধী থাকলে তাদের দিয়ে আসন পূরণ করা যেতে পারে। এটা তো কোনো কোটা হলো না। এজন্য প্রতিবন্ধীদের জন্য পাঁচ শতাংশ কোটা সংরণের দাবি জানান তারা।
এতদিন ঢালাওভাবে বলা হচ্ছিলো যে, কোটা বাতিলের দাবি ন্যায়সঙ্গত। কোটা ব্যবস্থার কারণে নাকি প্রকৃত মেধাবীরা সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জাতি মেধাশূন্য হয়ে পড়ছে। অথচ সত্য হচ্ছে কোটার কারণে মেধাবীরা চাকরিবঞ্চিত হচ্ছেÑ এই অভিযোগটি একেবারেই অসঠিক ও ভিত্তিহীন। কারণ যারা কোটায় চাকরি পাচ্ছিলেন তাদেরও লিখিত পরীায় পাস করতে হতো। কোটার ভিত্তিতে লিখিত পরীায় পাস করানো হয় না। এটা ঠিক যে, দেশে অসংখ্য তরুণ-যুবক বেকার ও কর্মহীন। দুই হাজার শূন্য পদ পূরণের জন্য দরখাস্ত আহ্বান করলে আবেদনপত্র জমা হয় কয়েক লাখ। তাই কোটাটা আমাদের দেশে বড়ো সমস্যা নয়, বড়ো সমস্যা হলো ব্যাপক কর্মসংস্থানের অভাব। কোটা সংস্কার করলে কিছু চাকরিপ্রার্থীর হয়ত কাজ জুটবে, তাতে সমস্যার পাহাড় কমবে না। তাছাড়া কোটার কারণে যারা চাকরি পান তাদের ঢালাওভাবে একেবারে মেধাশূন্য বলাটা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
কোটা পদ্ধতি সংস্কারের সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনকারীরা যদি ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, সরকারি চাকরিতে নতুন পদ সৃষ্টি করা, বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারিত করার জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা এবং সর্বোপরি ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধেও দাবি তুলে ধরতো তাহলে সেটা হতো সবদিক থেকেই ভালো। কোটা ব্যবস্থা না থাকলেও দেশে বেকারত্ব ঘুচবে না।
তারপরও যেহেতু কোটা সমস্যার বিষয়টি সামনে এসেছে সেহেতু এটার পর্যালোচনা, পুনর্মূল্যায়ন করা ছিল সময়ের দাবি। কোটা ব্যবস্থাটা নতুন কিছু নয়। বর্তমান সরকারও এটা চালু করেনি। আমাদের সংবিধানের আলোকেই কোটা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। দুনিয়ার বহু দেশেই কোটা প্রথা আছে। বিশেষ করে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা ব্যবস্থা চালু করা হয়। বাংলাদেশে অবশ্য মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যও কোটা ব্যবস্থা ছিল এবং তা সংখ্যায় বেশিÑ শতকরা ৩০ ভাগ। নারী ১০ ভাগ, পার্বত্য অঞ্চল, শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং অন্যান্য মিলে ১৬ শতাংশ, মোট ৫৬ শতাংশ। এখন কারো কারো কাছে এই কোটাটা বেশি মনে হচ্ছে। আসলে যারা কোটার বিরোধী তাদের আসলে অন্তর্জ্বালাটা বেশি এই মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে।
ইস্যুটির প্রতি অনেকেরই সমর্থন আছে বুঝতে পেরে আন্দোলনে যে ‘রাজনীতি’ ঢুকে পড়েছিল সেটা বোঝার জন্য গবেষক হওয়ার প্রয়োজন হয় না। কোটা ব্যবস্থা রাখা না-রাখার সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচর্যের কোনো সম্পর্ক নেই। তারপরও তার বাসভবনে গভীর রাতে হামলা করা, ভাঙচুর ও লুটপাট করাÑ এগুলো মেধাবী শিার্থীদের কাজ, নাকি মতলববাজ রাজনৈতিক ক্যাডারদের কাজ? চারুকলায় হামলা করে পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রার জন্য প্রস্তুত জিনিসপত্র ভাঙচুর করলো ুব্ধ মেধাবী সাধারণ শিার্থীরা? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্দোলনের সূতিকাগার বলা হয়। কত আন্দোলনের ঐতিহ্য বহন করছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। কেউ কখনও শুনেছেন, আন্দোলনকারী উপাচার্যের বাসভবনে হামলা করেছে?
এখন আবার শুরু হয়েছে উল্টো গীত। বলা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিমান করে এই ঘোষণা দিয়েছেন। কেউ বলছেন, তিনি রাগ করেছেন। কোটা বাতিল তো কেউ চায়নি, সংস্কার চেয়েছে। মাথা ব্যথার জন্য তো মাথা কেটে ফেলা ঠিক না। কিন্তু সরকার যখন বিষয়টি পরীা-নিরীার জন্য ১ মাস সময় চাইলো তখন আন্দোলন অব্যাহত রাখা যে যৌক্তিক হয়নিÑ এটা কিন্তু কেউ বলেনি। প্রধানমন্ত্রী যদি সংস্কারের কথা বলতেন, তাহলে হয়ত বলা হতোÑ কতটুকু সংস্কার সেটা আগে বলতে হবে! তারপর অন্য সব।

শেষ কথা
সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা থাকা না থাকা বা কতটুকু থাকবে তা নিয়ে বিতর্ক থেকেই গেল। এ জটিলতা নিরসনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার বেশ আন্তরিক হলেও এখন দেখা যাচ্ছে যে, কোটা ইস্যুতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যেই এখনও রয়ে গেছে চরম বিরোধ-অনৈক্য। তাদের কেউ কেউ সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের পক্ষে আবার কেউ-বা কোটা প্রথা একেবারে বাতিল না করে সংস্কারের পক্ষে। এ কারণেই মূলত শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সরকার সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলেও এখন আবার সরকারের সিদ্ধান্ত বাতিল চেয়ে পুনরায় আন্দোলন চলছে। এমতাবস্থায়, চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা ইস্যুতে চলমান আন্দোলন নিয়ে সরকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিককালে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ পুনর্বিবেচনার আগে কোটা ইস্যুতে আন্দোলনকারীদেরই ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে আসলে তারা কী চান। আর যদি আন্দোলনকারী সকল পক্ষই কোটা ইস্যুতে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে, তাহলেই কেবল সরকার তার সিদ্ধান্তের বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করতে পারে।