প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

চতুর্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে দেশবাসীর সমর্থন ও সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

হাফিজ আহমেদ : আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম জনগণের কাছে তুলে ধরতে ৫ অক্টোবর ঢাকাসহ সারাদেশে ৩ দিনব্যাপী চতুর্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চতুর্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করা হয়। জাতীয় উন্নয়ন মেলার এবারের স্লোগান ছিলÑ ‘উন্নয়নের অভিযাত্রায় অদম্য বাংলাদেশ’। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের জেলা ও উপজেলা সদরদপ্তরে আয়োজিত এ মেলায় বিপুল জনসমাবেশ হয়।
দেশব্যাপী আয়োজিত এ মেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিভিন্ন েেত্র সরকারের নানা অর্জন ও উন্নয়নের চিত্র উপস্থাপন করা হয়। ঢাকার আয়োজনটি হয় আগারগাঁওয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠে। মেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের ১০টি বিশেষ উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সাফল্য, রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১-এর মাধ্যমে উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, তথ্যপ্রযুক্তি, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্প এবং দেশে বিনিয়োগ সম্ভাবনা, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণমাধ্যমসহ দেশের উন্নয়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান এবং বর্তমান সরকারের সময়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন ও সাফল্যের বিষয়ে মেলায় জনগণকে অবহিত করা হয়।
জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক আয়োজনে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, সংস্থা, ব্যাংক, বীমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নেয়। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলে ৩ দিনব্যাপী আয়োজিত এই উন্নয়ন মেলা দেশের ৬৪টি জেলা এবং ৪৯০টি উপজেলায় একযোগে উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি দেশকে এগিয়ে নিতে দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা চাই। সর্বস্তরে আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আছেন। সংসদ সদস্য থেকে একেবারে ইউনিয়ন পরিষদ ও ওয়ার্ড মেম্বাররা প্রত্যেকেই, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার জনগণ রয়েছেন, প্রশাসনে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ এবং আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সদস্যÑ সকলের একটি সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে এই বাংলাদেশকে আমরা অতি দ্রুত দারিদ্র্যমুক্ত করতে পারব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে একটা সময় বাজেট দিতে অন্যের মুখাপেী হতে হতো। এখন বাংলাদেশ নিজের টাকার বাজেট দিচ্ছে। আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। শিা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, শিল্প, বিনিয়োগ সবেেত্র বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে। অগ্রযাত্রা যাতে ব্যাহত না হয়Ñ সেদিকে সজাগ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে কারো মুখাপেী হয়ে চলবে না, নিজের পায়ে দাঁড়াবে। ২০২০ সালে আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করবো। আর স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবো ২০২১ সালে। এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ হবে একটি ুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ। আর ২০৪১ সালে বাংলাদেশ দণি এশিয়ার একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে। সেভাবেই আমরা আমাদের পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন অব্যাহত রেখেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকারের ল্যই হচ্ছে এমন একটি দেশ গড়ে তোলা যেখানে কোনো গৃহহীন থাকবে না, কেউ না খেয়ে, বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না। সেই ল্েয দেশকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নেয়ার জন্যই আমরা ‘ডেল্টা প্ল্যান-২১০০’ প্রণয়ন করেছি।
তিনি বলেন, আজকের শিশু আগামী দিনের নাগরিক এবং তারাই দেশকে আগামীতে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যত গড়ে তোলার ল্য নিয়েই সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আর সেদিকে ল্য রেখেই আমাদের এই দেশব্যাপী উন্নয়ন মেলার আয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী চতুর্থ উন্নয়ন মেলাকে তরুণ প্রজন্মের জন্য উৎসর্গ করে বলেন, সন্ত্রাস, মাদক বা জঙ্গিবাদÑ এসব থেকে মুক্ত থেকে তরুণরা নিজেদের সুন্দরভাবে গড়ে তুলবে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি আশা করি উন্নয়ন মেলার মাধ্যমে দেশের জনগণ এটা অনুধাবন করতে পারবে যে, তাদের জন্য আমার সরকার কি সব উন্নয়ন করলাম। এই উন্নয়নের মধ্য দিয়ে নিজের ভাগ্যকে কিভাবে তারা গড়তে পারেন সেই সুযোগটাও তারা পাবেন এবং সেই সুযোগটা তারা গ্রহণ করবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের জাতীয় উন্নয়ন মেলায় এসএসসি পরীার্থীদের জন্য থাকছে ‘অনলাইন ডিজিটাল পাঠ সহায়িকা’। এটিকে শিক্ষার্থীদের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের ‘উপহার’ হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এসএসসি পরীার ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখলামÑ পাসের হার বৃদ্ধি পেলেও কয়েকটি বিষয়ে আমাদের ছেলেমেয়েরা একটু পিছিয়ে আছে। সেজন্য এসএসসি পরীার্থীদের জন্য আমার প থেকে একটা উপহারÑ সেটা হচ্ছে পরীার্থীদের জন্য বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে অনলাইন ডিজিটাল পাঠ সহায়িকা। মেধাবী শিার্থীদের লেখাপড়ায় যেন কোন সমস্যা না হয়, সেজন্য আমরা বৃত্তি-ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকেই মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, জাতির পিতার নেতৃত্বে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। জাতি হিসেবে আমাদের পরিচয় তিনি দিয়ে গেছেন। জাতির পিতার যে আকাক্সা ছিল, সেই আকাক্সা পূরণেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
এ সময় জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। ভিডিও কনফারেন্সের সঙ্গে ৪টি উপজেলা এবং দেশব্যাপী ৫ শতাধিক বিভাগীয় শহর, জেলা-উপজেলার উন্নয়ন মেলাগুলো এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারসমূহ সংযুক্ত ছিল। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সরকারি কর্মকর্তাগণের পরষ্পরের মতবিনিময়ের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনাসমূহ চিহ্নিতকরণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নেও এই মেলা বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
শেখ হাসিনা বলেন, খুলনায় ভিক্ষুক পূনর্বাসনের একটা প্রশংসনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে তাদের একদিনের বেতন অনুদান হিসেবে দিয়ে একটি ফান্ড তৈরি করে খুলনাকে ভিক্ষুকমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন এবং এটি অত্যন্ত সফল হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় যে ভিা করতো আজকে সে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবিকার পথ বেছে নিয়েছে। আমি মনে করি, সারাদেশের প্রতিটি নির্বাহী কর্মকর্তা যদি এভাবে উদ্যোগ নেন তাহলে প্রতিটি জেলা-উপজেলা ভিক্ষুকমুক্ত হতে পারে এবং প্রতিটি মানুষ একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপন করতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঠিক এমনিভাবে বরিশালেও এটা শুরু হয়েছিল, টাঙ্গাইলে যেটি করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ‘সিটিজেন জার্নালিস্ট গ্রুপ’ সৃষ্টি করে মরে যাওয়া লৌহজং নদীতে পানির প্রবাহ সৃষ্টির উদ্যোগ তারা নিয়েছেন। তারা একদিকে যেমন নদীকে দখলমুক্ত করেন অন্যদিকে নদী পুনঃখনন করে নদীতে জলধারা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন। এ ধরনের উদ্যোগ দ্রুত দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে।
এ সময় খুলনায় পুনর্বাসিত ভিক্ষুক আম্বিয়া বেগমের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সেলাই মেশিন এবং নগদ কিছু অর্থ সাহায্য পাওয়ায় আম্বিয়া বেগম ভিাবৃত্তি পরিত্যাগ করে নিজে আয় করে চলছেন শুনে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে তাঁর পদপে তুলে ধরে বলেন, জাতির পিতা ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে দেশে ফিরেই ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বক্তৃতায় বলেছিলেন, দেশের মানুষ যেন অন্ন, বস্ত্র ও উন্নত জীবন পায়। সেখানে দেশকে গড়ে তোলার সার্বিক পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন তিনি। একটি স্বাধীন রাষ্ট্র কিভাবে চলবে, অর্থনৈতিক নীতিমালা কি হবে এবং বাংলাদেশকে নিয়ে তার যে স্বপ্ন, সেই স্বপ্নের কথা জাতির পিতা ওই বক্তৃতায় উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলে যখনই বঙ্গবন্ধু উন্নয়নের পথে যাত্রা শুরু করেন তখনই ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট তাকে সপরিবারে হত্যার শিকার হতে হয়। দুর্ভাগ্য, দেশ পুনর্গঠনের শুরু করা কাজ তিনি শেষ করে যেতে পারেননি। তবে তাঁর কন্যা হিসেবেই এটা আমার দায়িত্ব, যে স্বপ্ন নিয়ে বঙ্গবন্ধু এদেশ স্বাধীন করেছিলেন; দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং বাংলাদেশকে বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করাÑ তার সেই আকাক্সক্ষা পূরণ করা। সেই অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করা আমার কর্তব্য। সেই ল্য নিয়েই আমরা এদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করেছি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যখন ১৯৯৬ সালে প্রথম সরকার গঠন করেছি তখন থেকেই দেশের মানুষের সার্বিক উন্নয়নের ল্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। কারণ ২১ বছর হত্যা, ক্যু আর ষড়যন্ত্রের রাজনীতির মধ্য দিয়ে ’৭৫-এর ঘাতক এবং মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি দেশকে পিছিয়ে রেখেছিল। আমাদের দুর্দিন কেটে গেছে। আমরা বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে আনতে পেরেছি। আজ বাংলাদেশ বিশ্বসভায় উন্নয়নের রোল মডেল।
একটি পরিকল্পিত নীতিমালার ভিত্তিতে বর্তমান সরকার যথাযথ পদপে গ্রহণ করেছে বলেই আজ দেশের উন্নয়ন সমগ্র জাতি ও বিশ্ববাসীর কাছে দৃশ্যমান হচ্ছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতিসংঘ প্রণীত টেকসই উন্নয়ন ল্যমাত্রা এমডিজির কার্যক্রমের মধ্যে ৫৬টি ল্য আমরা সুনির্দিষ্টভাবে গ্রহণ করেছি। আর যে ২০২টি টার্গেট নেয়া হয়েছে, তার অনেক কাজই আমরা এরই মধ্যে করে ফেলেছি। এছাড়া আরো ১১টি ল্য রয়েছে, যেগুলো বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের উন্নয়ন যেন স্থায়ী হয় সেদিকে ল্য রেখেই আমরা এখন আমাদের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাগুলো প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের উদ্যোগেই পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করেন।
‘উন্নয়নের গণতন্ত্র শেখ হাসিনার মূলমন্ত্র’ শীর্ষক থিম নিয়ে আয়োজিত এবারের উন্নয়ন মেলা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, আমরা কী কী কাজ করছি জনগণের তা জানা উচিত। পাশাপাশি জনগণকে এতে সম্পৃক্ত হতে হবে। কারণ জনগণের জন্য আমরা কাজ করছি এবং তাদেরকে সাথে নিয়েই পথ চলতে চাই, যাতে করে আমাদের উন্নয়নগুলো দ্রুত ত্বরান্বিত হয় এবং সেগুলো স্থায়ী হয়। এজন্যই আমরা জেলা ও উপজেলায় এই উন্নয়ন মেলার আয়োজন করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলার ৪ হাজার ৩৪০টি স্টলে সরকারের প্রদেয় সেবাসমূহ এবং জনগণ তাদের প্রাপ্ত অধিকারসমূহ জানতে পারবে। শুধু জনগণ এটাই জানে এমডিজি বা এসডিজি এগুলো কী, কোন খাতে এর অর্জনসমূহ তাও জানতে পারবে।
শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে দেশে একশ’টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, দেশব্যাপী ১৩ হাজার ১৩৬টি কমিউনিটি কিনিকের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে যাওয়া, সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের বিভিন্ন কর্মসূচিসহ সরকারের উদ্যোগে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের একটি খ-চিত্র তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আজ সেই ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন হয়েছে বলেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশের জনগণের সঙ্গে কথা বলতে পারছি। আজ ঢাকায় বসে সারা বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকা- পরিচালনা করতে পারছি এবং গণশুনানি নেয়া হচ্ছে; যার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের কী প্রয়োজন ও সমস্যাÑ সেটা জানার ও মেটানোর সুযোগ হচ্ছে এবং জনগণও বিভিন্ন কর্মকা-ে তাদের মতামত দিয়ে সহযোগিতা করতে পারছেন।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে মেলার উদ্বোধন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সকল জেলা ও উপজেলায় বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা মেলার উদ্বোধন করেন। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সে সরাসরি যুক্ত ছিল টাঙ্গাইল, বরিশাল, খুলনা ও গোপালগঞ্জ জেলা। মেলার কার্যক্রম উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী এসব জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।