প্রতিবেদন

বৃহত্তম বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে সিরাজগঞ্জে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বারে কর্মসংস্থান হবে ৫ লাখ মানুষের

নিজস্ব প্রতিবেদক : ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিশ্রুতি হচ্ছে সারাদেশে সুষম উন্নয়ন। একই সঙ্গে পিছিয়ে পড়া এলাকার জনগণের কল্যাণের জন্য সরকার নিয়েছে বিশেষ বিশেষ উদ্যোগ। সরকারি নানা উদ্যোগের ফলে এরই মধ্যে মঙ্গামুক্ত হয়েছে উত্তরবঙ্গ। এ ধারাবাহিকতায় উত্তরের প্রবেশদ্বার বঙ্গবন্ধু বহুমুখী যমুনা সেতু সংলগ্ন সিরাজগঞ্জে বেসরকারিভাবে অর্থনৈতিক অঞ্চল করার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। প্রায় এক হাজার ৪১ একর জমিতে গড়ে উঠছে এ শিল্পাঞ্চল। নতুন এ শিল্পাঞ্চলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও শ্রমঘন কারখানা গড়ে উঠবে। সেখানে সরাসরি কাজের সুযোগ পাবে ৫ লাখের বেশি মানুষ।
সম্প্রতি বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় এ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে চূড়ান্ত লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপ-বেজা। বেজা সূত্রে জানা গেছে, এ অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় কাজ সমাপ্ত করেছে। তারা বর্তমানে জমির উন্নয়ন কাজ করছে।
আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার। এর মধ্যে ৮৯টির অনুমোদন দিয়েছে বেজা। এর মধ্যে ২৮টি অর্থনৈতিক অঞ্চল বেসরকারি উদ্যোগে বাস্তবায়িত হবে।
সিরাজগঞ্জ জেলায় প্রতিষ্ঠিত এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কাজের সুযোগ পাবে ৫ লাখ মানুষ। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা এ বিষয়ে বলেন, বেসরকারি উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন এ অঞ্চলের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ জেলা প্রশাসনের হাতে ছিল, সেটি সফলভাবে করা হয়েছে। যাদের জমি ছিল সরকারিভাবে তাদের পাওনা বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এই অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠলে এই এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন হবে। মানুষের কর্মসংস্থান হবে, আয় বাড়বে, জীবনযাত্রার মান বাড়বে।
সূত্র জানায়, শুরুতে এটি সরকারি অঞ্চল হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেটি হয়নি। পরবর্তীতে উদ্যোক্তাদের আগ্রহে বেসরকারিভাবেই এটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় বেজা। ১১ শিল্পোদ্যোক্তার সমন্বয়ে গঠিত কনসোর্টিয়ামকে অঞ্চল গড়ে তুলতে গত বছরের জুনে প্রাক-লাইসেন্স দেয় বেজা। যৌথ উদ্যোক্তারা হলো নিট এশিয়া, রাইজিং হোল্ডিংস, এসএম ইন্ডাস্ট্রিয়াল হোল্ডিংস, টেক্স টাউন, এহসানুল হাবীব, চেইঞ্জ বাংলাদেশ, মাহমুদ ফ্যাশন, রাতুল নিটওয়ার্স, মো. কামরুজ্জামান, মানামি ফ্যাশনস ও প্যারাগন ফিড।
বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, বিনিয়োগকারীরা সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন। সেবা পাওয়ার জন্য ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টার থাকবে। কারখানা গড়ে তোলার আগেই নিশ্চিত করা হবে গ্যাস, বিদ্যুৎ অন্যান্য অবকাঠামো সুবিধা।
উদ্যোক্তারা জানান, উত্তরবঙ্গের গেটওয়ে বলা হয় সিরাজগঞ্জকে। ব্যবসাবাণিজ্যের গুরুত্ব বিবেচনায় সেখানে গড়ে উঠেছিল নৌ-বন্দর ও রেল সংযোগ। পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু সেতু করা হয়। বঙ্গবন্ধু সেতু চালুর পর উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলায় মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থা যে হারে উন্নতির আশা করা হয়েছিল, সেভাবে হয়ে ওঠেনি। উদ্যোক্তারা আশা করছে, প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলটি প্রতিষ্ঠিত হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে। এখানে নদীপথ আছে। সড়ক ও রেল সংযোগ রয়েছে। পাশেই রয়েছে রেল স্টেশন। এখানে গ্যাস-বিদ্যুতের সুবিধা আছে। বিনিয়োগের জন্য সিরাজগঞ্জ হবে আদর্শ জায়গা।
অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে নিজেদের প্রত্যাশা সম্পর্কে স্থানীয় সায়দাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নবীদুল ইসলাম বলেন, এখানে শিল্পাঞ্চল হলে কারখানায় কাজের পাশাপাশি ব্যবসাবাণিজ্য, ঘর-বাড়ি ভাড়া দেয়াসহ বিভিন্নভাবে এ এলাকার মানুষ উপকৃত হবে।
সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলের পরিচালক শেখ মনোয়ার হোসেন জানান, উত্তরবঙ্গের দরিদ্র মানুষের কাজের জন্য ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামে ছুটে যায়। অকান্ত পরিশ্রম করে যে অর্থ উপার্জন করে তার অধিকাংশ ব্যয় হয়ে যায় বাসাভাড়া, খাওয়া-দাওয়া ও যাতায়াতে। কঠোর পরিশ্রম করেও জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণের সুযোগ পান না অনেক শ্রমিক। তাদের কথা চিন্তা করেই শ্রমঘন অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে নতুন এ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি। এখানে ৫ লাখ মানুষ কাজ করবে। মোট জমির ৬০ শতাংশে কারখানা হবে। অন্যজমিতে পার্ক, বনায়ন ও শিা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি গড়ে তোলা হবে। শ্রমিকদের জন্য থাকবে অত্যাধুনিক ডরমেটরি। এছাড়া মানুষ যাতে বাড়ি থেকে কারখানায় কাজ করতে পারে এজন্য চালু হবে শাটল ট্রেন, বাস ও নদীতে ট্রলার সার্ভিস।
বেজা ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যোগাযোগের সব মাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন এ অঞ্চলের বিনিয়োগকারীরা। এটি পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হবে। এখানের আনুমানিক ৫০ কোটি ডলার বা ৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। এখানকার কারখানায় উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে প্রতি বছর প্রায় ২০০ কোটি ডলার রপ্তানি আয় করা সম্ভব।