প্রতিবেদন

সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়ন : মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থানে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক : মাদক নির্মূলে সরকার কতটা কঠোর অবস্থান নিয়েছে, সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপে তার প্রমাণ পাচ্ছে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীরা। সরকারের সর্বো”” মহলের দিকনির্দেশনা মোতাবেক মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বাত্মক অভিযান শুরুর পর সরকার সর্বশেষ মাদকদ্রব্যের ব্যবসা ও ব্যবহার রুখতে বিদ্যমান আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আইনের খসড়ায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-ের বিধান রাখা হয়েছে। ইয়াবা (অ্যামফিটামিন) পরিবহন, কেনাবেচা, ব্যবসা, সংরণ, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তান্তর, সরবরাহ ইত্যাদি অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- এবং এ কাজে নিয়োগ, সরবরাহ, মদদ ও পৃষ্ঠপোষকতা করলেও একই ধরনের শাস্তি পেতে হবে। প্রস্তাবিত আইনে হেরোইন ও কোকেন উদ্ভূত মাদকদ্রব্যের জন্যও ইয়াবার মতোই কঠোর শাস্তি রাখা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, ৫০ গ্রামের বেশি ইয়াবা পরিবহন, মজুদ, বিপণন ও সেবনের েেত্র সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-। আর ২৫ গ্রামের বেশি হেরোইন, কোকেনসহ সমজাতীয় মাদকদ্রব্যের েেত্র সর্বোচ্চ শাস্তিও মৃত্যুদ-। আগের আইনে মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল ২ থেকে ১৫ বছরের কারাদ-।
গত ৮ অক্টোবর রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এই অনুমোদনের কথা জানান। তিনি বলেন, দেশব্যাপী চলমান মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে সরকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কঠোর সাজা রেখে আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। গত কয়েক মাসে মাদকবিরোধী অভিযানে দুই শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই নিহত হয়েছে পুলিশ ও র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, হেরোইন, কোকেনজাতীয় মাদকদ্রব্যের পরিমাণ অনূর্ধ্ব ২৫ গ্রাম হলে কমপে ২ বছর এবং সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদ-। আর মাদকদ্রব্যের পরিমাণ ২৫ গ্রামের বেশি হলে মৃত্যুদ- বা যাবজ্জীবন কারাদ-। পরিবহন, ব্যবসা, সংরণ, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণÑ সবগুলোই এর মধ্যে চলে আসে। আগের আইনটি ১৯৯০ সালে প্রণয়ন করা হয়েছিল। এটাকে আন্তর্জাতিক প্রোপটে সময়োপযোগী করে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। বাংলাদেশ সিঙ্গেল কনভেনশন অন নারকোটিকস ড্রাগস-১৯৬১, ইউএন কনভেনশন অন সাইকো ট্রপিক সাবসটেন্সস-১৯৭১ এবং ইউএন কনভেনশন অন নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকো ট্রপিক সাবসটেন্সস ১৯১৮ এ সই করেছে। এগুলোর ভিত্তিতে আইনটি হালনাগাদ করা হয়েছে।
আগের আইনে অনেক বিষয় সরাসরি পরিষ্কার করা নেই উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের বলেন, নতুন আইনে ইয়াবা, সিসাবার, ডোপ টেস্টের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; অর্থাৎ সব ধরনের মাদককে নতুন আইনে যুক্ত করা হয়েছে। এমন কোনো বিষয় নেই, যা এই আইনে অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। কোনো না কোনোভাবে তা এ আইনের আওতার মধ্যে চলে আসবে।
ইন্টারন্যাশনাল নারকোটিক্স কন্ট্রোল বোর্ডের নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রস্তাবিত আইনে ‘কন্ট্রোল-ডেলিভারি’ নামে নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, এতে বিয়ারের সংজ্ঞা হালনাগাদ করা হয়েছে। প্রস্তুতকৃত দশমিক ৫ শতাংশ অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়কে বিয়ার বলা হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মাদকদ্রব্যের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, এই আইনের তফসিলে উল্লিখিত কোনো দ্রব্য এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার কর্তৃক সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা মাদকদ্রব্য বলে ঘোষিত অন্য কোনো দ্রব্য, যা সংশ্লিষ্ট তফসিলের অংশ বলে গণ্য হবে। মাদকদ্রব্যের সঙ্গে অন্য যেকোনো দ্রব্য মিশ্রিত বা একীভূত দ্রব্য সমুদয় পণ্য মাদকদ্রব্য বলে গণ্য হবে।
মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, সিসার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন ধরনের ভেষজ-নির্যাস সহযোগে দশমিক ২ শতাংশের ঊর্ধ্বে নিকোটিন এবং এসএস ক্যানেল মিশ্রিত উপাদান।
মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী কেউ যদি বার চালাতে চায় তার লাইসেন্স লাগবে। লাইসেন্স ছাড়া যদি কেউ বার চালায় তার জন্য শাস্তির বিধান আছে। অনূর্ধ্ব ১ লাখ টাকা আদায় করে শর্ত পূরণপূর্বক লাইসেন্স দেয়া হবে। মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে শনাক্তকরণে বিধি দিয়ে নির্ধারিত পদ্ধতিতে ডোপ টেস্ট করা যাবে। টেস্ট পজিটিভ হলে কমপে ৬ মাস ও সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদ- দেয়া হবে।