ফিচার

সফলতা লাভ করতে যে মন্দ অভ্যাসগুলোর পরিবর্তন জরুরি

স্বদেশ খবর ডেস্ক : মানুষ অভ্যাসের দাসÑ কথাটি বহুল প্রচলিত। ভালো অভ্যাস মানুষকে সফল করে তোলে, আর মন্দ অভ্যাস জীবনে নিয়ে আসে হতাশা। জীবনের কিছু অভ্যাস মানুষকে সফলতা এনে দেয়। মানুষ সবসময়ই নতুন কিছু করতে চায়, নতুন স্বপ্ন নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চায়। তাই স্বদেশ খবর পাঠকরা ক্যারিয়ারে সফলতা পেতে এখনই নিজেকে সাজিয়ে নিন। পরিহার করুন কয়েকটি মন্দ অভ্যাস।

সুযোগের অপেক্ষায় থাকবেন না
ধরুন বাইরে প্রচ- বৃষ্টি হচ্ছে, যে কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না; কিংবা ট্রেন দেরি করছেÑ এ কারণে আপনি অস্বস্তি বোধ করছেন। অথচ একটা ভালো বই পড়ার এটা বড় একটা সুযোগ।
দুই শ্রেণির মানুষ আছেন; সক্রিয় আর নিষ্ক্রিয়। অবস্থা পুরোপুরি উপযোগী হলে তবেই নিষ্ক্রিয় ব্যক্তি কাজে হাত দেন। সক্রিয় ব্যক্তি প্রতিকূল পরিবেশে কাজ শুরু করে কাজের মাধ্যমে পরিস্থিতি অনুকূলে নিয়ে আসেন। প্রতিকূল পরিবেশে কাজ শুরু করেন বলে দশ ভাগ পরিস্থিতি অনুকূলে আনতে পারাটাই তার সফলতা।
সুযোগের অপেক্ষায় না থেকে পরিবেশ অনুকূলে না থাকলেও কাজ শুরু করে দেয়াই উত্তম। সুযোগের অপেক্ষায় থাকার মন্দ অভ্যাসটি ত্যাগ করুন আজই।

গড়িমসি করা চলবে না
আপনি জানেন যে আপনার কাজটি কখন বা কবে নাগাদ শেষ করতে হবে। তাই আপনি গড়িমসি ছেড়ে কাজটি দ্রুত শেষ করলে একসঙ্গে দু’টি উপকার পাবেন। ১. আপনার কাজের স্ট্রেস আর থাকবে না। ২. আপনি হাতে কিছু অতিরিক্ত সময় পেলেন, যা ইচ্ছামতো অন্য আরেকটি কাজে লাগাতে পারবেন।
যদি আপনার কাজ খুব বিরক্তিকর হয়, তবে আপনি তা সময় অনুযায়ী ছোট ছোট লটে ভাগ করে নিতে পারেন। তবে গড়িমসি করা চলবে না মোটেও। এ ধরনের অভ্যাস থাকলে তা ত্যাগ করুন দ্রুত।

একটু গুছিয়ে নিন
অনেক কাজ বলে ফেলে রাখবেন না। কাজগুলো গুছিয়ে নিন। প্রয়োজন হলে গুগল ক্যালেন্ডার ব্যবহার করুন। আপনার কাজগুলো কখন কোনটা করতে হবে তা আপনাকে গুগল মনে করিয়ে দেবে। কাজের আগে একটি রিমাইন্ডার টাইম সেট করুন। হলফ করে বলতে পারি, আপনার কাজ সম্পন্ন হবে সময়মতো।

বিরক্তিকে প্রশ্রয় দেবেন না
আপনাকে বিভিন্ন রকম পরিস্থিতি থেকে শিখতে হয় প্রতিনিয়ত। কঠিন পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়বেন না, অভিযোগও করবেন না, বুদ্ধি দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করুন। কখনো বিরক্ত হয়ে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন না।

নিজেকে চ্যালেঞ্জ করুন
কর্মক্ষেত্রে যদি আপনি কেবল এক ধরনের কাজের অভ্যাস গড়ে তোলেন, তবে আপনার অন্যকাজে দক্ষতা আছে কি না, তা জানতে বা বুঝতেও পারবেন না। তাই নিজের দক্ষতা যাচাই করতে নিজেকে চ্যালেঞ্জ করুন। আপনার পক্ষে এ কাজ করা সম্ভব নয়Ñ এমন চিন্তা ত্যাগ করুন এখনই।

অন্যের প্রতিক্রিয়া শুনুন
কাজ নিয়ে একটি গঠনমূলক আলোচনা বা সমালোচনা ভালো কাজের গতি বাড়িয়ে দিতে পারে। আপনার সহকর্মী বা বসের কাছ থেকে কাজের প্রতিক্রিয়া শুনুন, পারলে সে অনুযায়ী নিজেকে গুছিয়ে ফেলুন।

বর্তমানকে গুরুত্ব দিন
অধিকাংশ পেশাজীবীরই ধারণা, নিয়মিত চাকরি পরিবর্তনেই উন্নতি সম্ভব। কিন্তু এটি সবক্ষেত্রে কার্যকর নয়। এর বদলে বর্তমান চাকরিতেই চ্যালেঞ্জিং কাজ গ্রহণ করে উন্নতি করা সম্ভব। এজন্য সঠিক সুযোগের প্রতীক্ষায় থাকতে হবে এবং বর্তমান সময়কে গুরুত্ব দিতে হবে।

কাজের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন
কাজের মাঝখানে ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম বা অন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নোটিফিকেশনটি বন্ধ রাখুন। দেখবেন, আপনার কাজটি দ্রুত শেষ হবে। কেননা তখন আপনার চিন্তা কেবল কাজেই থাকবে। নতুবা সবকিছু একত্রে দেখতে গিয়ে আপনি গুলিয়ে ফেলতে পারেন। এতে আপনার কাজ সম্পন্ন তো হবেই না, বরং অন্য কাজের সময় কমে আসবে।

কাজের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকুন
যে কাজেই থাকুন না কেন, আপনার কাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। হতে পারে আপনার সহপাঠী আপনার চেয়ে অনেক ভালো অবস্থানে আছেন। তাই বলে হতাশ হওয়া যাবে না। এমন অনেকেই আছেন, চাকরির জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাদের চেয়ে আপনি অনেক ভালো অবস্থানে আছেন, এটাই ভাবুন। শান্ত মনে আপনার কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলে সাফল্য আসবেই।