প্রতিবেদন

সৌদি আরব সফর শেষে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : দেশের উন্নয়ন ও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সৌদি আরব বাংলাদেশের পাশে থাকবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি বাদশাহ এবং সৌদি আরবে অবস্থিত দুই পবিত্র মসজিদের জিম্মাদার সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সউদ-এর আমন্ত্রণে ১৬ থেকে ১৯ অক্টোবর সৌদি আরবে ৪ দিনের সরকারি সফর করেন। আর দেশে ফিরে ২২ অক্টোবর সফর নিয়ে গণভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সৌদি আরব সফরকে অত্যন্ত সফল আখ্যায়িত করে বলেন, এই সফরের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগের নবধারা সূচিত হবে।
তিনি আরো বলেন, সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সউদ ও যুবরাজ মোহাম্মদ সালমান বিন আবদুল আজিজ সৌদি আরব সফরে তাঁকে নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সৌদি আরব সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে।
তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমার এ সফর দুদেশের সম্পর্ক বৃদ্ধি বিশেষত বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।
সফরে সৌদি বাদশাহ এবং ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসহ প্রধানমন্ত্রী মদিনা শরিফে রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর পবিত্র রওজা মোবারক জিয়ারত করেন এবং সফরসঙ্গীসহ মক্কা শরিফে পবিত্র ওমরাহ পালন করেন। সফরকালে বিনিয়োগ সংক্রান্ত দুই দেশের মধ্যে ৫টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবে ইতঃপূর্বে উচ্চপর্যায়ের সফরগুলোতে সেদেশের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়টি প্রাধান্য পেত। কিন্তু এবারের সফরে গতানুগতিক ধারার বাইরে অভিন্ন অর্থনৈতিক স্বার্থরক্ষায় কার্যকর অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা, মুসলিম বিশ্বে স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতামূলক তৎপরতা বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়। সফরকালে সৌদি আরবের বাদশাহ তাঁর সকল সফরসঙ্গীকে রাজকীয় আতিথেয়তা প্রদান করেন বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
সফরের অনুপুঙ্খ বর্ণনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় রিয়াদে পৌঁছলে রিয়াদের ভাইস গভর্নর এবং সৌদি আরবের তথ্যমন্ত্রী কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রয়াল টার্মিনালে তাঁকে স্বাগত জানান। এরপর দুদেশের জাতীয় পতাকা শোভিত মোটর শোভাযাত্রা সহযোগে অতিথিদের কিং সৌদ গেস্ট প্যালেসে নিয়ে যাওয়া হয়।
১৭ অক্টোবর দুপুরে তিনি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজের সঙ্গে রিয়াদের আরগায় রাজপ্রাসাদে ঘণ্টাব্যাপী দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত উষ্ণ ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তিনি রাজপ্রাসাদে পৌঁছলে সৌদি বাদশাহ তাঁকে স্বাগত জানিয়ে বৈঠকের জন্য নির্ধারিত কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাঁরা একান্তে মতবিনিময় করেন। এরপর তাঁর সম্মানে আয়োজিত রাজকীয় মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, মধ্যাহ্নভোজের পর আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সৌদি আরবের পক্ষে অন্যান্যের মধ্যে রিয়াদের গভর্নর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বাদশাহর পরামর্শক সভার প্রতিমন্ত্রী, রয়াল কোর্টের উপদেষ্টা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের শুরুতেই বাদশাহ আমাকে স্বাগত জানান। তিনি সৌদি আরবকে আমার দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এখানে আপনি সব সময়ের জন্য স্বাগত।
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভূতপূর্ব গতি সঞ্চারিত হওয়ায় বাদশাহ সন্তোষ প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌদি বাদশাহ আগামী দিনগুলোতে এ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার ধারা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন। বিশেষত বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংস্কৃৃতি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে দুদেশের সহযোগিতার সুযোগগুলো আরও কাজে লাগানোর ওপর প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাদশাহ বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এক পর্যায়ে তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা রক্ষায় আগামীতে শেখ হাসিনা সরকারের ধারাবাহিকতার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, তিনি এ সময় সৌদি আরবের বাদশাহকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে তিনি তা সাদরে গ্রহণ করেন এবং নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একইদিন সন্ধ্যায় তিনি সৌদি আরবের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আব্দুল আজিজের সঙ্গে বৈঠক করেন। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সেই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সৌদি আরবের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বাদশার পরামর্শক সভার প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী, রয়াল কোর্টের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত উপদেষ্টাসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশেষত খাদ্য নিরাপত্তা, আবাসন, শিক্ষা, দারিদ্র্যদূরীকরণের ক্ষেত্রে আমার সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয় তুলে ধরি। এতে বাংলাদেশের উন্নয়নে সৌদি যুবরাজ অংশীদার হওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি বাংলাদেশে আরও অধিক পরিমাণে সৌদি বিনিয়োগের আহ্বান জানাই। এ পর্যায়ে সৌদি যুবরাজ বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এ লক্ষ্যে তিনি আগামী দু’মাসের মধ্যে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে পাঠাবেন বলে জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, সৌদি আরবের সীমান্ত এলাকায় মাইন অপসারণ, প্রশিক্ষণ ও সামরিক এলাকায় নির্মাণকাজে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের আগ্রহের কথা যুবরাজকে অবহিত করলে তিনি এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানান।
প্রধানমন্ত্রী এসময় সৌদি যুবরাজকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে তিনি তা গ্রহণ করেন এবং দুদেশের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
দুই.
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মন্ত্রিসভার আকারে বড় কোনো পরিবর্তন নাও আনা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচনের আগে কবে নাগাদ মন্ত্রিসভা ছোট হতে পারে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাকে যে ছোট করব সেটাই খুঁজে পাচ্ছি না।
প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফর নিয়ে তথ্য জানাতে এ সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করা হলেও প্রশ্নোত্তর পর্বে দেশের সমসাময়িক রাজনীতিসহ নানা প্রসঙ্গ উঠে আসে।
গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গড়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে খুনি, দুর্নীতিবাজ, যুদ্ধাপরাধী, অগ্নিসন্ত্রাসীসহ স্বার্থান্বেষী মহলের ঐক্য বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।
নির্ধারিত সময় বিকেল ৪টায় সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শুরুতে সৌদি আরব সফরের নানা বিষয় তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। পরে প্রায় এক ঘণ্টা সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী আগামী নির্বাচন, সড়ক দুর্ঘটনা, সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের কটূক্তির প্রসঙ্গসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন।
ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের কটূক্তি প্রসঙ্গে নারীদের উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা প্রতিবাদ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যা করার করবে। আপনারা মামলা করেন আমরা যা করার করব।…আমাদের সব নারী সংগঠন প্রতিবাদ করবে।
আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কারো কারো সংশয় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এখানে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন, তারা স্বাধীনভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে যারা সংশয় প্রকাশ করতে চাচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য কী? তারা চায় না গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা হোক। এতে তাদের কিছু সুযোগ হয়, তাই তো? এ দেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, ষড়যন্ত্র চলবে, ষড়যন্ত্র থাকবে। কিন্তু এর মধ্যেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এর মধ্যে ষড়যন্ত্র তো কম হয়নি। পারছি কারণ আমি জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করি।…অবশ্যই এ দেশে যাতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আমরা একটি নির্বাচনে সফল হব। নির্বাচন কমিশন যখন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে তখনই নির্বাচন হবে। সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার শক্তি আওয়ামী লীগের আছে।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ড. কামাল হোসেন ঐক্যটা কাদের সঙ্গে করেছেন! দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার আসামি, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িতরা, মানি লন্ডারিংয়ে যুক্ত, যা বিদেশের আদালতে প্রমাণ হয়েছে, এতিমের অর্থ আত্মসাৎকারী, যুদ্ধাপরাধী, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন, আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে সেই হত্যাকারীরা সব এক হয়েছে। খুনি, যুদ্ধাপরাধী, দুর্নীতিবাজ, অগ্নি-সন্ত্রাসীরা যেখানে এক হয়েছে সেখানে রাজনীতিটা কোথায়? আমি তো দেখতে পাচ্ছি না। আমি তো দেখতে পাচ্ছি এখানে সব স্বার্থান্বেষী মহল এক হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, এই খুনিদের সঙ্গে, যারা আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করেছে, এটা তো দিবালোকের মতো সত্য। এটা তো কেউ লুকাতে পারবে না। সেই খুনিদের নেতৃত্বে, দুর্নীতিতে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে তার নেতৃত্বে ড. কামাল হোসেন গং ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এখানে আমার তো কিছু বলার নেই। বাংলাদেশের মানুষই তাদের বিচার করবে।
ঐক্যফ্রন্ট সংলাপের জন্য চিঠি দিলে তাতে সাড়া দেয়ার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখনো তো চিঠি পাইনি। চিঠি না পেলে মনোভাব কিভাবে জানাব!
ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আগে তো ৪ দফা ছিল এখন ৭ দফা। আমি অপেক্ষা করে আছি তাদের দফাটা কতদূর যায়। তারপর আমি আমার বক্তব্য দেব।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, তারা যদি ঐক্যবদ্ধ হতে পারে, সবাই মিলে যদি রাজনৈতিকভাবে সফলতা পায় তাতে অসুবিধাটা কিসের? তবে একটু খেয়াল করা দরকার, কারা কারা এক হচ্ছে। সেটা একটু খুঁজে দেখবেন। যারা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে তারা কে কোন ধরনের, কে কোন চরিত্রের, কার কী ভূমিকা, তাদের বাচনিক ভঙ্গি, এমনকি মেয়েদের প্রতি কী ধরনের কটূক্তি করার প্রতিযোগিতা তা তো আপনারা দেখেছেন। এই যে এ গাছের ছাল ও গাছের বাকল সব মিলে যে এক হয়েছে তারা ভালো করুকÑ এটাই আমরা চাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা নিয়ে আওয়ামী লীগের কোনো দুশ্চিন্তা নেই। বরং এটা ভালো হয়েছে। এখানে স্বাধীনতাবিরোধী আছে, এখানে জাতির পিতার হত্যাকারীদের মদদদাতা যারা খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিল তারা, এমনকি যারা জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছিল, যারা বাংলাদেশকে পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছিল তারা আছে। এ রকম সবাই মিলে কিন্তু একজোট হয়েছে। এমনকি জোটের এমনও সদস্য যারা আপনাদের এক নারী সাংবাদিককে এমন নোংরা কথা বলতে পারে তারা সব এক। তাদের জোট রাজনৈতিকভাবে যদি কিছু অর্জন করতে চায় করুক।…এরই মধ্যে অনেকেই তো একসময় আওয়ামী লীগ করেছে। তারা এখন আওয়ামী লীগ থেকে দূরে চলে গিয়ে জোট করেছে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে।…রাজনীতি করার স্বাধীনতা সবার আছে। এখন তো জরুরি অবস্থাও নেই, মার্শাল ল-ও নেই ।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালের আগে আমরা চেয়েছিলাম সব দল মিলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আন্দোলন করছিলেন, নির্বাচনে আসতে চাচ্ছিলেন না। সে জন্য আমরা বলেছিলাম আসেন, অসুবিধা নেই, যেকোনো মিনিস্ট্রি চাইলে দিয়ে দেব। সংসদে আমাদের দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি আছে। যাদের সংসদ সদস্য আছে তাদের প্রতিনিধি নিয়ে কিন্তু মন্ত্রিসভা গঠন করেছি। ইতোমধ্যে সেভাবেই কিন্তু মন্ত্রিসভা নিয়ে চলছি। এখন সকল প্রতিনিধি নিয়েই কিন্তু মন্ত্রিসভা রয়ে গেছে।