কলাম

সড়ক আরো সুশৃঙ্খল করতে পথচারীদের মধ্যে ট্রাফিক আইন বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে

প্রায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো ঢাকার সড়কেও ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে কেউ কেউ প্রাণ হারাচ্ছেন, আবার কাউকে বরণ করতে হচ্ছে পঙ্গুত্ব। গত জুলাইয়ে বাসচাপায় রাজধানীর শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দেখানো পথে কিছুদিন হাঁটা শুরুর পর আবারও চিরচেনা রূপ রাজধানীর সড়কে। বেড়েছে বাসের ওভারটেকিং, বন্ধ হয়নি পথচারীদের হাত দেখিয়ে রাস্তা পারাপার। শুধরায়নি কেউ, শৃঙ্খলা ফেরেনি রাজপথে। কোনো ধরনের সিগন্যাল কিংবা হাত না দেখিয়েই সড়কের মাঝের বিভক্তির গাছের ঝাড় থেকে হুটহাট নেমে রাস্তা পার হতে দেখা যায় পথচারীদের। আবার এটাও সত্য অনেক সড়কে নেই জেব্রা ক্রসিং, যেগুলোতে আছে সেগুলো ব্যবহার না করে মাঝ সড়ক দিয়ে পার হতে দেখা যায় পথচারীদের। এজন্য অবশ্য পথচারীরা দায়ী করেন প্রয়োজনীয় স্থানে ফুটওভার ব্রিজ, ওভারপাস ও জেব্রা ক্রসিং না থাকাকে। আবার অনেক সড়কে ফুটপাত থাকলেও দোকানের কারণে হাঁটার জায়গা নেই। সংশ্লিষ্টদের মতে, সড়কে চলাচলে চালক-পথচারী উভয়ের মনোযোগ সমান হওয়া জরুরি। পথচারীদের মধ্যে ট্রাফিক আইন বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, বর্তমান সড়ক ব্যবস্থাপনা পথচারীবান্ধব নয়। একে পথচারীবান্ধব করতে হলে করিডোরভিত্তিক সড়ক ব্যবস্থাপনা নির্মাণ করতে হবে। পথচারীর প্রয়োজন, পথচারীর স্বাচ্ছন্দ্য, যানবাহন ও পথচারীর সংখ্যা অনুযায়ী যেমন বাসস্টপ, যাত্রীছাউনি, অন্যান্য নাগরিক সুবিধা যেমন টয়লেট, পানি পানের জায়গা এবং প্রতিবন্ধী ও বৃদ্ধদের জন্য সেই উপযোগিতা সংযোজিত চলার ব্যবস্থাকে পথচারীবান্ধব বলা যাবে। এছাড়া কোনো সড়কে যদি গাড়ির চেয়ে পথচারী বেশি হয় তাহলে সেই সড়কে ফুটপাতের পরিমাণ গাড়ির চেয়ে বেশি হবেÑ এমন অনুপাতে ফুটপাত ও সড়ক তৈরি করতে হবে। সড়ক পথচারীবান্ধব করতে হলে এ কাজগুলো নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর বাসের বেপরোয়া চলাচল অনেকটা কমে এসেছিল। বর্তমানে তা আবারও বেড়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সড়ক নিরাপদ রাখতে বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দেয়া হয়। তবে এগুলোর কোনোটিই মানছেন না বাসচালক-মালিক ও পথচারীরা। বাসচালক ও মালিকরা দুষছেন পথচারীদের, আবার পথচারীরা দুষছেন বাসচালক ও মালিককে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে আমাদের সময় লাগবে। কেননা আমাদের চালক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গলদ রয়েছে, ফিটনেস প্রক্রিয়ায় গলদ রয়েছে। নিরাপদ পরিবহনের জন্য তিনটা অর্গান রয়েছে। নিরাপদ চালক, নিরাপদ যানবাহন এবং নিরাপদ রাস্তাÑ মোটা দাগে এ তিন জায়গায় আমাদের গলদ রয়েছে। এই গলদ যতদিন পর্যন্ত সংশোধন না করা হবে এবং পথচারীরা ট্রাফিক আইন বিষয়ে সচেতন না হবেন, ততদিন সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না।