প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সক্রিয় তৎপরতায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিপণ্য ওষুধ শিল্পের বিকাশ ও গুণগত মান ক্রমেই বাড়ছে

বিশেষ প্রতিবেদক : দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিশ্বের ১৪৫টি দেশে বাংলাদেশের উৎপাদিত ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। বাংলাদেশি ওষুধের গুণগত মান ও চাহিদার কারণে ওষুধ শিল্পের বাজার ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে। আর এজন্য বেসরকারি উদ্যোক্তাদের অবদান এবং সরকার তথা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পৃষ্ঠপোষকতা, যথাযথ কর্মকৌশল নির্ধারণ ও তদারকির জন্য এ সেক্টরের সুনাম ও বিস্তৃতি বেড়েছে বহুগুণ। তারপরও জনবল সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি স্বার্থান্বেষী মহলের হীন চক্রান্তের কারণে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ওষুধ শিল্পের জন্য ভেজাল ও নকল ওষুধ একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। অবশ্য আশার কথা হলো, ওষুধ শিল্পের গুণগত মান ও সুনাম বজায় রাখার স্বার্থে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর নিয়মিতই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে ভেজাল ও নকল ওষুধবিরোধী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এ ধরনের অভিযানে দেখা যায় দোকানে বিক্রয়যোগ্য নয় এমন ফিজিশিয়ান স্যাম্পল, রেজিস্ট্রেশনবিহীন বিদেশি ওষুধ ও দেশীয় স্বনামধন্য বহুল প্রচলিত ওষুধের নকল ওষুধ বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করা হয়। ড্রাগ লাইসেন্সবিহীনভাবে এবং ফার্মাসিস্টের উপস্থিতি ছাড়াই ওষুধ ব্যবসা করতে দেখা যায় অহরহই।
এসব কারণে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সরকার তথা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর নতুন করে সাধারণ মানের ড্রাগ লাইসেন্স না দিয়ে মডেল ফার্মেসি চালু করার লাইসেন্স দিচ্ছে। সারাদেশে ইতোমধ্যে সাড়ে ৮ হাজার মডেল ফার্মেসি ও মডেল মেডিসিন শপ চালু করা হয়েছে। এ নিয়ে সারাদেশে অনুমোদনপ্রাপ্ত ড্রাগ লাইসেন্সের সংখ্যা ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৪৪৫টি। এর বাইরেও যথাযথ অনুমোদন না নিয়ে সারাদেশের অলিগলিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য ফার্মেসি। অভিযোগ রয়েছে, এসব অননুমোদিত ওষুধের দোকানেই বেশি চলে ভেজাল ও নকল ওষুধের কারবার। কারণ সমাজ বা রাষ্ট্রের প্রতি তাদের তেমন কোনো দায়বদ্ধতা নেই।
এ প্রসঙ্গে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনবল সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ভেজাল ওষুধ ও অননুমোদিত ফার্মেসির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হয়ে থাকে; যা তাদের রুটিন কাজের অংশ।
ভেজাল ও নকল ওষুধবিরোধী অভিযান বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সবসময়ই সোচ্চার। তার স্পষ্ট কথা হলো মানসম্পন্ন ওষুধের জন্য নজরদারি বাড়াতে হবে এবং এর জন্য অভিযান চলমান রাখলে ওষুধে ভেজাল দেয়ার প্রবণতা কমবে।
একই বিষয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্য আরো স্পষ্ট। তিনি স্বদেশ খবরকে বলেন, ওষুধের গুণগত মান ঠিক রাখতে ভেজালবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে এবং এ অভিযান পরিচালনাকালে কাউকেই কোনোরূপ ছাড় দেয়া হবে না।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ওষুধ শিল্পের বিকাশ ও ওষুধের গুণগত মানরক্ষার্থে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি আরো কিছু কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে চলেছে।
সরকার তথা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সময়োপযোগী ও কার্যকর নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের বিকাশ ও ওষুধের গুণগত মান ক্রমেই বাড়ছে। এ সংক্রান্ত একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা স্বদেশ খবর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:
১. ১৯৭৪ সালে ঔষধ প্রশাসন পরিদপ্তর গঠিত হয়, যাকে ২০১০ সালে বর্তমান সরকার ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে রূপান্তরিত করে।
২. এ সেক্টরের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওষুধ শিল্পকে প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার-২০১৮ ঘোষণা করেছেন।
৩. ওষুধ রপ্তানি ২০১০ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে ৩৭৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে উন্নত বিশ্বসহ পৃথিবীর ১৪৫টি দেশে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। ২০১৭ সালে ৩ হাজার ১৯৬ কোটি টাকার ওষুধের কাঁচামাল রপ্তানি করা হয়েছে।
৪. ওষুধের রপ্তানি বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। যেমন বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সাথে যৌথভাবে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যালস মেলা, সেমিনারের উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং বাংলাদেশের ওষুধ প্রোমোট করা হচ্ছে।
৫. ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ২০০ একর জায়গায় এপিআই পার্ক নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। পার্কে ৪৪টি প্লট বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। এপিআই পার্কটি সম্পূর্ণরূপে চালু হলে ওষুধের কাঁচামাল দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এটি বর্তমান সরকারের একটি বড় ইতিবাচক উদ্যোগ।
৬. সরকার ওষুধ ও কাঁচামাল রপ্তানিকে প্রণোদনা দেয়ার জন্য কাঁচামাল রপ্তানিতে ২০% ক্যাশ ইনসেন্টিভ এবং ফিনিশ্ড প্রোডাক্ট রপ্তানিতে ১০% ক্যাশ ইনসেন্টিভ ঘোষণা করেছে।
৭. সরকার ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে শক্তিশালী করে একে আন্তর্জাতিক মানের ড্রাগ রেগুলেটরি অথরিটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
৮. ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ডঐঙ-এর চৎবয়ঁধষরভরপধঃরড়হ পাওয়ার জন্য কাজ করেছে। সরকার ঔষধ প্রশাসনের নতুন ভবন নির্মাণ, ল্যাবরেটরিতে ৬২টি নতুন পদ অনুমোদন এবং ঔষধ প্রশাসনের ৯ ফাংশনকে অ্যাড্রেস করে নতুন অর্গানোগ্রাম অনুমোদন করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কর্মসম্পাদন প্রায় সমাপ্ত, শিগগিরই ডঐঙ এর চৎবয়ঁধষরভরপধঃরড়হ পাওয়া যাবে।
৯. ঘঈখ কে ধপপৎবফরঃবফ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ইধহমষধফবংয অপপৎবফরঃধঃরড়হ ইড়ধৎফ (ইঅই) কর্তৃক ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ সালে ন্যাশনাল কন্ট্রোল ল্যাবরেটরি, ঢাকা অপপৎবফরঃধঃরড়হ অর্জন করেছে এবং সম্প্রতি অসবৎরপধহ ঘধঃরড়হধষ অপপৎবফরঃধঃরড়হ ইড়ধৎফ অর্জন করেছে; অর্থাৎ ওঝঙ ১৭০২৫ সনদ অর্জন করেছে। ফলে ঘঈখ তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের গ্রহণযোগ্যতা আন্তর্জাতিক পরিম-লে বৃদ্ধি পেয়েছে।
১০. জেনেভায় বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বার্ষিক সভায় ডিজিডিএকে দ্রুত চৎবয়ঁধষরভরবফ করার জন্য এবং বাংলাদেশের উৎপাদিত আন্তর্জাতিক মানের ভ্যাক্সিন বিদেশে রপ্তানি ও টঘ ঙৎমধহরুধঃরড়হ কর্তৃক ক্রয় করার জন্য আহ্বান করা হয়েছে।
১১. বর্তমান সরকারের সময়ে মেডিকেল ডিভাইস গাইডলাইন অনুমোদিত হয়েছে। মেডিকেল ডিভাইস গাইডলাইন অনুযায়ী আমদানিকৃত মেডিকেল ডিভাইসকে ৪টি ক্যাটাগরিতে (অ, ই, ঈ, উ) ভাগ করে রেজিস্ট্রেশন প্রদান করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ১ হাজার ২২৯টি আমদানিকৃত মেডিকেল ডিভাইসের রেজিস্ট্রেশন প্রদান করা হয়েছে। মেডিকেল ডিভাইসের রেজিস্ট্রেশন প্রদানের পাশাপাশি মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কার্ডিয়াক স্টেন্ট, ইন্ট্রাওকুলার লেন্স, হার্ট রিং, রিং অ্যাক্সেসরিজ, মঁরফব রিৎব পধঃযবঃবৎ, হার্ট ভাল্ব, পেসমেকার, এয়ার রিং-এর মূল্য নির্ধারণপূর্বক মোড়কে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরআই) মুদ্রিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে, হাসপাতালসমূহে মূল্যতালিকা ঝুলানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। এতে করে জনগণ সুলভ মূল্যে মেডিকেল ডিভাইসসমূহ ক্রয় করতে পারছে।
১২. মডেল ফার্মেসি : ফার্মেসি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে উন্নত বিশ্বের আদলে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টের তত্ত্বাবধানে মডেল ফার্মেসি স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক মডেল ফার্মেসির গাইড লাইন অনুমোদন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ২১টি জেলায় ২১৬টি মডেল ফার্মেসি এবং ১৮০টি মডেল মেডিসিন শপ উদ্বোধন করা হয়েছে। তাছাড়া ৩৯৬টি মডেল ফার্মেসি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য এ পর্যন্ত ৫টি জেলায় মডেল ফার্মেসি উদ্বোধন করা হয়েছে, জনগণ মডেল ফার্মেসি হতে ভালো মানের ওষুধ এবং ফার্মেসি সেবা পাচ্ছেন।
১৩. ইতোমধ্যে সরকার ড্রাগ পলিসি-২০১৬ অনুমোদন করছে।
১৪. সরকার বায়োলজিক্যাল ড্রাগ সুষ্ঠুভাবে রেজিস্ট্রেশনের জন্য বায়োসিমিলার গাইড লাইন-২০১৮ অনুমোদন করেছে।
১৫. জধঃরড়হধষ টংব ড়ভ অহঃরনরড়ঃরপং ঢ়ৎড়সড়ঃব করা হচ্ছে। অহঃরনরড়ঃরপ নিয়ন্ত্রণের জন্য ঈউউঊঋ এর সহযোগিতায় এঅজঋ ইধহমষধফবংয গঠন করা হয়েছে। যার জন্য পোস্টার, লিফলেট, স্লোগান যেমন ‘ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া এন্টিবায়োটিক খাবেন না’, ‘পূর্ণ কোর্স এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করবেন’ ইত্যাদি প্রচার ও বিতরণ করা হয়েছে। অতি সামান্য রোগে হায়ার এন্টিবায়োটিকের ব্যবহারে এন্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্ট সৃষ্টি যেন না হয় এ জন্য কোলেসটিনজাতীয় এন্টিবায়োটিক বাতিলের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
১৬. ওষুধের ংধভবঃু ও বভভরপধপু নিশ্চিত করার জন্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল গাইড লাইন (এঈচ এঁরফবষরহব) তৈরি ও অনুমোদন করা হয়েছে। ২৮টি প্রটোকল ও ৭টি ঈজঙ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। জেনেরিক ড্রাগস-এর বায়োইকুভ্যালেন্স স্টাডি ও ভ্যাক্সিন এবং বায়োসিমিলার ড্রাগস-এর কমপারেবিলিটি স্টাডিসহ অন্যান্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদন দেয়া হচ্ছে। দেশে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
১৭. ওষুধের বিরূপ প্রতিক্রিয়া রিপোর্টিং, নকল ওষুধ ও নির্ধারিত মূল্যের অধিক মূল্যে বিক্রয়ের বিষয়ে অনলাইনভিত্তিক অভিযোগ দাখিলের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের সহযোগিতায় মোবাইল অ্যাপস ‘উৎঁম অফসরহ’ তৈরি করা হয়েছে।
১৮. জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সরকার অনেক উদ্যোগ নিচ্ছে; যেমন সিউডোইফিড্রিন জাতীয় ওষুধ হতে ইয়াবা তৈরির সম্ভাবনা থাকে বিধায় বাংলাদেশে সিউডোইফিড্রিন জাতীয় ওষুধ বাতিল করা হয়েছে।
১৯. ফার্মাকোভিজিল্যান্স মনিটরিংয়ের জন্য বাংলাদেশ ডঐঙ টঢ়ঢ়ংধষধ গড়হরঃড়ৎরহম ঈবহঃবৎ-এর ১২০তম পূর্ণ সদস্যপদ অর্জন করেছে। ফার্মাকোভিজিল্যান্স গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে। ৩২টি হাসপাতাল ও ৩০টি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অনলাইনে অউজ ৎবঢ়ড়ৎঃ ঘধঃরড়হধষ অউজ সেলে জমা দিচ্ছে। রিপোর্টগুলোর পধংঁধষঃু ধংংবংং করে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ারমরভষড়ি তে রিপোর্টগুলো আপলোড করা হচ্ছে।
ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ফার্মাকোভিজিল্যান্স কর্মকা- চালু করতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে এবং প্রতিটি কোম্পানিতে একজন পিভি ম্যানেজারের মাধ্যমে কর্মকা- চালু করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং সকল ওষুধ কোম্পানিকে এডিআর রিপোর্ট নিয়মিত ঔষধ প্রশাসনে জমা দেয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
২০. মাঠ পর্যায়ের ফার্মেসি হতে দ্রুত নকল ভেজাল ওষুধ শনাক্তকরণের জন্য টঝচ-এর সহযোগিতায় ৬টি সরহর ষধন সংগৃহীত হয়েছে।
২১. ট্র্যাডিশনাল মেডিসিনের মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
২২. ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশের মাঠ পর্যায়ের কর্মকা- সম্পর্কে অনলাইন রিপোর্টিং ও মনিটরিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
২৩. রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমকে ংঃধহফধৎফরুবফ ও ঐধৎসড়হরুবফ করার জন্য ফার্মাডেস্ক সফটওয়ারের মাধ্যমে ঈঞউ ফরম্যাট অনলাইনে ওষুধের রেজিস্ট্রেশন আবেদন গ্রহণ, মূল্যায়ন অনুমোদন করার কাজ করা হয়েছে এবং ৩টি ঢ়ৎড়ফঁপঃ ঈঞউ ভড়ৎসধঃ এ ৎবমরংঃৎধঃরড়হ দেয়া হয়েছে।
২৪. ওষুধের মার্কেটিং অথরাইজেশন সনদ প্রদান চালু করা হয়েছে।
২৫. জনগণের নিকট স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে প্রতি মাসে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে; যা বর্তমান সরকারের শুদ্ধাচারের একটি কর্মপরিকল্পনা।
তাছাড়া ওষুধ শিল্পের গুণগত মান বজায় রাখার স্বার্থে এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংস্থার কর্মকর্তাদের সম্পাদিত কর্মকা-ের মাসিক ও ত্রৈমাসিক বিবরণী সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তার নিকট মনিটরিং করার নিমিত্তে উপস্থাপন করতে হয়। এতে করে এ খাতের প্রকৃত চিত্র এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মকা-ের সার্বিক চিত্রও একনজরে ফুটে ওঠে; যা পর্যালোচনা করে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা ঠিক করা হয়ে থাকে।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান ওষুধ শিল্পের সমস্যা ও সম্ভাবনা এবং সংস্থার কর্মকা- সম্পর্কে আলাপকালে স্বদেশ খবর প্রতিবেদককে তাঁদের রুটিন কর্মকা-ের খ-চিত্র তুলে ধরে কাজের একটি ধারণা দেন। সাধারণ পাঠকের ধারণার জন্য নিচে তা সংক্ষিপ্তাকারে তুলে ধরা হলো:
মাসিক কার্যবিবরণী: অক্টোবর ২০১৮
মোট ড্রাগ লাইসেন্স সংখ্যা: ১২৭৪৪৫টি।
নতুন লাইসেন্স ইস্যুর সংখ্যা: ৭৮৭টি।
লাইসেন্স নবায়নের সংখ্যা: ২৯৭০টি।
খুচরা ড্রাগ লাইসেন্সের ঠিকানা পরিবর্তন: ১১টি।
টেস্টের জন্য প্রেরিত নমুনার সংখ্যা: ৪০টি।
প্রাপ্ত টেস্ট রিপোর্টের সংখ্যা: ০টি।
ড্রাগ কোর্টে মামলা দায়েরের সংখ্যা: ০টি।
ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা দায়ের: ২টি (বগুড়া)।
মোবাইল কোর্টে মামলা দায়েরের সংখ্যা: ১৪৯টি।
মোবাইল কোর্টে জরিমানা: ৬২৯৪৩০০ টাকা।
জব্দকৃত ওষুধের আনুমানিক মূল্য: ১৪২২৯৬২ টাকা।
কারাদ- প্রদান: ৩ জন (ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল)।
ফার্মেসি পরিদর্শন করেনি: বান্দরবান, কক্সবাজার।
পরিদর্শনকৃত ওষুধের দোকানের সংখ্যা: ৫২৩৩টি।
পরিদর্শনকৃত ওষুধ প্রস্তুতকারী কারখানার সংখ্যা: ৮৫টি।
রাজস্ব প্রাপ্তির বিবরণ: ১৭৫৬৭১৬৯ টাকা।
রিপোর্ট সন্তোষজনক: নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও বগুড়া।
রিপোর্ট অসন্তোষজনক: বান্দরবান, বরিশাল, কক্সবাজার, নাটোর ও শেরপুর।
ঢাকা প্রধান কার্যালয়
মোবাইল কোর্টে মামলা দায়ের: ৫টি।
মোবাইল কোর্টে জরিমানা: ৫০,০০,০০০ টাকা।
পরিদর্শনকৃত ফার্মেসির সংখ্যা: ২২টি।
শনাক্তকৃত লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসির সংখ্যা: ১টি।
লাইসেন্স নবায়ন: ১৬টি।
নতুন লাইসেন্স ইস্যুর সংখ্যা: ১৩টি।
ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়
পরিদর্শনকৃত ওষুধের দোকানের সংখ্যা: ০টি।
কারখানা পরিদর্শন: ০টি।
নমুনা উত্তোলন: ০টি।
মোবাইল কোর্টে মামলা দায়ের: ০টি।
মোবাইল কোর্টে জরিমানা: ০টি।
শনাক্তকৃত লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসির সংখ্যা: ০টি।
শনাক্তকৃত অনবায়িত লাইসেন্স সংখ্যা: ০টি।

শেষ কথা
বর্তমান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ততা এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতার কারণে আমাদের ওষুধ শিল্প এখন দেশের গ-ি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে, মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা আনয়নের পাশাপাশি দেশে বিপুলসংখ্যক লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। মনে রাখা প্রয়োজন যে, ইতোমধ্যে ওষুধ বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে নিতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের সীমিতসংখ্যক রপ্তানি পণ্যের মধ্যে তৈরী পোশাকের পরই দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি পণ্য হিসেবে স্থান দখল করেছে ওষুধ। এ খাতের সম্ভাবনা দিন দিনই উজ্জ্বল হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান স্বদেশ খবরকে বলেন, ২০১০ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে ওষুধ রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে ৩৭৫ গুণ। তিনি বলেন, এ খাতে সরকারের সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকলে সেদিন আর বেশি দূরে নয়, যেদিন বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প পোশাকশিল্পকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।